ঢাকা ০৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাইডের নির্দেশনা অমান্য বান্দরবানে মোটরসাইকেল খাদে পড়ে প্রাণ হারালেন দুই পর্যটক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের ৩ বছরের কারাদণ্ড জ্বালানি তেলের দামে বড় পতন স্বস্তির আভাস তবুও কাটেনি শঙ্কা সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের পর যুক্তরাষ্ট্রের নিহত ২০০ ছাড়িয়েছে: আইআরজিসি প্রকৃতি ও পরিবেশ চাঁইয়ের ফাঁদে পাঙাশ নিধন উপকূলের নদ-নদীতে মাছশূন্য ভবিষ্যতের অশনিসংকেত এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা

ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে: ওয়াশিংটন পোস্ট

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬ ৮৫ বার পড়া হয়েছে

ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে: ওয়াশিংটন পোস্ট

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছে পেন্টাগন। এই পরিকল্পনায় সীমিত পরিসরের কিন্তু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে চলমান সংঘাত নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই স্থল অভিযান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মতো ব্যাপক না হলেও এতে অত্যন্ত দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনী অংশ নিতে পারে। পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফোর্স এবং সাধারণ পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চার হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা যুদ্ধজাহাজে করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদি না হয়ে ‘সপ্তাহব্যাপী’ সীমিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, পেন্টাগনের কাজ হচ্ছে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা এবং সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিত করা। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এরও বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে, ইরানে হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এই সংঘাতের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার দাবি, যা এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। একই সঙ্গে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে আঘাত হানছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, ওয়াশিংটন পোস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের হাতে: ওয়াশিংটন পোস্ট

আপডেট সময় : ১১:৪০:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য স্থল অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহ ধরেই ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের বিস্তারিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করে রেখেছে পেন্টাগন। এই পরিকল্পনায় সীমিত পরিসরের কিন্তু উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক অভিযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে চলমান সংঘাত নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য এই স্থল অভিযান পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মতো ব্যাপক না হলেও এতে অত্যন্ত দক্ষ ও বিশেষায়িত বাহিনী অংশ নিতে পারে। পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল অপারেশন ফোর্স এবং সাধারণ পদাতিক সেনাদের সমন্বয়ে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চার হাজারেরও বেশি মেরিন সেনা যুদ্ধজাহাজে করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপারদের প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের বিষয়েও উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সম্ভাব্য অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী-সংলগ্ন উপকূলীয় অঞ্চল বিবেচনায় রাখা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, এই অভিযান দীর্ঘমেয়াদি না হয়ে ‘সপ্তাহব্যাপী’ সীমিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট বলেন, পেন্টাগনের কাজ হচ্ছে সম্ভাব্য সব পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা এবং সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিত করা। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৩০০-এরও বেশি আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। অপরদিকে, ইরানে হামলায় নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে।

এই সংঘাতের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি নিহত হওয়ার দাবি, যা এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। একই সঙ্গে ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে আঘাত হানছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই স্থল অভিযান শুরু করে, তাহলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে, যার প্রভাব বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও পড়তে পারে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, ওয়াশিংটন পোস্ট