ঢাকা ০৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬, ১২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ফুটবলের পর ফুটসালেও সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, সাবিনাকে নিয়ে গর্বিত বাফুফে সভাপতি নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের অনুমতি, ভারতের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ বাংলাদেশের দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে বিএনপি, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই প্রধান অঙ্গীকার: তারেক রহমান বাংলাদেশে ‘বিধর্মী সংসদ সদস্য থাকতে পারে না’ জামায়াতের জনসভা ঘিরে বিতর্ক তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা সিনিয়রে আনসার, জুনিয়রে বিকেএসপি চ্যাম্পিয়ন কোকোর ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে বনানীতে কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান অনিশ্চয়তায় অমর একুশে বইমেলা, পহেলা ফেব্রুয়ারিতে একদিনের প্রতীকী আয়োজন দেশপ্রেমের নামে গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠক করছে তারা: চরমোনাই পীর ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার দৌরাত্ম্য: সড়কে  বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে ফরিদপুরে অবৈধ অস্ত্র কারখানায় সেনা অভিযান, একাধিক সরঞ্জাম উদ্ধার

জাতিকে গড়ার জন্য শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা অপরিহার্য : শেখ হাসিনা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অগাস্ট ২০২১ ২৩৫ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা আজীবন শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন। অথচ এদেশেরই কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আব্বা যেমন সারা জীবন দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সন্তান হিসেবে আমরাও। একদিকে যেমন পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি, কিন্তু আমরা কখনও সেটাকে কষ্ট মনে করিনি। আমার মা সেটা করতে দেননি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোনও হা-হুতাশ বা অতিরিক্ত চাওয়া, সেগুলো আমাদের ছিল না। খুব সাধারণভাবে জীবনযাপন করা, একটা আদর্শ নিয়ে চলা, দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা এটাই আমাদের শিক্ষা। সেই শিক্ষাই কামাল সব সময় অনুসরণ করেছে।

বৃহস্পতিবার ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার, ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদও উপস্থিত ছিলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব থেকে ট্র্যাজেডি কামালের জন্য, যে নূর (বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী) আর কামাল একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে কাজ করেছে।

যখন বাসা আক্রমণ করে কামাল নিচের বারান্দায় চলে যায়, ও যখন দেখে নূর, হুদা-এরা এক সঙ্গে ঢুকছে, তখন তাদেরকে বলেছিল, আপনারা এসে গেছেন খুব ভালো হয়েছে। দ্যাখেন বাসা

কারা আক্রমণ করেছে। এই কথা শেষ করতে পারেনি, ওই নূরের হাতের অস্ত্রই গর্জে ওঠে। ওখানেই কামালকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা এই বাংলাদেশে ঘটে গেছে। ১৫ অগাস্ট যদি আজকে বাঙালির জীবনে না ঘটত, তবে এই বাঙালি অনেক আগেই বিশ্বে একটা মর্যাদা নিয়ে

চলত। এবং এই হত্যার পর বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশে ঘোষণা দিয়েছিল, যদিও সেটা টেকে নাই।

কাজেই চক্রান্তটা কোথায়, কীভাবে ছিল সেটা নিশ্চয় দেশের মানুষ এখন এতদিনে উপলব্ধি করতে পারছে। আর কতবড় বিশ্বাসঘাতকতা, সেটাও নিশ্চয় উপলব্ধি করতে পারেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার, ২০২১’ বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আখতার হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটা চক্রান্ত করে কামালকে গুলি করা হয়। তাকে হত্যারও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সে যখন বেঁচে যায়, তখন তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, অথচ শেখ কামাল রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, জাতির পিতার ছেলে। অত্যন্ত সাদাসিধা জীবনযাপন করতো সে। কখনও বাবা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি সে জন্য অর্থ-সম্পদের দিকে তার কোনও দৃষ্টি ছিল না। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকেও তার কোনও দৃষ্টি ছিল না।

তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তোলা, দেশের মানুষের পাশে থাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অঙ্গন; এসব কিছুই ছিল শেখ কামালের কাছে সব থেকে বড়। সে একজন সংস্কৃতিমনা, আবার

রাজনীতিবিদ। কখনও বিলাস-ব্যসন-এসব দিকে তার দৃষ্টি ছিল না। এটা আমার বাবা-মায়ের শিক্ষা ছিল। তাছাড়া একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, সেখানে তো বিলাসিতা করার সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে জাতির জন্য আমার বাবা এত ত্যাগ স্বীকার করলেন, বছরের পর বছর জেল খাটলেন; সেখানে এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষই ষড়যন্ত্র করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

জাতিকে গড়ার জন্য শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চা অপরিহার্য : শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০৬:৩২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ অগাস্ট ২০২১

ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতা আজীবন শোষিত বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করেছেন। অথচ এদেশেরই কিছু মানুষ ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

আব্বা যেমন সারা জীবন দেশের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সন্তান হিসেবে আমরাও। একদিকে যেমন পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি, কিন্তু আমরা কখনও সেটাকে কষ্ট মনে করিনি। আমার মা সেটা করতে দেননি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোনও হা-হুতাশ বা অতিরিক্ত চাওয়া, সেগুলো আমাদের ছিল না। খুব সাধারণভাবে জীবনযাপন করা, একটা আদর্শ নিয়ে চলা, দেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবাসা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করা এটাই আমাদের শিক্ষা। সেই শিক্ষাই কামাল সব সময় অনুসরণ করেছে।

বৃহস্পতিবার ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন এবং শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার, ২০২১ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হারুনুর রশীদও উপস্থিত ছিলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব থেকে ট্র্যাজেডি কামালের জন্য, যে নূর (বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরী) আর কামাল একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে কাজ করেছে।

যখন বাসা আক্রমণ করে কামাল নিচের বারান্দায় চলে যায়, ও যখন দেখে নূর, হুদা-এরা এক সঙ্গে ঢুকছে, তখন তাদেরকে বলেছিল, আপনারা এসে গেছেন খুব ভালো হয়েছে। দ্যাখেন বাসা

কারা আক্রমণ করেছে। এই কথা শেষ করতে পারেনি, ওই নূরের হাতের অস্ত্রই গর্জে ওঠে। ওখানেই কামালকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা এই বাংলাদেশে ঘটে গেছে। ১৫ অগাস্ট যদি আজকে বাঙালির জীবনে না ঘটত, তবে এই বাঙালি অনেক আগেই বিশ্বে একটা মর্যাদা নিয়ে

চলত। এবং এই হত্যার পর বাংলাদেশকে ইসলামিক রিপাবলিক অব বাংলাদেশে ঘোষণা দিয়েছিল, যদিও সেটা টেকে নাই।

কাজেই চক্রান্তটা কোথায়, কীভাবে ছিল সেটা নিশ্চয় দেশের মানুষ এখন এতদিনে উপলব্ধি করতে পারছে। আর কতবড় বিশ্বাসঘাতকতা, সেটাও নিশ্চয় উপলব্ধি করতে পারেন।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের শহীদ শেখ কামাল অডিটরিয়ামে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে ‘শেখ কামাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পুরস্কার, ২০২১’ বিতরণ করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আখতার হোসেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর একটা চক্রান্ত করে কামালকে গুলি করা হয়। তাকে হত্যারও চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সে যখন বেঁচে যায়, তখন তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, অথচ শেখ কামাল রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর ছেলে, জাতির পিতার ছেলে। অত্যন্ত সাদাসিধা জীবনযাপন করতো সে। কখনও বাবা প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি সে জন্য অর্থ-সম্পদের দিকে তার কোনও দৃষ্টি ছিল না। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিকেও তার কোনও দৃষ্টি ছিল না।

তিনি বলেন, দেশকে গড়ে তোলা, দেশের মানুষের পাশে থাকা বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক অঙ্গন; এসব কিছুই ছিল শেখ কামালের কাছে সব থেকে বড়। সে একজন সংস্কৃতিমনা, আবার

রাজনীতিবিদ। কখনও বিলাস-ব্যসন-এসব দিকে তার দৃষ্টি ছিল না। এটা আমার বাবা-মায়ের শিক্ষা ছিল। তাছাড়া একটা যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ, সেখানে তো বিলাসিতা করার সুযোগ নেই।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে জাতির জন্য আমার বাবা এত ত্যাগ স্বীকার করলেন, বছরের পর বছর জেল খাটলেন; সেখানে এই দেশের কিছু সংখ্যক মানুষই ষড়যন্ত্র করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করলো।