ঢাকা ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নৃশংস ৭ বছরের শিশুর হাত চেপে ধরেন স্ত্রী আঙ্গুল কাটেন পুলিশ  কনস্টেবল জাতিসংঘ সফর শেষে সচিবালয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, শুরু দাপ্তরিক কার্যক্রম জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত ১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান

“যুদ্ধবিমানের ধ্বংসস্তূপের নিচেই ভারতকে কবর দেয়া হবে” পাকিস্তান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:০২:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫ ১২৬ বার পড়া হয়েছে

“যুদ্ধবিমানের ধ্বংসস্তূপের নিচেই ভারতকে কবর দেয়া হবে” পাকিস্তান প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কড়া প্রতিক্রিয়া

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ভারতের শীর্ষ নিরাপত্তা মহলের কড়া মন্তব্যের জবাবে রোববার (৫ অক্টোবর) সামাজিক মাধ্যমে একটি বিপদসংকেতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, যদি ভারত আবার যুদ্ধ চাপিয়ে দেয়, তাহলে পাকিস্তানের যেসব যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে সেগুলোর ধ্বংসাবশেষের নিচেই ভারতকে কবর দেওয়া হবে — “ইনশাআল্লাহ”। খাজা আসিফের এই বক্তব্য জিও নিউজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, ভারতের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতারা সাম্প্রতিক সময়ে যে ধরনের কঠোর উক্তি দিচ্ছেন তা তাদের হারানো বিশ্বাসযোগ্যতাকে পুনরুদ্ধার করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার ছলে হয়ে উঠছে। তিনি আভাষ দিয়েছেন যে শীর্ষ মহলের চাপেই তারা এই ধরনের মন্তব্য করছেন। খাজা আসিফ আরও বলেন, একে-শূন্য ব্যবধানে পরাজয়ের পরও যদি তারা আবার চেষ্টা করে, পাকিস্তানের ‘স্কোর’ আরও ভালো হবে; পাশাপাশি ভারতের জনমত ইতোমধ্যে এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে — যা নেতাদের বক্তব্যে প্রতিফলিত হচ্ছে।

এই কড়া প্রতিক্রিয়ার আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্রও ভারতের নিরাপত্তা মহলের মন্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর) জানিয়েছে, উসকানিমূলক ও উগ্রবাদী মন্তব্যগুলো আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করতে পারে এবং এর ফলে ভয়ানক ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসার ঝুঁকি রয়েছে। আইএসপিআর ভারতের নেতাদের সতর্ক করে জানিয়েছে যে উত্তেজক ভাষা পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে।

ঘটনার প্রেক্ষিতে আগ থেকেই ভারতের কিছু উচচপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতার কড়া সুর পাওয়া গেছে। একদিন আগে ভারতের সেনা প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী পাকিস্তানকে সতর্ক করে বলেছেন, দেশটি যদি মানচিত্রে তার অবস্থান ধরে রাখতে চায় তাহলে সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন বন্ধ করতে হবে। এছাড়া রাজস্থানের একটি সেনা পোস্টে গিয়ে তিনি দাবি করেন, তারা পূর্বে যে সংযম দেখিয়েছে—“অপারেশন সিঁদুর ১.০”-তে—এবার তা থাকবে না; পাকিস্তানকে এমন কিছু ভাবতে হবে যে তারা মানচিত্রে থাকতে চায় কি না। একই ধরনের কণ্ঠে ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং গুজরাটের ভুজ সীমান্ত ঘাঁটিতে বলেছিলেন, যদি পাকিস্তান নির্দিষ্ট এলাকার দিকে আগ্রাসন দেখায়, তাহলে এমন জবাব দেয়া হবে যা ইতিহাস এবং ভূগোল দুটোই পাল্টিয়ে দিতে পারে।

উভয়পক্ষের এই কড়া উত্তরে সীমানা-নিয়ে উত্তেজনা গ্রামের জম্ম নিচ্ছে এবং প্রতিবেশী দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের মাঝে উত্তেজক বিবৃতিগুলি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কূটনৈতিক চ্যানেল যত দ্রুত না সক্রিয় করা হবে ততই পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠতে পারে; কারণ উসকানিমূলক বক্তব্য সামান্য ভুল হিসেবেও সামরিক সংঘর্ষকে উস্কে দিতে পারে।

বর্তমানে দুই দেশের প্রতি পদক্ষেপই নজরকাড়া—কথ্য ও প্রতিক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় অঞ্চলটি সামরিক এবং কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সূত্রে পারস্পরিক সংলাপ ও স্থিতিশীলতার আহ্বানই একমাত্র সম্ভাব্য উপায় বলে মনে করা হচ্ছে, না হলে কড়া উক্তি ও প্রতিক্রিয়া ক্রমেই উত্তেজনা বাড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :