বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পাশে যারা ছিলো তারাও দোষী, নেপথ্যে কারা তা একদিন উন্মোচন হবে
- আপডেট সময় : ০৯:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ অগাস্ট ২০২১ ২৩৪ বার পড়া হয়েছে
ছবি সংগ্রহ
জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
বাহাত্তরের ১০ জানুয়ারি স্বদেশের মাটিতে পা রাখেন জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মূলত তখন থেকেই ষড়যন্ত্রের শুরু। মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিভক্তি হলো। জাসদ সৃষ্টি হলো। একটা চেষ্টা ছিল, বঙ্গবন্ধুকে জনগণের কাছ থেকে দূরে সরানোর। সেই চেষ্টা যখন সফল হলো না, তখন
তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটালো। বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ একদিন উন্মোচন হবে। যা কেবল সময়ের ব্যাপার বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
জাতির পিতার ৪৬তম শাহাদতবার্ষিকী এবং ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে সোমবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় সভাপতির ভাষণে এসব কথা বলেন শেখ
হাসিনা। তিনি বলেন, আজ খুনিদের বিচার হয়েছে। এই ঘটনার যারা ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছিল তারাও সমান অপরাধী। আমি সবই জানি। বিচারটা জরুরি ছিল। ধীরে ধীরে সবটাই বের হবে।
জাতির পিতার খুনিদের বিচার ও পলাতকদের অবস্থান নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এখনও কয়েকজন পলাতক, তার মধ্যে ডালিম পাকিস্তানেই রয়েছে। রশীদ পাকিস্তান এবং লিবিয়া দুই
জায়গায়ই থাকে। মাঝে মাঝে ডালিম কেনিয়াতেও যায় বা অন্যান্য দেশে যায়। সে পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়েই চলে। আর রাশেদ, নূর, একজন কানাডায়, আরেকজন আমেরিকায় রয়েছে। মোসলেহউদ্দিন তার খোঁজ মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, মাঝে মাঝে পাওয়া যায় না। আজীবন
সংগ্রামী বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পর রাষ্ট্র গঠনে যখন আত্মনিয়োগ করেছিলেন, তখনই ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার হয় বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।
এসময় শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু হত্যার নেপথ্য ষড়যন্ত্রকারীদের বের হয়ে আসাটা কেবল সময়ের ব্যাপার উল্লেখ করে বলেন, এই হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল, ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা তখনকার পত্র-পত্রিকাগুলো পড়লেই অনেক কিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে। একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ গড়তে যেখানে বছরের পর বছর লেগে যায়, সেখানে একটি বছরও সময়
দেয়া হলোনা, সঙ্গে সঙ্গে সমালোচনা শুরু হলো। ধৈর্য্য না ধরে নানা সমালোচনা, নানা কথা লেখা হলো। কারা এগুলো লিখেছিল, কাদের খুশী করতে এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য গ্রাউন্ড প্রিপেয়ার কারা করছিল? আত্মস্বীকৃত খুনী ফারুক-রশিদের বিবিসিতে প্রদত্ত ইন্টারভিউ-এর উদ্ধৃতি তুলে

ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছে এবং যারা পাশে ছিল ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী। আমি সবসময় বলেছি বাংলাদেশের দুঃখী নিরন্ন জনগণের খাদ্য,
বস্ত্র, চিকিৎসা এবং উন্নত জীবনের ব্যবস্থা, যেটা জাতির পিতার আজীবন লালিত স্বপ্ন উল্লেখ করে শেখ হাসিনার বলেন, সেই ব্যবস্থা যখন করতে পারবো, সেদিনই এই হত্যার প্রকৃত প্রতিশোধ নিতে
পারবো। অনুষ্ঠানের শুরুতে ’৭৫ এর ১৫ আগস্টে শহিদ জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাঁদের পরিবারের শাহাদতবরণকারি সদস্যদের সম্মানে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।






















