রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০২:২৩ পূর্বাহ্ন

Michelle Bachelet: ঢাকা সফরের প্রথম দিনেই চার মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক মিশেলের

Reporter Name
  • প্রকাশ: সোমবার, ১৫ আগস্ট, ২০২২
  • ৪৯

মিশেল ব্যাশেলেত

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলাদেশ সফরের প্রথম দিনেই চারজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশেলেত। এসব বৈঠকে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে জাতিসংঘ। বাংলাদেশ সে প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। এর আগে চার দিনের সফরে ঢাকায় আসেন।

রবিবার বাংলাদেশ সফরে এসেই কর্মব্যস্ত দিন কাটান। এদিন মিশেল ব্যাশেলেত আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিদেশমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠকে বসেন। রাতে বিদেশমন্ত্রকের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে নানা মাত্রায় আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রীরা এ সময় জনগণের মানবাধিকার সুরক্ষা ও বিকাশে সরকারের আন্তরিক চেষ্টার উদ্যোগগুলো তুলে ধরেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য মিশেল ব্যাশেলেত বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। বিষয়টি আরও ত্বরান্বিত ও কার্যকর করতে তিনি নতুন একটি প্রক্রিয়া গঠনের প্রস্তাব করেন।

বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মিশেল ব্যাশেলেতের সঙ্গে আলোচনা শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দী অবস্থায় মারা যাওয়া লেখক মুশতাক আহমেদ সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘মুশতাক সম্বন্ধে যখন উনি প্রশ্ন করেছেন, আমি পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা তাঁকে পড়ে শুনিয়েছি। তারপর তিনি আর প্রশ্ন করেন নাই।’ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তিনি সাংবাদিকদের যে কথাগুলো জানিয়েছিলেন, তা মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকেও জানানো হয়।

গুমের প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ৭৬টি গুমের যে কথা এসেছে, সেগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে দেখেছে। তাতে কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। বিচারকাজকে এড়ানোর জন্য তারা পালিয়ে বেড়াচ্ছে। সেগুলোর নমুনা আমরা তাদের দিয়েছি।

গুম এবং সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মতো বিষয়ে বৈঠকে ব্যাখ্যা দেওয়ার হয়েছে। বাংলাদেশে যা হয়, তাই বলেছি। এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সেস (গুম) শব্দ বাংলাদেশে নাই। কিছু লোক বলেছে, ৭৬ জন লোক নাকি গত ১০ বছরে নিখোঁজ হয়েছে। তারা বলেছে সরকারই নাকি নিখোঁজ করেছে। ৭৬ জনের ১০ জনকে আবার দেখা গেল, পাওয়া গেছে ঘোরাঘুরি করছে। আর বাকিদের এখনো আমরা ঠিক জানি না। এটা তাদের জানানো হয়েছে, বলেন ড. মোমেন।

বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের বিষয়টি নিজে আলোচনার কথা উল্লেখ করে ড. মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং তারা বলে নাই, আমরা নিজের থেকে বলেছি। কিছু লোককে কিল করেছে (বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগ রয়েছে) এবং তাদের তথ্য পেলে আমরা নিশ্চয় তদন্ত করে দেখব।’

বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যম ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই এমন অভিযোগের বিষয়ে জাতিসংঘের কাছে সরকারের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। ড. মোমেন বলেন, কেউ কেউ মনে করে বোধ হয় মিডিয়া নিয়ন্ত্রণাধীন। অনেকগুলো নিবন্ধিত মিডিয়া আছে, কিন্তু সরকারের মিডিয়া ছাড়া কোনো মিডিয়াই নাই বিষয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২৮০০ মিডিয়া আছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.

More News Of This Category
© All rights reserved © 2017 voiceekattor
কারিগরি সহযোগিতায়: সোহাগ রানা
11223