সম্প্রীতি: শিল্প, সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধনে ভারত-বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৮:০০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে
সম্প্রীতি: শিল্প, সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধনে ভারত-বাংলাদেশ: চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা
ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের উদ্যোগে গুলশানের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (আইজিসিসিতে) সম্প্রীতি শীর্ষক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই প্রদর্শনীটি ১০-১১ এপ্রিল সম্প্রীতি আর্ট ক্যাম্পের ধারাবাহিকতায় আয়োজন করা হয়।
ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদ (আইসিসিআর)-এর ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এই আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।
১৯৫০ সালের ৯ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে শিল্প, শিক্ষা, সঙ্গীত, সাহিত্য ও একাডেমিক বিনিময়ের মাধ্যমে ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন রচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে এবং পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করেছে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর ১৬৫তম জন্মবার্ষিকীর দিনে। তাঁর কালজয়ী সাহিত্য ও শিল্পভাবনা আজও বিশ্বের বিভিন্ন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা, অধ্যাপক রফিকুন নবী, শিল্পী মনিরুল ইসলাম,অধ্যাপক ফরিদা জামান এবং অধ্যাপক আব্দু সাত্তার প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য প্রদানকালে হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত ও বাংলাদেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তাঁর সৃজনশীলতা, মানবতাবাদ ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির আদর্শ আজও দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সমৃদ্ধ করছে।
প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে দুই দিনব্যাপী আর্ট ক্যাম্পে সৃষ্ট ৩৩ জন বিশিষ্ট সমকালীন বাংলাদেশি শিল্পী ও আইসিসিআর স্কলারদের শিল্পকর্ম।
অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন রফিকুন নবী, মনিরুল ইসলাম, আবদুস শাকুর, আবদুস সাত্তার, ফরিদা জামান, রঞ্জিত দাস, জামাল আহমেদ, নাঈমা হকসহ আরও অনেক খ্যাতিমান শিল্পী।
সম্প্রীতি প্রদর্শনীটি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সৌহার্দ্য, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং শিল্পকলাভিত্তিক সহযোগিতার প্রতীক হিসেবে আয়োজিত হয়েছে।

সম্প্রীতি আর্ট ক্যাম্প ও প্রদর্শনীর কিউরেটর ছিলেন সঞ্জয় চক্রবর্তী, যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক।
প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের মাননীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা। তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অনন্য এবং তা অভিন্ন ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি ও জনগণের গভীর পারস্পরিক যোগাযোগের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিল্প এমন এক শক্তিশালী মাধ্যম, যা সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে সংলাপ, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরি করে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গভীর করে তোলে।
হাইকমিশনার এ সময় প্রয়াত শিল্পী ও আইসিসিআর স্কলার তরুণ ঘোষ-এর প্রতিও শ্রদ্ধা জানান, যিনি গত এপ্রিল মাসে পরলোকগমন করেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রদর্শনীতে তাঁর একটি শিল্পকর্ম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জ্যেষ্ঠ শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী ও মনিরুল ইসলাম আশা প্রকাশ করেন যে, সম্প্রীতি ভবিষ্যতে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে আরও শিল্পী বিনিময় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই প্রদর্শনীটি দৃশ্যশিল্পের মাধ্যমে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব সুদৃঢ় করতে আইজিসিসি ও ভারতীয় হাইকমিশন, ঢাকার অব্যাহত অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
সন্ধ্যাটি আরও সুরময় হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অধ্যাপক শাহনাজ নাসরিন ইলা -এর পরিবেশিত রবীন্দ্রসঙ্গীতের মাধ্যমে।
প্রদর্শনীটি ৮ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ঢাকার গুলশানে অবস্থিত আইজিসিসিতে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

















