ঢাকা ১০:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৮ তারিখ সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গোপন প্রেম, গোপন বিয়ে থেকে করুণ পরিণতি আলোঝলমলে জীবন আর করুণ সমাপ্তি নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি নয়, থাকবেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা   সার্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি অপরাধ দমনে কঠোর বার্তায় আশ্বস্ত সাধারণ মানুষ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত অন্তত ৩২ যে কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুণ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি অনিশ্চিত নতুন সরকারের শপথে থাকবেন প্রায় এক হাজার অতিথি

 গত বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের  অর্থ  জমা হয়  ৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১ ৩১৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

‘সুইস ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশিদের গচ্ছিত জমার পরিমাণ গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ছিল। সে সময় জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০১৭ সালে কমলেও (৪৮ কোটি ১৩ লাখ ফ্রাঁ) সেটি আবার ২০১৮ সালে (৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ) বেড়ে যায়। এর পর ২০১৯ ও ২০২০ সালের হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণ কমতে দেখা যাচ্ছে’’

টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থের পরিমাণ কমতে দেখা যাচ্ছে। ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিকদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ফ্রাঁ। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকা (প্রতি সুইস ফ্রাঁ ৯২.৮৬ টাকা হিসাবে)।

এ ২০১৯ সালে ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ (৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা)। ২০১৮ সালে ছিল ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ (৫ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা)। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড-২০২০’ শিরোনামে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেশটিতে থাকা বিদেশিদের আমানতের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কোনো বাংলাদেশি যদি তার নাগরিকত্ব গোপন রেখে টাকা জমা করে থাকেন, তার তথ্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একইভাবে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা মূল্যবান শিল্পকর্ম, স্বর্ণ বা দুর্লভ সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমান হিসাব করে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সুইস ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশিদের গচ্ছিত জমার পরিমাণ গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ছিল। সে সময় জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০১৭ সালে কমলেও (৪৮ কোটি ১৩ লাখ ফ্রাঁ) সেটি আবার ২০১৮ সালে (৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ) বেড়ে যায়। এর পর ২০১৯ ও ২০২০ সালের হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণ কমতে দেখা যাচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার মার্কিন নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ কমেছ। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে মার্কিন নাগরিকদের অর্থ। তবে ব্যাপক বেড়েছে ভারতীদের জমানো অর্থ। এক বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালে ভারতীয় নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১৮৬ শতাংশ।

২০১৯ সালে ভারতীয় নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৯ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২০ সালে এর পরিমাণ হয়েছে ২৫৫ কোটি ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁ। তবে সার্বিকভাবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে।

দীর্ঘকাল যাবৎ নাম-পরিচয় গোপন রেখে অর্থ জমা রাখার জন্য ধনীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হলো সুইজারল্যান্ড। সুইস ব্যাংকে থাকা এই অর্থের একটি অংশ পাচার হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়। নাম-পরিচয় গোপন থাকায় সুইস ব্যাংকগুলোতে সারা বিশ্ব থেকেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রাখা হয়। সুইজারল্যান্ডের সংবিধান এবং ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী সেখানে ব্যাংক গ্রাহকদের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা হয়।

২০০২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচার রোধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ব্যাপকভাবে কার্যকর হওয়ার পর বার্ষিক ভিত্তিতে জমা টাকার হিসাব দিচ্ছে সুইজারল্যান্ড। বছর ভিত্তিতে কোন দেশের কত টাকা জমা আছে, সে তথ্য তারা প্রকাশ করছে। তবে কারো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, সুইস ব্যাংকগুলোতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি অর্থ জমা রাখতে পারেন। তবে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে সে দেশে জমা করার সুযোগ নেই। কঠোর গোপনীয়তার কারণে অর্থ গচ্ছিত রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ড অর্থ পাচারকারীদেরও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হতো।

কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে সুইস ব্যাংকগুলোর এই কঠোর গোপনীয়তার নীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে গচ্ছিত অর্থ যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তারা তথ্য দিতে বাধ্য। এ জন্য সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ গচ্ছিত রাখার প্রবণতা কমতে পারে।

 

 

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

 গত বছর সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের  অর্থ  জমা হয়  ৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকা

আপডেট সময় : ১০:১৯:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ জুন ২০২১

‘সুইস ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশিদের গচ্ছিত জমার পরিমাণ গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ছিল। সে সময় জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০১৭ সালে কমলেও (৪৮ কোটি ১৩ লাখ ফ্রাঁ) সেটি আবার ২০১৮ সালে (৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ) বেড়ে যায়। এর পর ২০১৯ ও ২০২০ সালের হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণ কমতে দেখা যাচ্ছে’’

টানা দুই বছর সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের জমানো অর্থের পরিমাণ কমতে দেখা যাচ্ছে। ২০২০ সালে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশি নাগরিকদের আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৬ কোটি ২৯ লাখ ফ্রাঁ। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৫ হাজার ২১৭ কোটি টাকা (প্রতি সুইস ফ্রাঁ ৯২.৮৬ টাকা হিসাবে)।

এ ২০১৯ সালে ছিল ৬০ কোটি ৩০ লাখ ফ্রাঁ (৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা)। ২০১৮ সালে ছিল ৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ (৫ হাজার ৭২৪ কোটি টাকা)। গতকাল বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড-২০২০’ শিরোনামে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে দেশটিতে থাকা বিদেশিদের আমানতের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কোনো বাংলাদেশি যদি তার নাগরিকত্ব গোপন রেখে টাকা জমা করে থাকেন, তার তথ্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একইভাবে সুইস ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা মূল্যবান শিল্পকর্ম, স্বর্ণ বা দুর্লভ সামগ্রীর আর্থিক মূল্যমান হিসাব করে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

সুইস ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশিদের গচ্ছিত জমার পরিমাণ গত কয়েক বছরের মধ্যে ২০১৬ সালে সবচেয়ে বেশি ছিল। সে সময় জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ৬৬ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০১৭ সালে কমলেও (৪৮ কোটি ১৩ লাখ ফ্রাঁ) সেটি আবার ২০১৮ সালে (৬১ কোটি ৭৭ লাখ ফ্রাঁ) বেড়ে যায়। এর পর ২০১৯ ও ২০২০ সালের হিসাবে জমানো অর্থের পরিমাণ কমতে দেখা যাচ্ছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার মার্কিন নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ কমেছ। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে মার্কিন নাগরিকদের অর্থ। তবে ব্যাপক বেড়েছে ভারতীদের জমানো অর্থ। এক বছরের ব্যবধানে অর্থাৎ ২০১৯-এর তুলনায় ২০২০ সালে ভারতীয় নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ১৮৬ শতাংশ।

২০১৯ সালে ভারতীয় নাগরিকদের জমানো অর্থের পরিমাণ ছিল ৮৯ কোটি ১৯ লাখ সুইস ফ্রাঁ। ২০২০ সালে এর পরিমাণ হয়েছে ২৫৫ কোটি ২৬ লাখ সুইস ফ্রাঁ। তবে সার্বিকভাবে সুইস ব্যাংকগুলোতে বিদেশি নাগরিকদের আমানতের পরিমাণ বেড়েছে।

দীর্ঘকাল যাবৎ নাম-পরিচয় গোপন রেখে অর্থ জমা রাখার জন্য ধনীদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হলো সুইজারল্যান্ড। সুইস ব্যাংকে থাকা এই অর্থের একটি অংশ পাচার হয়ে থাকে বলে ধারণা করা হয়। নাম-পরিচয় গোপন থাকায় সুইস ব্যাংকগুলোতে সারা বিশ্ব থেকেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ রাখা হয়। সুইজারল্যান্ডের সংবিধান এবং ব্যাংকিং আইন অনুযায়ী সেখানে ব্যাংক গ্রাহকদের গোপনীয়তা কঠোরভাবে রক্ষা করা হয়।

২০০২ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী অর্থ পাচার রোধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ব্যাপকভাবে কার্যকর হওয়ার পর বার্ষিক ভিত্তিতে জমা টাকার হিসাব দিচ্ছে সুইজারল্যান্ড। বছর ভিত্তিতে কোন দেশের কত টাকা জমা আছে, সে তথ্য তারা প্রকাশ করছে। তবে কারো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করা হয় না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, সুইস ব্যাংকগুলোতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি অর্থ জমা রাখতে পারেন। তবে সরাসরি বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে সে দেশে জমা করার সুযোগ নেই। কঠোর গোপনীয়তার কারণে অর্থ গচ্ছিত রাখার নিরাপদ স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ড অর্থ পাচারকারীদেরও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হতো।

কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে সুইস ব্যাংকগুলোর এই কঠোর গোপনীয়তার নীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিথিল করতে বাধ্য হয়েছে। সেখানে গচ্ছিত অর্থ যদি কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, সেক্ষেত্রে গ্রাহকের পরিচয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে তারা তথ্য দিতে বাধ্য। এ জন্য সাম্প্রতিক সময়ে অর্থ গচ্ছিত রাখার প্রবণতা কমতে পারে।