ঢাকা ০৪:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এক বছরে ১০.৬৩ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি তেল আমদানি মায়ের ছোট্ট অনুরোধে ভারতীয় ভিসা কেন্দ্রে শিশুদের ‘খেলা ঘর’ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধান ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ ১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা কক্মাসবাজার তারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী সৌদিতে কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধার মৃত্যু এসএসসি-সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৬২.২৫ শতাংশ নদী মরছে, বিপন্ন হচ্ছে নগরসভ্যতা থেমে গেছে প্রতিদিনের হাঁটা ১১ পলিথিনে খন্ডিত মরদেহ মেলেনি মাথা-পা বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত প্রধানমন্ত্রীর উপহার সিএনজি-রিকশা পেলেন জুলাইযোদ্ধারা

বাংলাদেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিদেশি ঋণ,যার ১০ বিলিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে

বিশেষ প্রতিদিনি, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৩১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিদেশি ঋণ,যার ১০ বিলিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে : ছবি সংগ্রহ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে ঋণ বেড়েছে আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার। যা ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে এমন চিত্র ওঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী  শুধু ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেই ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, টানেল ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে গত এক দশকে ব্যাপক বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেই ঋণ বেড়েছে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার, সেপ্টেম্বর শেষে যা ছিল ১১২.২১ বিলিয়ন ডলার।

পূর্ববর্তী সরকারের শেষ সময়ে মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩.৪১ বিলিয়ন ডলার।  অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রায় ১৮ মাসে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার, যা ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত ও পরিস্থিতিগত কারণ রয়েছে।

গত এক দশকে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দরের টার্মিনাল, নদীর তলদেশে টানেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে ব্যাপক বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঋণ গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকে।

বিশেষ করে প্রথম বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন ঋণ যুক্ত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ২০২২ সাল থেকে ডলারের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে, প্রায় ৮৫ টাকা থেকে ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়।

এতে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগের সরকার আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। তবুও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমেনি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাতেই ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ ঘটেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯২.৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে ৯৩.৪৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ তিন মাসে বৃদ্ধি প্রায় ৯০ কোটি ডলার। অন্যদিকে বেসরকারি খাতেও ঋণ বেড়েছে। একই সময়ে ১৯.৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২০.০৫ বিলিয়ন ডলারে।

যদিও পরিমাণগতভাবে কম, তবুও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্য। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ এখনো জিডিপির অনুপাতে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিদেশি ঋণ,যার ১০ বিলিয়ন অন্তর্বর্তী সরকার আমলে

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের জন্য একটি নতুন রেকর্ড। এর মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রায় ১৮ মাসে ঋণ বেড়েছে আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার। যা ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে এমন চিত্র ওঠে এসেছে। তথ্য অনুযায়ী  শুধু ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেই ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, টানেল ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে গত এক দশকে ব্যাপক বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও এই ধারা অব্যাহত থাকে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে দাঁড়িয়েছে ১১৩.৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শুধুমাত্র ২০২৫ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকেই ঋণ বেড়েছে প্রায় ১.৩০ বিলিয়ন ডলার, সেপ্টেম্বর শেষে যা ছিল ১১২.২১ বিলিয়ন ডলার।

পূর্ববর্তী সরকারের শেষ সময়ে মোট বৈদেশিক ঋণ ছিল ১০৩.৪১ বিলিয়ন ডলার।  অন্তর্বর্তী প্রশাসনের প্রায় ১৮ মাসে ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে আনুমানিক ১০ বিলিয়ন ডলার, যা ঋণ প্রবৃদ্ধির গতি ও ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈদেশিক ঋণ বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত ও পরিস্থিতিগত কারণ রয়েছে।

গত এক দশকে বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প, যেমন মেট্রোরেল, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, বিমানবন্দরের টার্মিনাল, নদীর তলদেশে টানেল এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে বাস্তবায়নে ব্যাপক বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও ঋণ গ্রহণের ধারা অব্যাহত থাকে।

বিশেষ করে প্রথম বছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধসহ জরুরি ব্যয় মেটাতে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ নেওয়া হয়। পাশাপাশি চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ও বাজেট ঘাটতি মোকাবিলায় নতুন ঋণ যুক্ত হয়েছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি হয়, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে। ২০২২ সাল থেকে ডলারের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে, প্রায় ৮৫ টাকা থেকে ১২২ টাকায় পৌঁছে যায়।

এতে আমদানি ব্যয় বাড়ে এবং মুদ্রাস্ফীতি তীব্র হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগের সরকার আমদানি নিয়ন্ত্রণ ও বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। তবুও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কমেনি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়, যেখানে প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি খাতেই ঋণ বৃদ্ধির বড় অংশ ঘটেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর শেষে সরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ ছিল ৯২.৫৫ বিলিয়ন ডলার, যা ডিসেম্বর শেষে বেড়ে ৯৩.৪৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, অর্থাৎ তিন মাসে বৃদ্ধি প্রায় ৯০ কোটি ডলার। অন্যদিকে বেসরকারি খাতেও ঋণ বেড়েছে। একই সময়ে ১৯.৬৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে তা দাঁড়িয়েছে ২০.০৫ বিলিয়ন ডলারে।

যদিও পরিমাণগতভাবে কম, তবুও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিও উল্লেখযোগ্য। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বৈদেশিক ঋণ এখনো জিডিপির অনুপাতে সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। তবে উদ্বেগের জায়গা হলো, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের তুলনায় ঋণের সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপ বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।