ঢাকা ০৬:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা ২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ ফের ১০৮ ডলার, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আরও তীব্র হওয়ার শঙ্কা দু’দিনের মাথায় ফের ভরিতে ২১৫৮ টাকা কমল স্বর্ণের দাম বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে  আমদানির বিদ্যুৎ গিলছে অবৈধ ব্যাটারি অটোরিকশা জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা, ক্ষতিগ্রস্ত একাধিক যুদ্ধবিমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা,  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা জরুরি

 বাংলাদেশে জ্বালানি তেল এবং এলপি গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ানোর ফলে অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  এটি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য, ‘মানবিক অর্থনীতি’ বা জীবনযাত্রার খরচের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হবার আশঙ্কা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও ভোগ্যপণ্যের বাজার, সবখানেই ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে ইতোমধ্যে উচ্চ অবস্থানে থাকা মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
ফাইল ছবি

গত ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে ডিজেলের লিটার ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়;  বরং পুরো অর্থনীতির ব্যয় কাঠামোকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও। ফলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
সংগৃহিত ছবি

তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই বাজারে ছড়িয়ে পড়বে। পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাড়বে, যা সরাসরি খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে প্রতিফলিত হবে। ইতোমধ্যে কাঁচাবাজারে সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে উঠেছে, ডিমের ডজন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরবরাহ খরচ বাড়ায় পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না।

কৃষি খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। দেশে সেচকাজে ব্যাপকভাবে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহৃত হওয়ায় ডিজেলের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়ে। এতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের বাজারে চাপ সৃষ্টি করে। একইভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
ফাইল ছবি

এই পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদরা ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’ বা ব্যয়-জনিত মুদ্রাস্ফীতি,  যেখানে কাঁচামাল বা শ্রমের মজুরির মতো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি পায়। উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন ও বিপণনের প্রতিটি স্তরে ব্যয় বাড়ায় শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হয় ভোক্তাদের। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে।

সরকারি হিসাবে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে এলেও বাস্তবে বাজারে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে আবার উল্টে দিতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি জোরদার করাও জরুরি।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ

এদিকে পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি ইতোমধ্যে জোরালো হয়েছে। মালিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভাড়া সমন্বয় না হলে তারা লোকসানে পড়বেন। তবে ভাড়া বাড়লে এর প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ে, যা আবার মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

এই প্রেক্ষাপটে মানবিক অর্থনীতির প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। শুধু বাজারের নিয়মে সবকিছু ছেড়ে দিলে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা জরুরি।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
সংগৃহিত ছবি

সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে একটি বহুমাত্রিক চাপ তৈরি করেছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সূচকের বিষয় নয়; বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যাতে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও সহনীয় রাখা যায়।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ

আপডেট সময় : ০৭:২৬:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা,  নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা জরুরি

 বাংলাদেশে জ্বালানি তেল এবং এলপি গ্যাসের দাম নতুন করে বাড়ানোর ফলে অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।  এটি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য, ‘মানবিক অর্থনীতি’ বা জীবনযাত্রার খরচের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বৃদ্ধির ফলে অর্থনীতিতে নতুন করে চাপ তৈরি হবার আশঙ্কা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। যা সরাসরি প্রভাব ফেলবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। সাম্প্রতিক এই মূল্যবৃদ্ধি পরিবহন, কৃষি, শিল্প ও ভোগ্যপণ্যের বাজার, সবখানেই ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে ইতোমধ্যে উচ্চ অবস্থানে থাকা মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
ফাইল ছবি

গত ১৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে ডিজেলের লিটার ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি কেবল একটি খাতেই সীমাবদ্ধ নয়;  বরং পুরো অর্থনীতির ব্যয় কাঠামোকে নাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও। ফলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
সংগৃহিত ছবি

তবে বাস্তব চিত্র বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই বাজারে ছড়িয়ে পড়বে। পরিবহন খরচ বাড়ার কারণে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যাড়বে, যা সরাসরি খুচরা বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে প্রতিফলিত হবে। ইতোমধ্যে কাঁচাবাজারে সবজির দাম কেজিপ্রতি ৮০ টাকার ওপরে উঠেছে, ডিমের ডজন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ টাকায়। ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির কারণে সরবরাহ খরচ বাড়ায় পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া বিকল্প থাকছে না।

কৃষি খাতেও এর প্রভাব স্পষ্ট। দেশে সেচকাজে ব্যাপকভাবে ডিজেলচালিত পাম্প ব্যবহৃত হওয়ায় ডিজেলের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়ে। এতে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত খাদ্যদ্রব্যের বাজারে চাপ সৃষ্টি করে। একইভাবে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জেনারেটর ব্যবহারের খরচও বেড়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
ফাইল ছবি

এই পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদরা ‘কস্ট-পুশ ইনফ্লেশন’ বা ব্যয়-জনিত মুদ্রাস্ফীতি,  যেখানে কাঁচামাল বা শ্রমের মজুরির মতো উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক পণ্য ও পরিষেবার দাম বৃদ্ধি পায়। উৎপাদন থেকে শুরু করে পরিবহন ও বিপণনের প্রতিটি স্তরে ব্যয় বাড়ায় শেষ পর্যন্ত এর বোঝা বহন করতে হয় ভোক্তাদের। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই চাপ সবচেয়ে বেশি অনুভব করছে।

সরকারি হিসাবে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে ৮ দশমিক ৭১ শতাংশে এলেও বাস্তবে বাজারে তার প্রতিফলন খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এই নিম্নমুখী প্রবণতাকে আবার উল্টে দিতে পারে। ফলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু জ্বালানির সরবরাহ নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; বরং বাজার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি জোরদার করাও জরুরি।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ

এদিকে পরিবহন খাতে ভাড়া বৃদ্ধির দাবি ইতোমধ্যে জোরালো হয়েছে। মালিকরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভাড়া সমন্বয় না হলে তারা লোকসানে পড়বেন। তবে ভাড়া বাড়লে এর প্রভাব পড়বে সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যয়ে, যা আবার মূল্যস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

এই প্রেক্ষাপটে মানবিক অর্থনীতির প্রশ্নটি সামনে চলে এসেছে। শুধু বাজারের নিয়মে সবকিছু ছেড়ে দিলে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর চাপ অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজারে কৃত্রিম সংকট ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা জরুরি।

তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধি: মানবিক অর্থনীতির চ্যালেঞ্জে নতুন করে মূল্যস্ফীতির চাপ
সংগৃহিত ছবি

সব মিলিয়ে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতিতে একটি বহুমাত্রিক চাপ তৈরি করেছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক সূচকের বিষয় নয়; বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এই সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন সমন্বিত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, যাতে অর্থনীতির ভারসাম্য রক্ষা করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও সহনীয় রাখা যায়।