চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের হত্যার ফরমান নিয়ে দিনযাপন করছেন, জুলাই যোদ্ধা আমিরুল
- আপডেট সময় : ০১:২০:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ১৭৫ বার পড়া হয়েছে
চোখে-মুখে আতঙ্কের ছাপ! চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে মাথায় হত্যার ফরমান নিয়ে দিনযাপন করছেন, জুলাই যোদ্ধা আমিরুল ইসলাম। কপালে ও দেহের বিভিন্ন স্থানে জুলাই আন্দোলনকালে ফ্যাসিস্ট পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি বহনকারী আমিরুলের সংসার ভেঙ্গেছে, প্রাণনাশের মতো ভয়ঙ্কর ফরমান এখন তার ছায়া সঙ্গী।
বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলনে এসে ভীত চোখে এমন অভিযোগই তুলে ধরেন আমিরুল ইসলাম। ‘গ’ শ্রেণীর জুলাই যোদ্ধা এই আমিরুল লিখিত অভিযোগে বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রচন্ড রকমের অপ্রচার চলানো হচ্ছে।
তার অভিযোগ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসী চক্রের হুমকির মুখে আতঙ্ক নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন তিনি। জুলাই আন্দোলনে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত এই কর্মী দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।
আমিরুল ইসলাম জানান, ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি এবং দীর্ঘদিন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর এলাকায় ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণা চালানোর কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা তার কাছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পুলিশি হয়রানি শুরু হয় এবং এরপর থেকেই তাকে আত্মগোপনে থাকতে হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৪ মার্চ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুমন তার বাড়ি দখল করে নেয়। এ ঘটনায় তিনি স্থানীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ ও থানায় জিডি করেছিলেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আমিরুল বলেন, শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনসহ গত ১৭ বছরের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। বিভাগীয় গণসমাবেশ, তারুণ্যের সমাবেশ, রোড মার্চ এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতেও অংশ নেন।
জুলাই আন্দোলনের সময় ধউর বেড়িবাঁধ, উত্তরা ও মিরপুরে আন্দোলনে অংশ নিতে গিয়ে একাধিকবার পুলিশের গুলিতে আহত হন। তার দাবি, শরীরে এখনো ছররা গুলির স্প্লিন্টার বহন করছেন তিনি।
সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা প্রসঙ্গে আমিরুল বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, যেদিন তার বিরুদ্ধে রাতের বেলায় চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে, সেদিন তিনি বাসা থেকে বের হননি এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই সেটি প্রমাণ হবে।
অভিযোগকারীদের কয়েকজনকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলাকার প্লট ও ফ্ল্যাট মালিকদের নিয়ে গঠিত একটি সোসাইটিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে চাঁদাবাজ চক্রের স্বার্থে আঘাত লেগেছে। এ কারণেই তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেন তিনি।
আমিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।


















