ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬ ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ভলিউম বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ,

যা অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে বেশি

উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেনি; বরং উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর এই ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) সম্প্রতি প্রকাশিত আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি তথ্যই রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওটেক্সার তথ্যমতে, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ছিল ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ যা ইঙ্গিত দেয়, মার্কিন ক্রেতারা এখন মূল্য ও গুণগত মানের বিষয়ে আরও বেশি সচেতন।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ভারতের ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে চীনের রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। ভলিউম বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে বেশি। যদিও এ ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ৩৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে।

শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি
শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি

তবে রপ্তানি বাড়লেও দামের চাপ থেকে মুক্ত নন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। একমাত্র ভারত ছাড়া প্রায় সব প্রতিযোগী দেশেরই ইউনিট মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজার যখন প্রায় স্থবির, সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই প্রবৃদ্ধি শুধু বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিক ও বাজার আস্থার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। শুল্ক ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান যে আরও দৃঢ় হচ্ছে, এ পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত দেয়।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের একক দাম (ইউনিট প্রাইস) সামান্য কমেছে। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির প্রতিফলন হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।

শিল্প পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে হলে কেবল কম দামের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সামনের দিনগুলোতে মার্কিন বাজারে টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি

আপডেট সময় : ১১:৫৯:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

ভলিউম বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ,

যা অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে বেশি

উচ্চ শুল্ক আরোপের পরও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেনি; বরং উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর এই ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৮ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।

মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) সম্প্রতি প্রকাশিত আমদানি তথ্য বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি তথ্যই রপ্তানিকারক দেশগুলোর রপ্তানি হিসেবে বিবেচিত হয়।

ওটেক্সার তথ্যমতে, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ছিল ৬৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ কম। একই সঙ্গে আমদানির পরিমাণ (ভলিউম) কমেছে ২ দশমিক ২৪ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য বেড়েছে ১ দশমিক ৬৭ শতাংশ যা ইঙ্গিত দেয়, মার্কিন ক্রেতারা এখন মূল্য ও গুণগত মানের বিষয়ে আরও বেশি সচেতন।

প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ, ভারতের ৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ, পাকিস্তানের ১২ দশমিক ২৯ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ১০ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং কম্বোডিয়ার ২৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। বিপরীতে সবচেয়ে বড় ধস নেমেছে চীনের রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দেশটির পোশাক রপ্তানি কমেছে ৩২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

রপ্তানির পরিমাণের দিক থেকেও বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। ভলিউম বিবেচনায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ১৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা অধিকাংশ প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের চেয়ে বেশি। যদিও এ ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ৩৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে রয়েছে।

শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি
শুল্কের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৫.১৪% বৃদ্ধি

তবে রপ্তানি বাড়লেও দামের চাপ থেকে মুক্ত নন বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের গড় ইউনিট মূল্য শূন্য দশমিক ৬৩ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ, তীব্র বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। একমাত্র ভারত ছাড়া প্রায় সব প্রতিযোগী দেশেরই ইউনিট মূল্য হ্রাস পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক পোশাক বাজার যখন প্রায় স্থবির, সেই বাস্তবতায় বাংলাদেশের এই প্রবৃদ্ধি শুধু বাণিজ্যিক নয়, কূটনৈতিক ও বাজার আস্থার দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ। শুল্ক ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান যে আরও দৃঢ় হচ্ছে, এ পরিসংখ্যান তারই ইঙ্গিত দেয়।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পোশাকের একক দাম (ইউনিট প্রাইস) সামান্য কমেছে। তীব্র প্রতিযোগিতা এবং মার্কিন খুচরা বিক্রেতাদের সতর্ক ক্রয়নীতির প্রতিফলন হিসেবেই এটিকে দেখা হচ্ছে।

শিল্প পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করে বলেছেন, প্রবৃদ্ধির এই ধারা ধরে রাখতে হলে কেবল কম দামের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। সামনের দিনগুলোতে মার্কিন বাজারে টিকে থাকতে হলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে দ্রুত খাপ খাইয়ে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।