শিলাবৃষ্টির আতঙ্কে ধর্মপাশা-মধ্যনগরের কৃষক, ফসল রক্ষায় দুশ্চিন্তা বাড়ছে
- আপডেট সময় : ০৩:০৭:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলায় টানা কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় হাওরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ অঞ্চলে শিলাবৃষ্টির প্রকোপ কিছুটা বেশি হওয়ায় বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা।
গত রোববার দুপুরের পর হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রাতে কয়েক দফায় শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে শিলা, বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকায় দুই উপজেলার বিভিন্ন হাওরের ফসল ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশেষ করে ধানের শিষ বের হওয়ার এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শিলার আঘাত উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে দুই উপজেলার প্রায় ৮০টি হাওরে ৩১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। আর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই কৃষকরা ফসল ঘরে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি ও সম্ভাব্য পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কায় ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

ধর্মপাশার ধারাম হাওরের কৃষক ইকবাল হোসেন বলেন, ধানে এখন শিষ আসছে। এ সময় শিলাবৃষ্টি হলে ধানের গর্ভাশয়ে আঘাত লেগে ফলন কমে যেতে পারে। অন্যদিকে মধ্যনগরের হলদি হাওরের কৃষক আবুল মিয়া জানান, বড় আকারের শিলা ধানের শিষ নষ্ট করে দিতে পারে এবং ইতোমধ্যে কিছু ঘরবাড়িরও ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে সুরেশ্বরী নদীর পানিও বাড়তে শুরু করায় পাহাড়ি ঢলের শঙ্কা আরও বাড়ছে। এতে ফসল রক্ষা বাঁধ টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশয়াদ বিন খলিল রাহাত জানান, এখনো বড় ধরনের ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে শিলাবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। তিনি কৃষকদের দ্রুত বাঁধ মজবুত করা, জমিতে পানি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ফসল রক্ষায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।



















