জাগো নব আনন্দে ইটপাথরের নগর জুড়ে উৎসব আমেজে নববর্ষ বরণ
- আপডেট সময় : ০৬:২৪:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বর্ণিল আয়োজনে দেশজুড়ে বর্ষবরণ
আবহমান বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকারের এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ বাংলা নববর্ষ। পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে নতুন দিনের প্রত্যাশায় দেশজুড়ে বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে পহেলা বৈশাখ। আনন্দ শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, লোকজ মেলা ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে শহর থেকে গ্রাম-সবখানেই ছিল উৎসবের আমেজ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শুরু হয় বর্ষবরণের আয়োজন। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, সাংস্কৃতিক কর্মী ও সাধারণ জনগণ। রঙিন ব্যানার-ফেস্টুন, মুখোশ, গ্রামীণ জীবনের প্রতীকী উপকরণ সব মিলিয়ে শোভাযাত্রাগুলো হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও আকর্ষণীয়।
নেত্রকোনায় “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজন করা হয় দিনব্যাপী কর্মসূচি। জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসব। পরে বৈশাখী শোভাযাত্রা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং লোকজ মেলার উদ্বোধনের মাধ্যমে উৎসবের নতুন মাত্রা যোগ হয়।

ময়মনসিংহেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। আনন্দ শোভাযাত্রায় মোরগ, ঘোড়া, পালকি, ইলিশসহ নানা প্রতীকী উপস্থাপনা নজর কাড়ে সবার। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে শোভাযাত্রাটি গিয়ে শেষ হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, যেখানে গান, নাচ ও আবৃত্তিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার পাশাপাশি আয়োজন করা হয় লাঠিখেলা, লোকজ সংগীত ও মেলার। একইভাবে গোপালগঞ্জ, নওগাঁ, বরগুনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় দিনব্যাপী চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ খেলাধুলা। ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, হাতপাখা, একতারা, মাটির তৈরি সামগ্রী-এসব উপস্থাপনায় ফুটে ওঠে বাংলার চিরায়ত জীবনধারা।
বান্দরবানেও নববর্ষ উদযাপন পায় ভিন্ন মাত্রা। বাঙালিদের বর্ষবরণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বৈসাবি উৎসব মিলিয়ে তৈরি হয় এক অনন্য সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ তাদের নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও সংস্কৃতি নিয়ে অংশ নেন শোভাযাত্রায়।

শেরপুরে তিন দিনব্যাপী লোকজ মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে নববর্ষ। গ্রামীণ জীবনের নানা উপকরণ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে অংশ নিয়ে মানুষ নতুন বছরকে বরণ করে নেয় আনন্দ-উচ্ছ্বাসে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও ছিল উৎসবের ছোঁয়া। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। ক্যাম্পাসজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নববর্ষের রঙিন আবহ।
সব মিলিয়ে বলা যায়, বাংলা নববর্ষ শুধু একটি দিন নয়, এটি বাঙালির চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণে এই উৎসব হয়ে ওঠে সার্বজনীন। নতুন বছরের প্রত্যাশা, আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়েই দেশজুড়ে পালিত হলো পহেলা বৈশাখ।




















