ঢাকা ১১:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নৃশংস ৭ বছরের শিশুর হাত চেপে ধরেন স্ত্রী আঙ্গুল কাটেন পুলিশ  কনস্টেবল জাতিসংঘ সফর শেষে সচিবালয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, শুরু দাপ্তরিক কার্যক্রম জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত ১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান

১০ মাসের সর্বোচ্চে মূল্যস্ফীতি, চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

১০ মাসের সর্বোচ্চে মূল্যস্ফীতি, চাপে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে মূল্যস্ফীতি, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশে, যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।

রোববার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় নয় মাস পর মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘরে ফিরেছে। এর আগে গত বছরের মে মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৫ শতাংশ। তবে গত বছরের এপ্রিল মাসে ৯ দশমিক ১৭ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল, যা এখনো সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বিবিএসের তথ্য বলছে, টানা চার মাস ধরে দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্যপণ্যে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। বিশেষ করে খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলছে। টানা পাঁচ মাস ধরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ব্যয় আরও বেড়ে গেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি চলতে থাকলে মানুষের প্রকৃত আয় কমে যায়। কারণ আয় বা মজুরি বৃদ্ধির হার যদি মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম হয়, তাহলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পায়। বিবিএসের হিসাবে, ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ, যা মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম। ফলে সাধারণ মানুষের আয় বাড়লেও বাস্তবে তাদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে।

অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতিকে অনেক সময় এক ধরনের ‘অদৃশ্য কর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। কারণ পণ্যের দাম বেড়ে গেলে মানুষের একই আয় দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা সম্ভব হয় না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে যদি কোনো পরিবারের মাসিক খরচ ১০০ টাকা হয়, তাহলে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির কারণে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই পণ্য ও সেবা কিনতে তাদের প্রায় ১০৯ টাকা ১৩ পয়সা খরচ করতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকায় অতিরিক্ত প্রায় ৯ টাকা ১৩ পয়সা বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তিন বছরের বেশি সময় ধরে দেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। ২০২৫ সালে দেশের গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। দীর্ঘমেয়াদে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে মানুষের সঞ্চয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :