ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

আছিয়ার পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ালো নৃত্যশিল্পী সংস্থা

আমিনুল হক
  • আপডেট সময় : ১০:২৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫ ৩২৩ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শিল্পীরা আগাগোড়াই মানবিকমূল্যবোধ লালন করেন। বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার ইফতার মাহফিলে তার প্রমান পাওয়া গেলো।  ইফতার আয়োজনে সম্প্রতি আলোড়নসৃষ্টিকারী মাগুরার অমানবিক ও বর্বরতা শিকার মৃত আছিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া আছিয়ার পরিবারের প্রতি সহায়তা নিয়ে পাশেষ দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়  সংস্থাটি।

বুধবার ঢাকার পুরানা পল্টনে অনুষ্ঠিত সংস্থার ইফতার মাহফিলে দেশবরেণ্য নৃত্যশিল্প ও নৃত্যগুরু ছাড়াও উদীয়মান নৃত্যশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

বর্ণীয়াণ নৃত্যগুরু আমানুল হক বলেন, সম্প্রতি মাগুরার আছিয়া ঘটনা আমাদের তথা শিল্পসমাজকে বিস্মিত করেছে। আমরা এই অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। আমরা কেন, গোটা জাতিই নারীর প্রতি  প্রতিসহিংতার বিচার চায়।

সংস্থার সভাপতি মিনু হক নৃত্য গুরুমাতা রাহিজা খানম ঝুনুকে স্মরণ করে বলেন, এই সংগঠনের জন্য অসামান্য অবদান রয়েছে গুরুমা  ঝুনুর। তার যে সাংগঠনিক দজ্ঞতা ছিলো তা আমাদের চিরদিন প্রেরণা যোগাবে। শিল্পীদের ছায়া তলে রাখার এক অসামান্য শক্তি ছিলো তার। আমরা সংগঠনের সকল শিল্পদের নিয়ে গুরুমার শেখানো পথে এক সঙ্গে  হাটতে চাই।

সংগঠনের ট্রেজারার বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী সংগঠনের প্রবীণ শিল্পীসহ সকলের প্রতি সম্মান জানান।   শিল্পীদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা। যারা মেধা দিয়ে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে শিল্পীদের এক ছাতার তলায়  জায়গা করে দিয়ে গিয়েছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বেবী বলেন, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা নৃত্যশিল্পীদের কল্যাণমূলক একটি প্রতিষ্ঠান।

বেবী বলেন, ১৯৭৮ সালে সংগঠনটির গোড়া পত্তন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জি.এ মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক আলতামাস আহমেদ। নৃত্যশিল্পীদের কল্যাণ সাধন করা, তাদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের জন্য সচেষ্ট হওয়া এবং শিল্পীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধুত্ব গড়ে তুলে সবাইকে একাত্ম করাই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য।

অপর নৃত্যুশিল্পী দোলা মজুমদার শৈশবকাল থেকেই নাচের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নাচের তালিম নিয়েছে আরেক নৃত্যগুরুমাতা ফারহানা চৌধুরী বেবীর কাছে। দোলা বলেন, বেবী আপা না হলে তার জীবনে শিল্পী  হওয়া কষ্টকর হতো।

গুরুমাতাকে বই উপহার

বাংলাদেশে শুদ্ধ নৃত্যচর্চা এবং তার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে নিয়মিত নৃত্যানুষ্ঠান মঞ্চায়ন ও নৃত্যের রসদীপ্ত বোদ্ধা দর্শক সৃষ্টি করাও এর এক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আমাত্যু কাজ করে গেছেন, নৃত্যগুরুমাতা রাহিজা খানম ঝুনু। সংস্থাটিকে নৃত্যশিল্পদের হূদয়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, নৃত্য কেবল বিনোদন নয়, নৃত্য জীবনের কথা বলে, সমাজের কথা বলে, সমৃদ্ধ দেশ গড়া ও মানবতার কথা বলে। নৃত্যের মাধ্যমে বাঙালির ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদি উপস্থাপন করে শিল্পরা মানুষের হৃদমন্দিরে জায়গা করে নিয়েছেন। রাহিজা খানম ঝুনু ছিলেন এমনই একজন সংগঠক। তার পুরান ঢাকার বাড়িটি ছিলো শিল্পীদের তীর্থস্থান।

গুরু মারতার সঙ্গে দোলা মজুমদার

ঝুনু ১৯৫৬ সালে বুলবুল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস (বাফা) ভর্তি হন। তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী ঝো এনলাইয়ের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চিরোকালের বন্ধুত্ব নৃত্যনাট্যে অভিনয় করেন ঝুনু। ১৯৬০ সালে বাফা-তে একজন প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৮ সালে এর অধ্যক্ষ হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আছিয়ার পরিবারের প্রতি সহায়তার হাত বাড়ালো নৃত্যশিল্পী সংস্থা

আপডেট সময় : ১০:২৯:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

শিল্পীরা আগাগোড়াই মানবিকমূল্যবোধ লালন করেন। বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার ইফতার মাহফিলে তার প্রমান পাওয়া গেলো।  ইফতার আয়োজনে সম্প্রতি আলোড়নসৃষ্টিকারী মাগুরার অমানবিক ও বর্বরতা শিকার মৃত আছিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে একমিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এছাড়া আছিয়ার পরিবারের প্রতি সহায়তা নিয়ে পাশেষ দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়  সংস্থাটি।

বুধবার ঢাকার পুরানা পল্টনে অনুষ্ঠিত সংস্থার ইফতার মাহফিলে দেশবরেণ্য নৃত্যশিল্প ও নৃত্যগুরু ছাড়াও উদীয়মান নৃত্যশিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

বর্ণীয়াণ নৃত্যগুরু আমানুল হক বলেন, সম্প্রতি মাগুরার আছিয়া ঘটনা আমাদের তথা শিল্পসমাজকে বিস্মিত করেছে। আমরা এই অমানবিক ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি। আমরা কেন, গোটা জাতিই নারীর প্রতি  প্রতিসহিংতার বিচার চায়।

সংস্থার সভাপতি মিনু হক নৃত্য গুরুমাতা রাহিজা খানম ঝুনুকে স্মরণ করে বলেন, এই সংগঠনের জন্য অসামান্য অবদান রয়েছে গুরুমা  ঝুনুর। তার যে সাংগঠনিক দজ্ঞতা ছিলো তা আমাদের চিরদিন প্রেরণা যোগাবে। শিল্পীদের ছায়া তলে রাখার এক অসামান্য শক্তি ছিলো তার। আমরা সংগঠনের সকল শিল্পদের নিয়ে গুরুমার শেখানো পথে এক সঙ্গে  হাটতে চাই।

সংগঠনের ট্রেজারার বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী সংগঠনের প্রবীণ শিল্পীসহ সকলের প্রতি সম্মান জানান।   শিল্পীদের প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা। যারা মেধা দিয়ে এই সংগঠনটি প্রতিষ্ঠা করে শিল্পীদের এক ছাতার তলায়  জায়গা করে দিয়ে গিয়েছেন, তাদের গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বেবী বলেন, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা নৃত্যশিল্পীদের কল্যাণমূলক একটি প্রতিষ্ঠান।

বেবী বলেন, ১৯৭৮ সালে সংগঠনটির গোড়া পত্তন। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জি.এ মান্নান এবং সাধারণ সম্পাদক আলতামাস আহমেদ। নৃত্যশিল্পীদের কল্যাণ সাধন করা, তাদের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ের জন্য সচেষ্ট হওয়া এবং শিল্পীদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বন্ধুত্ব গড়ে তুলে সবাইকে একাত্ম করাই সংস্থার মূল উদ্দেশ্য।

অপর নৃত্যুশিল্পী দোলা মজুমদার শৈশবকাল থেকেই নাচের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নাচের তালিম নিয়েছে আরেক নৃত্যগুরুমাতা ফারহানা চৌধুরী বেবীর কাছে। দোলা বলেন, বেবী আপা না হলে তার জীবনে শিল্পী  হওয়া কষ্টকর হতো।

গুরুমাতাকে বই উপহার

বাংলাদেশে শুদ্ধ নৃত্যচর্চা এবং তার প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে নিয়মিত নৃত্যানুষ্ঠান মঞ্চায়ন ও নৃত্যের রসদীপ্ত বোদ্ধা দর্শক সৃষ্টি করাও এর এক বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে আমাত্যু কাজ করে গেছেন, নৃত্যগুরুমাতা রাহিজা খানম ঝুনু। সংস্থাটিকে নৃত্যশিল্পদের হূদয়ের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, নৃত্য কেবল বিনোদন নয়, নৃত্য জীবনের কথা বলে, সমাজের কথা বলে, সমৃদ্ধ দেশ গড়া ও মানবতার কথা বলে। নৃত্যের মাধ্যমে বাঙালির ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য ইত্যাদি উপস্থাপন করে শিল্পরা মানুষের হৃদমন্দিরে জায়গা করে নিয়েছেন। রাহিজা খানম ঝুনু ছিলেন এমনই একজন সংগঠক। তার পুরান ঢাকার বাড়িটি ছিলো শিল্পীদের তীর্থস্থান।

গুরু মারতার সঙ্গে দোলা মজুমদার

ঝুনু ১৯৫৬ সালে বুলবুল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস (বাফা) ভর্তি হন। তৎকালীন চীনা প্রধানমন্ত্রী ঝো এনলাইয়ের সম্মানে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চিরোকালের বন্ধুত্ব নৃত্যনাট্যে অভিনয় করেন ঝুনু। ১৯৬০ সালে বাফা-তে একজন প্রশিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন এবং ১৯৯৮ সালে এর অধ্যক্ষ হন।