গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৪৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় আর কোনো মিথ্যার কাঠামোর ওপর দাঁড়াবে না। আমরা একটি সঠিক ডিজিটাল টিআরপি সিস্টেম এবং ডিজিটাল প্রিন্ট কাউন্টিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি।
মনগড়া সংখ্যার ভিত্তিতে আর কোনো রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপনের সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করা হবে না; যা বণ্টন হবে তা কেবল সত্য ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই হবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক সভ্যতার অন্যতম উপাদান গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার একটি স্বাধীন, দক্ষ ও শক্তিশালী কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে।
অতীতে সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল কেবল নিয়ন্ত্রণের, কিন্তু বর্তমান নির্বাচিত সরকার নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে একটি স্বাধীন আইনি কাঠামোর আওতায় গণমাধ্যমের সামগ্রিক শৃঙ্খলা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
আজ রোববার সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নবগঠিত ‘টেলিভিশন সম্পাদক পরিষদে’র আহ্বায়ক কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী হলে যেমন ভোটের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং রাষ্ট্র উপকৃত হয়, তেমনি একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হলে তার চূড়ান্ত সুফল পাবে জনগণ।
গণমাধ্যম জগতে সরকার নিজে যেমন একটি পক্ষ, তেমনি গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক ও সম্প্রচার কর্মীরাও অংশীদার। সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে সব পক্ষের জন্য একটি ‘ফেয়ার গেম প্লে’ বা সমঅধিকারের পরিবেশ নিশ্চিত করা।
আমরা কোনো ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো কমিশনকে প্রোপাগান্ডা বা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বানাতে চাই না।
গণমাধ্যমকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিল্প বা ইন্ডাস্ট্রি হিসেবে উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, অনেক সময় কর ফাঁকি দেয়া কিংবা অন্যত্র অবৈধ আয় পাহারা দেয়ার উদ্দেশ্যে গণমাধ্যমের মালিকানা নেয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, কোনো উদ্যোক্তা যদি তার প্রতিষ্ঠানে শ্রম আইন না মানেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওয়েজ বোর্ড বা নিয়মিত বেতন-ভাতা ও অবসরকালীন সুবিধা নিশ্চিত না করেন এবং ট্যাক্স-ভ্যাট বা ব্যালেন্স শিটে স্বচ্ছতা না রাখেন, তবে তার লাইসেন্স পাওয়ার বা তা নবায়নের কোনো অধিকার থাকবে না।
বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিগত গতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিগত ২৫ বছরে সভ্যতা ও প্রযুক্তির রূপান্তর এক লাফে ন্যানো টেকনোলজি ও আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই)-এর যুগে প্রবেশ করেছে। এআই মানুষের কর্মদক্ষতাকে কোটি গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ভিজ্যুয়াল বা টেলিভিশন মিডিয়ার প্রভাব এখন প্রিন্ট মিডিয়ার চেয়ে অনেক বেশি। এ গতির সাথে খাপ খাইয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রডকাস্টিং, সাউন্ড ও গ্রাফিক্স ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিভাজিত পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে রাষ্ট্র উদ্যোগ নেবে।
পত্রিকার সার্কুলেশন বা প্রচার সংখ্যা নিয়ে অসত্য তথ্যের কঠোর সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয় আর কোনো মিথ্যার কাঠামোর ওপর দাঁড়াবে না। আমরা একটি সঠিক ডিজিটাল টিআরপি সিস্টেম এবং ডিজিটাল প্রিন্ট কাউন্টিং ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি।
মনগড়া সংখ্যার ভিত্তিতে আর কোনো রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপনের সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করা হবে না; যা বণ্টন হবে তা কেবল সত্য ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতেই হবে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন মাসের কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সরাসরি সেবামূলক কাজের পাশাপাশি সরকার পলিসি বা নীতিগত সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিএনপির ৩১ দফা ইশতেহারের আলোকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের গত ৩০ থেকে ৩৫ বছরের পুরনো আইন ও নীতিমালার আমূল পরিবর্তন এনে একে আধুনিক ও কল্যাণমুখী করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে টেলিভিশন সম্পাদক পরিষদের আহ্বায়ক শহিদ আহমেদ এবং সদস্য সচিব জোবায়ের বাবুসহ পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র বিএসএস

















