ঢাকা ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

বাঁধ ভেঙ্গে ১০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫ ২৬৬ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা পাইপের কারণে বেড়িবাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একারণে বেড়িবাঁধে দেখা দিয়েছে

ঈদের দিন সবাই যখন আনন্দে মেতে ওঠেছে, সে সময় আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের মানুষ পানির সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছে। হাজারো চেষ্টা করেও পানির সঙ্গে কুলিয়ে ওঠতে ব্যর্থ হয়।

খোলপেটুয়া নদীর অন্তত দেড়শ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে হু হু করে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। দেখতে দেখতে বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, চেঁচুয়া, কাকবসিয়া, পারবিছুট, বাসুদেবপুরসহ আশপাশের অন্তত ৮-১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ভেসে যায় অসংখ্য মাছের ঘের।

আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু বেড়িবাঁধে।

আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ জানায়, বাঁধ ভেঙে প্রবল জোয়ারের পানিতে প্রায় চার হাজার বিঘা জমির ধানসহ অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বাড়িঘর পানির নিচে ডুবে গেছে।

প্লাবিত এলাকার মানুষ দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের পরপরই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প রিং বাঁধ তৈরির চেষ্টা করলেও প্রবল জোয়ারের তোড়ে সেই বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে।

আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। দুপুর ও রাতের জোয়ারের কারণে ভাঙন আরও গভীর হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। এখন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়রা জানান, মৎস্য ঘেরে লবণ পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা পাইপের কারণে বেড়িবাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একারণে বেড়িবাঁধে
দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙনকবলিত বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি অবিলম্বে অবৈধ পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম জানান, কাল থেকে এ পর্যন্ত চার বার জোয়ার-ভাটার কবলে পড়েছে প্লাবিত গ্রামগুলো।

জোয়ারে সবকিছু তলিয়ে যাচ্ছে, ভাটায় সবকিছু টেনে নিয়ে যাচ্ছে নদীতে। এতে কাঁচা ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আশাশুনি উপজেলা টিম লিডার আবদুল জলিল জানান, মূল যে পয়েন্টে ভেঙেছে, সেটাতে একটি পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম ছিল। যতগুলো ভাঙন পয়েন্ট রয়েছে, সবগুলোই পাইপলাইনের কারণে হয়েছে।

এখন যদি আমরা এই পাইপলাইন বসানো বন্ধ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাঁধ ভেঙ্গে ১০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী

আপডেট সময় : ০৩:২০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৫

চিংড়ি ঘেরে লবণ পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা পাইপের কারণে বেড়িবাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একারণে বেড়িবাঁধে দেখা দিয়েছে

ঈদের দিন সবাই যখন আনন্দে মেতে ওঠেছে, সে সময় আশাশুনি উপজেলার বিছট গ্রামের মানুষ পানির সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে নেমেছে। হাজারো চেষ্টা করেও পানির সঙ্গে কুলিয়ে ওঠতে ব্যর্থ হয়।

খোলপেটুয়া নদীর অন্তত দেড়শ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে হু হু করে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। দেখতে দেখতে বল্লভপুর, আনুলিয়া, নয়াখালী, চেঁচুয়া, কাকবসিয়া, পারবিছুট, বাসুদেবপুরসহ আশপাশের অন্তত ৮-১০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ভেসে যায় অসংখ্য মাছের ঘের।

আশাশুনির আনুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন উঁচু বেড়িবাঁধে।

আনুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ জানায়, বাঁধ ভেঙে প্রবল জোয়ারের পানিতে প্রায় চার হাজার বিঘা জমির ধানসহ অসংখ্য চিংড়ি ঘের তলিয়ে গেছে। প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ বাড়িঘর পানির নিচে ডুবে গেছে।

প্লাবিত এলাকার মানুষ দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের পরপরই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প রিং বাঁধ তৈরির চেষ্টা করলেও প্রবল জোয়ারের তোড়ে সেই বাঁধ ধসে নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে।

আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সামনে আমাদের জন্য কঠিন সময় অপেক্ষা করছে। মাত্র একদিনের ব্যবধানে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। দুপুর ও রাতের জোয়ারের কারণে ভাঙন আরও গভীর হয়েছে। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

জরুরি ভিত্তিতে বেড়িবাঁধ সংস্কার করা প্রয়োজন। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেছেন। এখন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয়রা জানান, মৎস্য ঘেরে লবণ পানি উত্তোলনের জন্য স্থাপন করা পাইপের কারণে বেড়িবাঁধের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল। একারণে বেড়িবাঁধে
দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভাঙনকবলিত বাঁধ সংস্কারের পাশাপাশি অবিলম্বে অবৈধ পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম জানান, কাল থেকে এ পর্যন্ত চার বার জোয়ার-ভাটার কবলে পড়েছে প্লাবিত গ্রামগুলো।

জোয়ারে সবকিছু তলিয়ে যাচ্ছে, ভাটায় সবকিছু টেনে নিয়ে যাচ্ছে নদীতে। এতে কাঁচা ঘরবাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) আশাশুনি উপজেলা টিম লিডার আবদুল জলিল জানান, মূল যে পয়েন্টে ভেঙেছে, সেটাতে একটি পাইপলাইন ও গেট সিস্টেম ছিল। যতগুলো ভাঙন পয়েন্ট রয়েছে, সবগুলোই পাইপলাইনের কারণে হয়েছে।

এখন যদি আমরা এই পাইপলাইন বসানো বন্ধ না করি, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটবে।