ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজনৈতিক ব্যবহারের অবসান চায় সরকার, আসছে নতুন এলিট ফোর্স রাতে মদের আসরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, সকালে ধৃত ৩ ধর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ ৩ লাখ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের  হত্যার ফরমান নিয়ে দিনযাপন করছেন, জুলাই যোদ্ধা আমিরুল সীমান্তে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ: মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির নতুন বার্তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী পেট্রোবাংলার  চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত

রাজনৈতিক ব্যবহারের অবসান চায় সরকার, আসছে নতুন এলিট ফোর্স

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৪:০২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

রাজনৈতিক ব্যবহারের অবসান চায় সরকার, আসছে নতুন এলিট ফোর্স : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন একটি এলিট ফোর্স গঠনের উদ্যোগ ঘোষণার পর।

র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার বর্তমানে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ করছে, যার অধীনে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠন করা হবে।

তবে সেই বাহিনীর নাম র‌্যাবই থাকবে কিনা, নাকি সম্পূর্ণ নতুন নামে নতুন কোনো বাহিনী আত্মপ্রকাশ করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোমবার আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের আওতায় র‌্যাব পরিচালিত হলেও এটি মূলত একটি “এডহক” বা অস্থায়ী কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে এসেছে।

তার মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে পরিচালনা করা উপযুক্ত ছিল না। এজন্য সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আইনের আওতায় নতুন এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে বাহিনীর ক্ষমতা, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন আইনে বাহিনীর কার্যক্রমের সীমা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট থাকবে এবং সেই অনুযায়ী তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতের নানা বিতর্ক ও অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়েই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও এখনই পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করার সময় আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তার দাবি, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সেই বাস্তবতা থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি নতুন কাঠামোতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গড়ে তোলা যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু র‌্যাব নয়, পুলিশ, বিজিবি, এমনকি অন্যান্য বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী না করে যেসব কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে পুলিশ বা র‌্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। তার ভাষায়, “মর্নিং শোজ দ্য ডে”, অর্থাৎ শুরু থেকেই সরকারের আচরণে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে র‌্যাব গঠিত হয়। দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের সমন্বয়ে এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

বিশেষ করে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বহু হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাধিকবার র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়।

পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব ও এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকেই র‌্যাবের বিতর্কিত ‘ক্রসফায়ার’ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ওএইচসিএইচআর একটি প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।

একইসঙ্গে বিজিবিকে কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাকে সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

তবে এসব সুপারিশের পরও সরকার র‌্যাব পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে না গিয়ে নতুন কাঠামো ও আইনের আওতায় একটি আধুনিক এলিট ফোর্স গঠনের দিকেই এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ) রাখার আলোচনা হয়েছিল। এখন নতুন সরকারের উদ্যোগে সেই পরিকল্পনা নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বাহিনী গঠন করা হলে তার কার্যক্রম যেন আইন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে পরিচালিত হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি অতীতের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করাও নতুন উদ্যোগের অন্যতম প্রধান পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রাজনৈতিক ব্যবহারের অবসান চায় সরকার, আসছে নতুন এলিট ফোর্স

আপডেট সময় : ০৪:০২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামো ও কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন একটি এলিট ফোর্স গঠনের উদ্যোগ ঘোষণার পর।

র‌্যাবের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সরকার বর্তমানে একটি নতুন আইন প্রণয়নের কাজ করছে, যার অধীনে একটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গঠন করা হবে।

তবে সেই বাহিনীর নাম র‌্যাবই থাকবে কিনা, নাকি সম্পূর্ণ নতুন নামে নতুন কোনো বাহিনী আত্মপ্রকাশ করবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোমবার আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের আওতায় র‌্যাব পরিচালিত হলেও এটি মূলত একটি “এডহক” বা অস্থায়ী কাঠামোর মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়ে এসেছে।

তার মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাহিনীকে দীর্ঘ সময় ধরে এভাবে পরিচালনা করা উপযুক্ত ছিল না। এজন্য সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ আইনের আওতায় নতুন এলিট ফোর্স গঠনের পরিকল্পনা করছে, যেখানে বাহিনীর ক্ষমতা, দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন আইনে বাহিনীর কার্যক্রমের সীমা ও দায়িত্ব নির্দিষ্ট থাকবে এবং সেই অনুযায়ী তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি ইঙ্গিত দেন, অতীতের নানা বিতর্ক ও অভিযোগ থেকে শিক্ষা নিয়েই এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যদিও এখনই পুরো পরিকল্পনা প্রকাশ করার সময় আসেনি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কয়েকজন কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডের দায় পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

তার দাবি, অতীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিছু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহৃত হয়েছিল এবং সেই বাস্তবতা থেকেই আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, যদি নতুন কাঠামোতে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক এলিট ফোর্স গড়ে তোলা যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসনামলে শুধু র‌্যাব নয়, পুলিশ, বিজিবি, এমনকি অন্যান্য বাহিনীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পুরো প্রতিষ্ঠানকে দায়ী না করে যেসব কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িত ছিলেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।”

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবহার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক মাসে পুলিশ বা র‌্যাবকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়নি। তার ভাষায়, “মর্নিং শোজ দ্য ডে”, অর্থাৎ শুরু থেকেই সরকারের আচরণে ভবিষ্যতের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে র‌্যাব গঠিত হয়। দেশে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের সমন্বয়ে এই বাহিনী গঠন করা হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিভিন্ন সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে র‌্যাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাহিনীটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।

বিশেষ করে ‘ক্রসফায়ার’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে বহু হত্যাকাণ্ড নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একাধিকবার র‌্যাব বিলুপ্তির দাবি জানায়।

পরে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‌্যাব ও এর কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর থেকেই র‌্যাবের বিতর্কিত ‘ক্রসফায়ার’ কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় ওএইচসিএইচআর একটি প্রতিবেদনে র‌্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করে।

একইসঙ্গে বিজিবিকে কেবল সীমান্ত নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থাকে সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

তবে এসব সুপারিশের পরও সরকার র‌্যাব পুরোপুরি বিলুপ্তির পথে না গিয়ে নতুন কাঠামো ও আইনের আওতায় একটি আধুনিক এলিট ফোর্স গঠনের দিকেই এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ) রাখার আলোচনা হয়েছিল। এখন নতুন সরকারের উদ্যোগে সেই পরিকল্পনা নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন বাহিনী গঠন করা হলে তার কার্যক্রম যেন আইন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে পরিচালিত হয়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি অতীতের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করাও নতুন উদ্যোগের অন্যতম প্রধান পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।