ঢাকা ০৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

বিরহী কেকা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩ ২৮৮ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিঝুম রাত্রির অন্ধকারে বিরহী কেকা গাছের ঘন পাতার আড়ালে মুখ লুকিয়ে নীরবে কাঁদে । ভয়ে কাঁপে তির তির করে । আলো খোঁজে ওর দু’নয়ন। অবশেষে অমানিশা ফিকে হয়ে অস্পষ্ট ভোর হয় মিষ্টি আলোর ভেজা পরশ নিয়ে।

পাতার আড়াল থেকে মুখ তুলে ঠান্ডা হাওয়ায় নিশ্বাস নেয় কেকা। আস্তে আস্তে বন্ধুর মত উদ্ভাসিত ভোর তার আলোকে বিরহ কাতর কেকাকে জড়িয়ে ধরে। বৈশাখী তপ্ত হাওয়া প্রকট হতে থাকে। তবুও খুশিতে এ ডাল ওডালে উড়ে প্রান ভরে আলোর সুধা পান করে শিশু মন কেকা ।

ওর জগতটা খুব বড় নয়। কাজী বাড়ীর আম বাগান ওর ঘুরে বেড়ানোর গন্ডি। কোন এক তপস্বী পাখির ধ্যান ভঙ্গ করে ও অভিশপ্ত! তাই মানিয়ে নিয়েছে তার বাগানটিকে। এক বুক কষ্টে প্রখর রদ্দুরে উঁচু ডালে বসে ঘাসের তীব্র সবুজ রঙ, নদীর সাদা জল, দূরে জেলেদের মাছ ধরা, রাখাল, গরু আরো অনেক কিছু দেখে সে। ভালো লাগে।

প্রেমহীন কেকার শাপমোচন কি হবে না কোনদিন? ওর সরল, নিষ্পাপ মন অজান্তেই বিঘ্ন ঘটিয়েছিল তপস্বী পাখীর। মনে মনে ভাবে এ কী পরিহাস? সে তো অবুঝ আর সবুজ মনের ছিল। তাহলে কেন এমন নিষ্ঠুরতা!

গরম হাওয়ার নিঃশ্বাসে ওর ঘোর কাটে সত্যি কি অভিশাপ হয়? কুহু যে নিজেই প্রতারণা করেছে তার সাথে। প্রকৃতির অমোঘ টানে তারা কাছে এসেছিল। কত দিন কত আলোর বন্যায় মালা পরিয়েছিল সে তাকে। কত গাছ ঘুরে মিষ্টি ফল এনে দিয়েছিল। এমনি ভাবে কাটছিল তার স্বপ্নময় দিন।

তারপর এলো সেই অশুভ ক্ষণ! একদিন বুঝতে পারে কেকা, কুহুর কুহক মায়ায় বন্দী ছিল সে। পালিয়ে গেছে তার মনপাখী। শুন্য দৃষ্টি , শুন্য খড় পাতার বাসা মিথ্যে হল এক নিমেষে ! অদৃশ্য কালো মেঘ ঢেকে দিল তার পৃথীবি! ছিল কি শুধুই ছলনা? ভালোবাসা কি সত্যি ছিলনা এক হিন্দু? কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তার।

একদিন ভরা জ্যোৎস্নায় একটি মিষ্টি ডুমুর ফল এনে ঠোঁটে করে খাইয়ে তার বুকের পালকে ঠোঁট মুছে কুহু বলেছিল সে শুধু কেকার। পরের দিন ভোর হল তার অচেনা। কুহু পালিয়ে গেছে। সেই থেকে রাত্রি হলে কেকা কাঁদে, ভয় পায়! সব হারানোর ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে ওর নরম শরীর।

দিনের আলোর গরম হাওয়া , নীলাকাশ , শীতল ভোর আর স্বচ্ছ প্রকৃতি ভালোবাসে ও। আলো মেখে নেয় দু’চোখ ভরে। স্নান করে আলোয়। মুখ ধুয়ে নেয় আলোয়। আলোই যে তার কোল, স্বপ্নের ঠিকানা !

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিরহী কেকা

আপডেট সময় : ০৯:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩

নিঝুম রাত্রির অন্ধকারে বিরহী কেকা গাছের ঘন পাতার আড়ালে মুখ লুকিয়ে নীরবে কাঁদে । ভয়ে কাঁপে তির তির করে । আলো খোঁজে ওর দু’নয়ন। অবশেষে অমানিশা ফিকে হয়ে অস্পষ্ট ভোর হয় মিষ্টি আলোর ভেজা পরশ নিয়ে।

পাতার আড়াল থেকে মুখ তুলে ঠান্ডা হাওয়ায় নিশ্বাস নেয় কেকা। আস্তে আস্তে বন্ধুর মত উদ্ভাসিত ভোর তার আলোকে বিরহ কাতর কেকাকে জড়িয়ে ধরে। বৈশাখী তপ্ত হাওয়া প্রকট হতে থাকে। তবুও খুশিতে এ ডাল ওডালে উড়ে প্রান ভরে আলোর সুধা পান করে শিশু মন কেকা ।

ওর জগতটা খুব বড় নয়। কাজী বাড়ীর আম বাগান ওর ঘুরে বেড়ানোর গন্ডি। কোন এক তপস্বী পাখির ধ্যান ভঙ্গ করে ও অভিশপ্ত! তাই মানিয়ে নিয়েছে তার বাগানটিকে। এক বুক কষ্টে প্রখর রদ্দুরে উঁচু ডালে বসে ঘাসের তীব্র সবুজ রঙ, নদীর সাদা জল, দূরে জেলেদের মাছ ধরা, রাখাল, গরু আরো অনেক কিছু দেখে সে। ভালো লাগে।

প্রেমহীন কেকার শাপমোচন কি হবে না কোনদিন? ওর সরল, নিষ্পাপ মন অজান্তেই বিঘ্ন ঘটিয়েছিল তপস্বী পাখীর। মনে মনে ভাবে এ কী পরিহাস? সে তো অবুঝ আর সবুজ মনের ছিল। তাহলে কেন এমন নিষ্ঠুরতা!

গরম হাওয়ার নিঃশ্বাসে ওর ঘোর কাটে সত্যি কি অভিশাপ হয়? কুহু যে নিজেই প্রতারণা করেছে তার সাথে। প্রকৃতির অমোঘ টানে তারা কাছে এসেছিল। কত দিন কত আলোর বন্যায় মালা পরিয়েছিল সে তাকে। কত গাছ ঘুরে মিষ্টি ফল এনে দিয়েছিল। এমনি ভাবে কাটছিল তার স্বপ্নময় দিন।

তারপর এলো সেই অশুভ ক্ষণ! একদিন বুঝতে পারে কেকা, কুহুর কুহক মায়ায় বন্দী ছিল সে। পালিয়ে গেছে তার মনপাখী। শুন্য দৃষ্টি , শুন্য খড় পাতার বাসা মিথ্যে হল এক নিমেষে ! অদৃশ্য কালো মেঘ ঢেকে দিল তার পৃথীবি! ছিল কি শুধুই ছলনা? ভালোবাসা কি সত্যি ছিলনা এক হিন্দু? কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে তার।

একদিন ভরা জ্যোৎস্নায় একটি মিষ্টি ডুমুর ফল এনে ঠোঁটে করে খাইয়ে তার বুকের পালকে ঠোঁট মুছে কুহু বলেছিল সে শুধু কেকার। পরের দিন ভোর হল তার অচেনা। কুহু পালিয়ে গেছে। সেই থেকে রাত্রি হলে কেকা কাঁদে, ভয় পায়! সব হারানোর ব্যথায় কুঁকড়ে ওঠে ওর নরম শরীর।

দিনের আলোর গরম হাওয়া , নীলাকাশ , শীতল ভোর আর স্বচ্ছ প্রকৃতি ভালোবাসে ও। আলো মেখে নেয় দু’চোখ ভরে। স্নান করে আলোয়। মুখ ধুয়ে নেয় আলোয়। আলোই যে তার কোল, স্বপ্নের ঠিকানা !