ঢাকা ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রাজনৈতিক ব্যবহারের অবসান চায় সরকার, আসছে নতুন এলিট ফোর্স রাতে মদের আসরে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, সকালে ধৃত ৩ ধর্ষক ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এডিপির আকার নির্ধারণ ৩ লাখ কোটি টাকা : অর্থমন্ত্রী দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের  হত্যার ফরমান নিয়ে দিনযাপন করছেন, জুলাই যোদ্ধা আমিরুল সীমান্তে অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবিকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পূর্ণ সামরিক নিয়ন্ত্রণ: মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির নতুন বার্তা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হবে: তথ্যমন্ত্রী পেট্রোবাংলার  চেয়ারম্যানের দায়িত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল মান্নান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই: প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬ ৩৭ বার পড়া হয়েছে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম-এ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬”। সারাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ যেন নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন দেখার এক বিশাল মঞ্চ।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তিনি নিজের বক্তব্যের শুরুতেই জানিয়ে দেন, আজকের আসল প্রধান অতিথি গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব।

লিখিত বক্তব্য সরিয়ে রেখে তিনি সরাসরি শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপে মেতে ওঠেন। তার কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস আর অনুপ্রেরণার দৃঢ় সুর-পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, সংস্কৃতি, যে যার স্বপ্ন অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে সরকার।

তিনি আশ্বাস দেন, কেউ খেলোয়াড় হতে চাইলে খেলোয়াড়, কেউ সংগীতশিল্পী হতে চাইলে সংগীতশিল্পী-সবাইকে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হবে।

আশির দশকের প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ
সিলেটে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, কিন্তু বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে তোমাদেরই। গ্যালারিতে তখন হাজারো কণ্ঠে প্রতিধ্বনি হ্যাঁ! হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন, “ইনশাল্লাহ, তোমরা সবাই পারবে।”

অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রতিভা বিকাশের ওপর জোর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই শিশুদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, এমনকি রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর প্রামাণ্যচিত্র এবং ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং, যা পুরো স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। এরপর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও মার্শাল আর্টে চমৎকার অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আশির দশকের প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটিও শোনান প্রধানমন্ত্রী। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে বলতেই “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” ধারণার জন্ম হয়। সেই ভাবনাই আজ বাস্তব রূপ পেল জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচি মূলত আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ উদ্যোগ “নতুন কুঁড়ি”-র ধারাবাহিকতা। তবে এবার লক্ষ্য-ক্রীড়াক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সব মিলিয়ে, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও স্বপ্নবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এক দূরদর্শী উদ্যোগ। এখানেই যেন প্রতিধ্বনিত হলো একটি বার্তা, বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম-এ জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হলো “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬”। সারাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ যেন নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন দেখার এক বিশাল মঞ্চ।

অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে তিনি নিজের বক্তব্যের শুরুতেই জানিয়ে দেন, আজকের আসল প্রধান অতিথি গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ, তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব।

লিখিত বক্তব্য সরিয়ে রেখে তিনি সরাসরি শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপে মেতে ওঠেন। তার কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস আর অনুপ্রেরণার দৃঢ় সুর-পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, গান, সংস্কৃতি, যে যার স্বপ্ন অনুযায়ী এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করবে সরকার।

তিনি আশ্বাস দেন, কেউ খেলোয়াড় হতে চাইলে খেলোয়াড়, কেউ সংগীতশিল্পী হতে চাইলে সংগীতশিল্পী-সবাইকে গড়ে তোলার ব্যবস্থা করা হবে।

আশির দশকের প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ
সিলেটে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন প্রধানমন্ত্রী

শিশুদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, কিন্তু বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে তোমাদেরই। গ্যালারিতে তখন হাজারো কণ্ঠে প্রতিধ্বনি হ্যাঁ! হাসিমুখে প্রধানমন্ত্রী জবাব দেন, “ইনশাল্লাহ, তোমরা সবাই পারবে।”

অনুষ্ঠানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রতিভা বিকাশের ওপর জোর। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই শিশুদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, আইনজীবী, এমনকি রাষ্ট্রনায়ক তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-এর প্রামাণ্যচিত্র এবং ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং, যা পুরো স্টেডিয়ামে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। এরপর বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)-এর শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, সাঁতার, দাবা, ব্যাডমিন্টন ও মার্শাল আর্টে চমৎকার অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী করে দর্শকদের মুগ্ধ করে।

আশির দশকের প্রতিভা অন্বেষন কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ধারাবাহিকায় এবার ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিভা খুঁজে বের করতে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এই উদ্যোগের পেছনের গল্পটিও শোনান প্রধানমন্ত্রী। প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় ক্রীড়া উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে বলতেই “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস” ধারণার জন্ম হয়। সেই ভাবনাই আজ বাস্তব রূপ পেল জাতীয় কর্মসূচি হিসেবে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের বাস্তবায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচি মূলত আশির দশকের জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ উদ্যোগ “নতুন কুঁড়ি”-র ধারাবাহিকতা। তবে এবার লক্ষ্য-ক্রীড়াক্ষেত্রে লুকিয়ে থাকা প্রতিভা খুঁজে বের করা এবং তাদের আন্তর্জাতিক মানে গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ মন্ত্রিপরিষদের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সব মিলিয়ে, “নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস–২০২৬” শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়, এটি নতুন প্রজন্মকে আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও স্বপ্নবান নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার এক দূরদর্শী উদ্যোগ। এখানেই যেন প্রতিধ্বনিত হলো একটি বার্তা, বাংলাদেশের আগামীর শক্তি লুকিয়ে আছে আজকের এই ক্ষুদে কুঁড়িদের মধ্যেই।