নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর ২২ দিন দেশজুড়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ
- আপডেট সময় : ০৯:৩৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে আগামী ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২২ দিন দেশে ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। প্রধান প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধের সময় নির্ধারণ এবং মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
নিষিদ্ধকালীন সময়ে দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় বন্ধ থাকবে। এ সময়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা জেলেদের সরকার খাদ্য সহায়তা হিসেবে বিশেষ বরাদ্দ দেবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না। বরিশাল, চাঁদপুর ও ভোলাসহ ইলিশের প্রধান প্রজনন এলাকাগুলোতে নজরদারি ও অভিযান আরো জোরদার করা হবে।
প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধের সিদ্ধান্ত কঠোরভাবে বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসন, নৌপুলিশ, উপকূল রক্ষী বাহিনী ও মৎস্য বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত নৌযান ও সরঞ্জাম সহায়তা দেয়া হবে।
অবৈধভাবে ধরা মাছ বাজারজাত বন্ধ করতে বরফকল, আড়ত ও বাজারে নজরদারি বাড়ানো হবে। চাঁদপুর মোহনাসহ ইলিশের প্রজননক্ষেত্রে অবৈধ জাল সরাতে কঠোর অভিযান চালানো হবে।
কোনো অবস্থাতেই নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা বা বাজারজাত করার সুযোগ দেয়া যাবে না। মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ বজায় থাকলে আগামী মৌসুমে ইলিশের উৎপাদন আরো বাড়বে।
মঙ্গলবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ থাকার সময়ে দেশব্যাপী ইলিশ পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় বন্ধ থাকবে। এ সময়ে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়ন করা হবে।

এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ইলিশের উৎপাদন দিন দিন কমে যাওয়ার কারণ গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে। কোথায় দুর্বলতা বা কার্যক্রমে ঘাটতি রয়েছে, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অবৈধ জাল বন্ধের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ জাল উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের পাশাপাশি জেলে প্রতিনিধিদেরও এসব জাল না কেনার বিষয়ে জেলেদের সচেতন করতে হবে।
নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে সরকার জেলেদের যে সুবিধা দিচ্ছে, তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে সেটি নিশ্চিত করতে তদারকি বাড়ানো হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে বিদেশ থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে, যা উদ্বেগের বিষয়। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তা চিহ্নিত করে সবাইকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
ইলিশকে জাতীয় সম্পদ ও ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে রক্ষা করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে আগামী দিনে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেয়া হবে।
সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. মীর হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।



















