ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নৃশংস ৭ বছরের শিশুর হাত চেপে ধরেন স্ত্রী আঙ্গুল কাটেন পুলিশ  কনস্টেবল জাতিসংঘ সফর শেষে সচিবালয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, শুরু দাপ্তরিক কার্যক্রম জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত ১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান

বিশ্বশান্তির ছয় সারথীর মরদেহ আসছে শনিবার

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৮৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্বশান্তির ছয় সারথীর মরদেহ আসছে শনিবার

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সন্ত্রাসী ড্রোন হামলায় নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মরদেহ শনিবার (২০ ডিসেম্বর) স্বদেশে আনা হচ্ছে। দেশে পৌঁছানোর পর যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বশান্তিতে জীবন উৎসর্গকারী এই বীরদের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করা হবে।

গত ১৩ ডিসেম্বর সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের আওতাধীন কাদুগলি লজিস্টিকস বেইসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠীর চালানো বর্বরোচিত ড্রোন হামলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ছয় সদস্য নিহত হন এবং আহত হন আরও নয়জন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসার জন্য কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির আগা খান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের কয়েকজন ইতোমধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন এবং বাকিরা শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

নিহত শান্তিরক্ষীরা হলেন, নাটোরের করপোরাল মো. মাসুদ রানা, কুড়িগ্রামের সৈনিক মো. মমিনুল ইসলাম ও সৈনিক শান্ত মণ্ডল, রাজবাড়ীর সৈনিক শামীম রেজা, কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা মেস ওয়েটার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং গাইবান্ধার বাসিন্দা লন্ড্রি কর্মচারী মো. সবুজ মিয়া।


আহতদের মধ্যে রয়েছেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল খোন্দকার খালেকুজ্জামান, সার্জেন্ট মো. মোস্তাকিম হোসেন, করপোরাল আফরোজা পারভিন ইতি, ল্যান্স করপোরাল মহিবুল ইসলাম, সৈনিক মো. মেজবাউল কবির, সৈনিক মোসা. উম্মে হানি আক্তার, সৈনিক চুমকি আক্তার ও সৈনিক মো. মানাজির আহসান। আহতদের মধ্যে তিনজন নারী শান্তিরক্ষী।

শহীদ শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের এক গৌরবময় নিদর্শন হয়ে থাকবে। জাতিসংঘের পতাকা তলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জীবন উৎসর্গের শপথ নিয়েই তারা বিদেশের মাটিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের যাত্রা শুরু হলেও বাংলাদেশ প্রথম অংশ নেয় ১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক সামরিক পর্যবেক্ষক মিশনে। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। বর্তমানে বাংলাদেশ ১০টি দেশে শান্তিরক্ষী মোতায়েন রেখেছে এবং সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।

শুরু থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ১৬৮ জন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, যাদের মধ্যে সেনাবাহিনীর ১৩১ জন, নৌবাহিনীর ৪ জন, বিমানবাহিনীর ৬ জন এবং পুলিশের ২৪ জন। আহত হয়েছেন ২৭২ জন। চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও বেসামরিক সদস্যদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ শুধু অস্ত্রধারী বাহিনী নয়, মানবতার সৈনিক হিসেবেও বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।

সুদানের আবেই থেকে দেশে ফেরা এই ছয় বীরের মরদেহ শনিবার স্পর্শ করবে তাদের প্রিয় মাতৃভূমি-যে মাতৃভূমির সম্মান ও গৌরব তারা বিশ্বমঞ্চে অটুট রেখে গেলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :