ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১৭০ বার পড়া হয়েছে

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাপাবেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা রাজধানীসহ দেশের নগরগুলোকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতপরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়শীর্ষক জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অধিবেশনে এসব মতামত উঠে আসে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান . নজরুল ইসলাম।

অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক কে এম সাকিল নেওয়াজ বলেন, ঢাকা শহর মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প হবেইছোট বা বড়, আজ বা কাল। প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা প্রস্তুত? উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নকশা অনুমোদনের ব্যত্যয়, সরু রাস্তা, গ্যাস বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁকি এবং উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান নগর কাঠামোর পুনর্গঠন এখন বেশি জরুরি। তিনি পরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন দর্শনের কথা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে . নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ খাতে সমস্যার পরিমাণ বাড়লেও এখনও কোনো পরিবেশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি। ফলে পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলবায়ু ঝুঁকি নগর সংকটের মতো বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন সুপারিশ প্রণয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “শুধু নীতির সংস্কার যথেষ্ট নয়, পরিবেশসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সাতটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বায়ু, শব্দ পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন; নগরায়ন ভৌত পরিকল্পনা; যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থা; উপকূল নদী ব্যবস্থাপনা, এই বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশিবিদেশি ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

পরিবেশবিদদের মতে, কৃষি, পানি, বন, জীববৈচিত্র্য উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ না করলে পরিবেশ সংকট আরও গভীর হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং নাগরিক সচেতনতা একত্রিত হলে একটি পরিবেশবান্ধব, সহনশীল টেকসই বাংলাদেশের পথ নির্মাণ সম্ভব।

সম্মেলনে দেশবিদেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন, যা পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

আপডেট সময় : ০৫:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বাপাবেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা রাজধানীসহ দেশের নগরগুলোকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতপরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়শীর্ষক জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অধিবেশনে এসব মতামত উঠে আসে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান . নজরুল ইসলাম।

অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক কে এম সাকিল নেওয়াজ বলেন, ঢাকা শহর মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প হবেইছোট বা বড়, আজ বা কাল। প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা প্রস্তুত? উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নকশা অনুমোদনের ব্যত্যয়, সরু রাস্তা, গ্যাস বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁকি এবং উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান নগর কাঠামোর পুনর্গঠন এখন বেশি জরুরি। তিনি পরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন দর্শনের কথা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে . নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ খাতে সমস্যার পরিমাণ বাড়লেও এখনও কোনো পরিবেশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি। ফলে পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলবায়ু ঝুঁকি নগর সংকটের মতো বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন সুপারিশ প্রণয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “শুধু নীতির সংস্কার যথেষ্ট নয়, পরিবেশসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সাতটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বায়ু, শব্দ পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন; নগরায়ন ভৌত পরিকল্পনা; যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থা; উপকূল নদী ব্যবস্থাপনা, এই বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশিবিদেশি ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

পরিবেশবিদদের মতে, কৃষি, পানি, বন, জীববৈচিত্র্য উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ না করলে পরিবেশ সংকট আরও গভীর হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং নাগরিক সচেতনতা একত্রিত হলে একটি পরিবেশবান্ধব, সহনশীল টেকসই বাংলাদেশের পথ নির্মাণ সম্ভব।

সম্মেলনে দেশবিদেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন, যা পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।