ঢাকা ০৮:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

জাগো নব আনন্দে ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ

আমিনুল হক ভূইয়া, ঢাকা
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাতের অন্ধকার পেরিয়ে নতুন ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির জীবনে আসে নতুন আশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রমনা বটমূল এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি

ভোর হতেই রমনা বটমূলে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। লাল-সাদা পোশাকে সেজে তারা স্বাগত জানান নতুন বছরকে। ছায়ানট-এর আয়োজনে পরিবেশিত হয় প্রভাতী সংগীত। সম্মেলক কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের গান ও কবিতায় উঠে আসে বাঙালির চেতনা, দ্রোহ ও মানবমুক্তির বার্তা। শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে সংগীত, আবৃত্তি ও পরিবেশনায় তৈরি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক বন্ধন।

অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা-জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, লাঠিখেলা, যাত্রাপালা, সব মিলিয়ে যেন গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য উঠে এসেছে শহরের বুকে। বৈশাখী মেলা, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনায় উৎসব পেয়েছে নতুন মাত্রা।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হচ্ছে চিত্রাঙ্গদা, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সৃষ্ট এক চিরায়ত কাব্যনাট্য। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইটপাথরের এই নগরীতেও বাংলা নববর্ষ হয়ে উঠেছে প্রাণের উৎসব। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে নগরবাসী।

ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাজশাহীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা

বর্ণিল আয়োজনে দেশজুড়ে বর্ষবরণ

আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ বাংলা নববর্ষ। পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন দিনের প্রত্যাশায় দেশজুড়ে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই ছিল উৎসবের আমেজ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় বর্ষবরণের আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ। রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন, মুখোশ, গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ সব মিলিয়ে শোভাযাত্রাগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।

নেত্রকোনায় “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি। জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। পরে বৈশাখী শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং লোকজ মেলার উদ্বোধনের মাধ্যমে উৎসবের নতুন মাত্রা যোগ হয়।

ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ
গোপালগঞ্জে বৈশাখের শোভাযাত্রা

ময়মনসিংহেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আনন্দ শোভাযাত্রায় মোরগ, ঘোড়া, পালকি, ইলিশসহ নানা প্রতীকী উপস্থাপনা নজর কাড়ে সবার। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি গিয়ে শেষ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, যেখানে গান, নাচ ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় লাঠিখেলা, লোকজ সংগীত ও মেলার। একইভাবে গোপালগঞ্জ, নওগাঁ, বরগুনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনব্যাপী চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ খেলাধুলা। ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, হাতপাখা, একতারা, মাটির তৈরি সামগ্রী-এসব উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বাংলার চিরায়ত জীবনধারা।

বান্দরবানেও নববর্ষ উদযাপন পায় ভিন্ন মাত্রা। বাঙালিদের বর্ষবরণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বৈসাবি উৎসব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতি নিয়ে অংশ নেন শোভাযাত্রায়।

ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ
ময়মনসিংহে বৈশাখী শোভাযাত্রা

শেরপুরে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ। গ্রামীণ জীবনের নানা উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে অংশ নিয়ে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছিল উৎসবের ছোঁয়া। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নববর্ষের রঙিন আবহ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলা নববর্ষ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব হয়ে ওঠে সার্বজনীন। নতুন বছরের প্রত্যাশা, আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়েই দেশজুড়ে পালিত হলো পহেলা বৈশাখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জাগো নব আনন্দে ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ

আপডেট সময় : ০৬:২৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

রাতের অন্ধকার পেরিয়ে নতুন ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাঙালির জীবনে আসে নতুন আশা ও সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩। রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল রমনা বটমূল এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি

ভোর হতেই রমনা বটমূলে জড়ো হন নানা বয়সী মানুষ। লাল-সাদা পোশাকে সেজে তারা স্বাগত জানান নতুন বছরকে। ছায়ানট-এর আয়োজনে পরিবেশিত হয় প্রভাতী সংগীত। সম্মেলক কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মাধ্যমে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন কবি-সাহিত্যিকের গান ও কবিতায় উঠে আসে বাঙালির চেতনা, দ্রোহ ও মানবমুক্তির বার্তা। শতাধিক শিল্পীর অংশগ্রহণে সংগীত, আবৃত্তি ও পরিবেশনায় তৈরি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক বন্ধন।

অন্যদিকে শিল্পকলা একাডেমিতে শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজন। লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনা-জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, লাঠিখেলা, যাত্রাপালা, সব মিলিয়ে যেন গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্য উঠে এসেছে শহরের বুকে। বৈশাখী মেলা, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনায় উৎসব পেয়েছে নতুন মাত্রা।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হচ্ছে চিত্রাঙ্গদা, যা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর-এর সৃষ্ট এক চিরায়ত কাব্যনাট্য। পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, ইটপাথরের এই নগরীতেও বাংলা নববর্ষ হয়ে উঠেছে প্রাণের উৎসব। সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে নগরবাসী।

ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাজশাহীতে বৈশাখী শোভাযাত্রা

বর্ণিল আয়োজনে দেশজুড়ে বর্ষবরণ

আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ বাংলা নববর্ষ। পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন দিনের প্রত্যাশায় দেশজুড়ে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই ছিল উৎসবের আমেজ।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় বর্ষবরণের আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ। রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন, মুখোশ, গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ সব মিলিয়ে শোভাযাত্রাগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।

নেত্রকোনায় “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি। জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। পরে বৈশাখী শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং লোকজ মেলার উদ্বোধনের মাধ্যমে উৎসবের নতুন মাত্রা যোগ হয়।

ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ
গোপালগঞ্জে বৈশাখের শোভাযাত্রা

ময়মনসিংহেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আনন্দ শোভাযাত্রায় মোরগ, ঘোড়া, পালকি, ইলিশসহ নানা প্রতীকী উপস্থাপনা নজর কাড়ে সবার। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি গিয়ে শেষ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, যেখানে গান, নাচ ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় লাঠিখেলা, লোকজ সংগীত ও মেলার। একইভাবে গোপালগঞ্জ, নওগাঁ, বরগুনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনব্যাপী চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ খেলাধুলা। ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, হাতপাখা, একতারা, মাটির তৈরি সামগ্রী-এসব উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বাংলার চিরায়ত জীবনধারা।

বান্দরবানেও নববর্ষ উদযাপন পায় ভিন্ন মাত্রা। বাঙালিদের বর্ষবরণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বৈসাবি উৎসব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতি নিয়ে অংশ নেন শোভাযাত্রায়।

ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ
ময়মনসিংহে বৈশাখী শোভাযাত্রা

শেরপুরে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ। গ্রামীণ জীবনের নানা উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে অংশ নিয়ে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছিল উৎসবের ছোঁয়া। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নববর্ষের রঙিন আবহ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলা নববর্ষ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব হয়ে ওঠে সার্বজনীন। নতুন বছরের প্রত্যাশা, আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়েই দেশজুড়ে পালিত হলো পহেলা বৈশাখ।