সীমান্তে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১০:৫৮:১০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখেরও বেশি গবাদিপশু রয়েছে এবং সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু বেশি,
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহায় দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও মাংস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বজায় রাখতে সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ থেকে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি) কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও খামারিদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব এবং কাস্টমস বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
সরকার জানিয়েছে, দেশেই পর্যাপ্ত কোরবানির পশু প্রস্তুত রয়েছে। তাই অবৈধ পথে গবাদিপশু প্রবেশ রোধে সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখা হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে গবাদিপশু প্রবেশ রোধে বিজিবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসনকে কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ঘোষণা দেশের লাখো খামারি ও পশুপালনকারীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং আশাব্যঞ্জক বার্তা বহন করছে।
সরকার দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের প্রাণিসম্পদ খাতকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করতে সরকার অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
রোববার বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টার-এ অনুষ্ঠিত টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন: আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, বাজার সংযোগ ও ভ্যালু চেইন শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে আত্মনির্ভরশীল অবস্থানে পৌঁছেছে। দেশে প্রায় ১ কোটি ২৩ লাখেরও বেশি গবাদিপশু রয়েছে এবং সম্ভাব্য চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ পশু বেশি। ফলে বিদেশ থেকে গবাদিপশু আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই।

প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য দেশের খামারিদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতিফলন। প্রতিবছর কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পশু প্রবেশ করায় দেশীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন।
অনেক খামারি ঋণ নিয়ে গরু মোটাতাজাকরণ করলেও বাজারে কমদামে বিদেশি পশু প্রবেশের কারণে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সরকারের কঠোর নজরদারির এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং প্রাণিসম্পদ খাত আরও লাভজনক হয়ে উঠবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার শুধু অবৈধ পশু প্রবেশ বন্ধ করেই থেমে নেই; বরং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন, প্রাণিসম্পদের স্বাস্থ্যসেবা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের জন্য বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

কৃষক ও খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, সহজ ঋণ, প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং কৃষি কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে গ্রামের সাধারণ খামারিরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
বর্তমানে দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের অনেকেই প্রাণিসম্পদ খাতে বিনিয়োগ করছেন। গরু, ছাগল, ভেড়া ও ডেইরি খামার গড়ে তুলে তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছেন এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন।
সরকারের এই সহায়ক নীতিমালা তরুণ উদ্যোক্তাদের আরও উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং বেকারত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ এখন শুধু নিজেদের চাহিদা পূরণেই সক্ষম নয়, ভবিষ্যতে প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী শিল্পে পরিণত করারও বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উদ্বৃত্ত উৎপাদনকে সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশি প্রাণিজ পণ্যের চাহিদা সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য প্রয়োজন নিরাপদ উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা।

সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ শাহজামান খান-এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ রেজাউল করিম বাদশা এবং মোঃ দেলোয়ার হোসেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক, উদ্যোক্তা ও খামারিরা অংশগ্রহণ করেন এবং প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ রোধে সরকারের কঠোর অবস্থান দেশের খামারিদের জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।
এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশীয় উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে, খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন এবং প্রাণিসম্পদ খাত দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তিতে পরিণত হবে।
দেশের স্বার্থে এবং দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় সরকারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।


















