ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তারেক রহমানের জামায়াত আমিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ১৮ তারিখ সকালে এমপিদের, বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ গোপন প্রেম, গোপন বিয়ে থেকে করুণ পরিণতি আলোঝলমলে জীবন আর করুণ সমাপ্তি নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে মোদি নয়, থাকবেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা   সার্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানাবে বিএনপি অপরাধ দমনে কঠোর বার্তায় আশ্বস্ত সাধারণ মানুষ নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীর হামলায় নিহত অন্তত ৩২ যে কারণে তারেক রহমানের শপথ অনুণ্ঠানে নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতি অনিশ্চিত নতুন সরকারের শপথে থাকবেন প্রায় এক হাজার অতিথি

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬ ১১৯ বার পড়া হয়েছে

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাপাবেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা রাজধানীসহ দেশের নগরগুলোকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতপরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়শীর্ষক জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অধিবেশনে এসব মতামত উঠে আসে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান . নজরুল ইসলাম।

অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক কে এম সাকিল নেওয়াজ বলেন, ঢাকা শহর মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প হবেইছোট বা বড়, আজ বা কাল। প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা প্রস্তুত? উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নকশা অনুমোদনের ব্যত্যয়, সরু রাস্তা, গ্যাস বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁকি এবং উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান নগর কাঠামোর পুনর্গঠন এখন বেশি জরুরি। তিনি পরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন দর্শনের কথা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে . নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ খাতে সমস্যার পরিমাণ বাড়লেও এখনও কোনো পরিবেশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি। ফলে পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলবায়ু ঝুঁকি নগর সংকটের মতো বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন সুপারিশ প্রণয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “শুধু নীতির সংস্কার যথেষ্ট নয়, পরিবেশসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সাতটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বায়ু, শব্দ পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন; নগরায়ন ভৌত পরিকল্পনা; যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থা; উপকূল নদী ব্যবস্থাপনা, এই বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশিবিদেশি ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

পরিবেশবিদদের মতে, কৃষি, পানি, বন, জীববৈচিত্র্য উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ না করলে পরিবেশ সংকট আরও গভীর হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং নাগরিক সচেতনতা একত্রিত হলে একটি পরিবেশবান্ধব, সহনশীল টেকসই বাংলাদেশের পথ নির্মাণ সম্ভব।

সম্মেলনে দেশবিদেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন, যা পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি

আপডেট সময় : ০৫:১৩:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

বাপাবেন জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন

পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় খণ্ডকালীন বিচ্ছিন্ন প্রকল্পের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, সমন্বিত উদ্যোগ এবং ধারাবাহিক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, পরিবেশ সুরক্ষা রাজধানীসহ দেশের নগরগুলোকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।

শনিবার (১০ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিতপরিবেশ সংক্রান্ত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং করণীয়শীর্ষক জাতীয় পরিবেশ সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের বিশেষ অধিবেশনে এসব মতামত উঠে আসে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নগর উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান . নজরুল ইসলাম।

অবসরপ্রাপ্ত ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক কে এম সাকিল নেওয়াজ বলেন, ঢাকা শহর মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। ভূমিকম্প হবেইছোট বা বড়, আজ বা কাল। প্রশ্ন হলো, আমরা কতটা প্রস্তুত? উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ, নকশা অনুমোদনের ব্যত্যয়, সরু রাস্তা, গ্যাস বৈদ্যুতিক লাইনের ঝুঁকি এবং উদ্ধার সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এসব বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নের ওপর তিনি জোর দেন।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ঢাকা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। নতুন অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে বিদ্যমান নগর কাঠামোর পুনর্গঠন এখন বেশি জরুরি। তিনি পরিকল্পিত নগরায়ন, শহরের বিকেন্দ্রীকরণ, গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন দর্শনের কথা তুলে ধরেন।

সভাপতির বক্তব্যে . নজরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ খাতে সমস্যার পরিমাণ বাড়লেও এখনও কোনো পরিবেশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়নি। ফলে পরিবেশ দূষণ, জীববৈচিত্র্য হ্রাস, জলবায়ু ঝুঁকি নগর সংকটের মতো বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে মূল্যায়ন সুপারিশ প্রণয়ন সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “শুধু নীতির সংস্কার যথেষ্ট নয়, পরিবেশসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে সাতটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে বায়ু, শব্দ পানি দূষণ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; দুর্যোগ জলবায়ু পরিবর্তন; নগরায়ন ভৌত পরিকল্পনা; যাতায়াত পরিবহন ব্যবস্থা; উপকূল নদী ব্যবস্থাপনা, এই বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশিবিদেশি ১১৭ জন বিশেষজ্ঞ পরিবেশ বিষয়ক গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং মাঠপর্যায়ের আন্দোলনকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

পরিবেশবিদদের মতে, কৃষি, পানি, বন, জীববৈচিত্র্য উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ না করলে পরিবেশ সংকট আরও গভীর হবে। তবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা এবং নাগরিক সচেতনতা একত্রিত হলে একটি পরিবেশবান্ধব, সহনশীল টেকসই বাংলাদেশের পথ নির্মাণ সম্ভব।

সম্মেলনে দেশবিদেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন, যা পরিবেশ সুরক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।