ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদীদূষণ রোধে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না  ভারত,  জানালেন রণধীর জয়সওয়াল হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

হরমুজ প্রণালী ইরান-ওমান চুক্তি চূড়ান্ত, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে স্বস্তির আভাস

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

ইরান-ওমান চুক্তি চূড়ান্ত, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে স্বস্তির আভাস

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন নৌপথ নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তেহরান জানালেও, অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এখনও সম্ভব হচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালী উত্তর দিকে ইরান এবং দক্ষিণ দিকে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপ দ্বারা বেষ্টিত। সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ থেকে ৪০ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী এটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত একটি ট্রানজিট প্যাসেজ। তবে এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশেই এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ এটি। ফলে এই প্রণালীতে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বিশ্ববাসীর সামনে আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব কতটা গভীর। সংঘাতের জেরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা শুরু করে। জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজার, পরিবহন ব্যয় এবং শিল্প উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান রুট এটি। বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলো সীমিত সক্ষমতার হওয়ায় দ্রুত বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন সম্ভব নয়। ফলে সরবরাহ কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের বহন করতে হয়। ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে এবং অনেক দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে নতুন নৌপথ নিয়ে সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন এই নৌপথ সাময়িকভাবে চালু করা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ উদ্যোগ পুরোপুরি কার্যকর হবে না।

ইরান আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের জন্য পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট হারে ফি আদায়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী কেবল একটি জলপথ নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর কেন্দ্র। এই প্রণালী ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক বিরোধ কিংবা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন যেকোনো ঘটনাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।

সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সবকিছু মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাই হরমুজ প্রণালীতে অবাধ, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন নৌ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক সমাধান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি। কারণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হরমুজ প্রণালী ইরান-ওমান চুক্তি চূড়ান্ত, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যে স্বস্তির আভাস

আপডেট সময় : ১২:০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। ইরান ও ওমানের মধ্যে জাহাজ চলাচলের একটি নতুন নৌপথ নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে তেহরান জানালেও, অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয়। ইরানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং চলমান সামরিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এখনও সম্ভব হচ্ছে না।

হরমুজ প্রণালী উত্তর দিকে ইরান এবং দক্ষিণ দিকে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপ দ্বারা বেষ্টিত। সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশের প্রস্থ মাত্র ৩৩ থেকে ৪০ কিলোমিটার। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন অনুযায়ী এটি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত একটি ট্রানজিট প্যাসেজ। তবে এর কৌশলগত অবস্থানের কারণে বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা অনেকাংশেই এই প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল।

বিশ্বে প্রতিদিন যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি হয়, তার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহন করা হয়। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি রপ্তানির প্রধান পথ এটি। ফলে এই প্রণালীতে সামান্য অস্থিরতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।

সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বিশ্ববাসীর সামনে আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব কতটা গভীর। সংঘাতের জেরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত ওঠানামা শুরু করে। জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে শেয়ারবাজার, পরিবহন ব্যয় এবং শিল্প উৎপাদনের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন দেশে জ্বালানি পরিবহনের প্রধান রুট এটি। বিকল্প পথ থাকলেও সেগুলো সীমিত সক্ষমতার হওয়ায় দ্রুত বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন সম্ভব নয়। ফলে সরবরাহ কমে গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে পরিবহন খাত, বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ওপর। কারণ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এখনও জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল। তেলের দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায়, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের বহন করতে হয়। ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে এবং অনেক দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়তে পারে।

বাংলাদেশের মতো জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে আমদানি ব্যয় বাড়বে, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হবে এবং পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এর প্রভাব খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে ইরান ও ওমানের মধ্যে নতুন নৌপথ নিয়ে সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক মহলে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, নতুন এই নৌপথ সাময়িকভাবে চালু করা হতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত মূল সমস্যাগুলোর সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এ উদ্যোগ পুরোপুরি কার্যকর হবে না।

ইরান আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবহারকারী জাহাজের জন্য পূর্বানুমতি বাধ্যতামূলক করা হতে পারে এবং ভবিষ্যতে জাহাজ থেকে নির্দিষ্ট হারে ফি আদায়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ওমান এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নতুন ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী কেবল একটি জলপথ নয়; এটি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম স্পর্শকাতর কেন্দ্র। এই প্রণালী ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, কূটনৈতিক বিরোধ কিংবা জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন যেকোনো ঘটনাই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে সক্ষম। তাই বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলো এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে।

সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকট কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে বিশ্ব অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি সবকিছু মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতি টালমাটাল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তাই হরমুজ প্রণালীতে অবাধ, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন নৌ চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কূটনৈতিক সমাধান, আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার মাধ্যমে এই কৌশলগত জলপথে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের অন্যতম বড় দাবি। কারণ হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।