ঢাকা ০৬:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নৃশংস ৭ বছরের শিশুর হাত চেপে ধরেন স্ত্রী আঙ্গুল কাটেন পুলিশ  কনস্টেবল জাতিসংঘ সফর শেষে সচিবালয়ে ফিরলেন প্রধানমন্ত্রী, শুরু দাপ্তরিক কার্যক্রম জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রচেষ্টায় চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে: রাষ্ট্রদূত ১৮ দেশের বাজারকেন্দ্রিক রপ্তানি কৌশল প্রণয়ন করছে সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সরকারের সমালোচনা এনসিপি আহ্বায়কের কাগজে নদীর সংখ্যা বাড়ছে নদী রক্ষাই এখন সবচেয়ে বড় সংকট সাশ্রয়ী আবাসন অর্থায়নে বাংলাদেশকে ১০ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি শেরপুর সীমান্তে ভারতীয় সাবান-মদ জব্দ বিজিবির গরু আটক নিয়ে চাঞ্চল্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের সমাধান কেবল কূটনীতিতেই: ইরান

তেলের আগুনে বিশ্ববাজার অস্থির, চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:০০:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

তেলের আগুনে বিশ্ববাজার অস্থির, চাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের জেরে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে তেলের দামে, যা ইতোমধ্যেই এক সপ্তাহের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসন পড়েছে বাড়তি চাপের মুখে।

বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাষ্ট্র এখন নতুন কৌশল বিবেচনা করছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত জরুরি মজুত (কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ) থেকে তেল বাজারে ছাড়তে পারে। এর মাধ্যমে সরবরাহ বাড়িয়ে বাজারকে স্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হবে।

এর পাশাপাশি ইরানের ওপর আরোপিত তেল রপ্তানি সংক্রান্ত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে মার্কিন প্রশাসনের নীরব সম্মতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করছে। এই প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট, যেখানে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়।

তবে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনার কারণে। ইসরায়েল ইরানের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র দক্ষিণ পার্স গ্যাস ক্ষেত্র-এ হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা শুরু করেছে। এতে পুরো অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা বাজারকে আরও অস্থির করে তুলেছে।

এই উত্তেজনার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের দামে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে যদি হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালির মাধ্যমে যায়। এটি বন্ধ হলে সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগবে এবং দাম হু হু করে বাড়বে।

তেলবাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ভান্ডা ইনসাইটস-এর প্রতিষ্ঠাতা বন্দনা হারি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের মানদণ্ড তেল, যেমন ওমান ও দুবাই ক্রুড ইতোমধ্যেই ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ব্রেন্ট ক্রুড ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)এর দামও ২০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, তেলের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ এখন প্রায় পুরোপুরি নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালী কতদিন চালু বা বন্ধ থাকে তার ওপর।

অন্যদিকে ইউরোপীয় জ্বালানি বাজারেও এর প্রভাব স্পষ্ট। যুক্তরাজ্যে পাইকারি গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়ে প্রতি থার্ম ১৭১.৩৪ পেন্স বা ২.২৯ ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৩ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। এতে শিল্পখাত ও সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

সার্বিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে একটি অনিশ্চিত অবস্থার দিকে ঠেলে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বড় অর্থনীতিগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ বিবেচনা করলেও, স্থায়ী সমাধান অনেকটাই নির্ভর করছে আঞ্চলিক সংঘাত কত দ্রুত প্রশমিত হয় তার ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :