ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে ঢাকা-নয়াদিল্লির নতুন প্রত্যাশা খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব

Lija truss : ব্রিটেনের সবচেয়ে কম সময়ের প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড লিজ ট্রাসের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২ ৩৩০ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ছবি সংগ্রহ

বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। সেই সঙ্গে তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে কম সময় পদে থাকা প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ডও করলেন। এদিন লিজ যখন তার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বিদায়ী ভাষণ পড়তে শুরু করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে হাল ছাড়ার কথা জানাতে তার সময় লাগল মাত্র ৮৯ সেকেন্ড। অথচ একদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, যে যা-ই বলুক হাল ছাড়ার লোক নই আমি। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। যুদ্ধং দেহি ভাবমূর্তির সেই লিজ ট্রাসের আত্মবিশ্বাসে টোল পড়ল মাত্র ৮৯ সেকেন্ডেই।

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

লিজ ট্রাস হুংকার দিয়েছিলেন তিনি আয়রন লেডি খ্যাত মার্গারেট থ্যাচারের মতো কঠোর হবেন। ১৯ অক্টোবরও পার্লামেন্টে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে হুংকার দিয়েছিলেন, আমি ফাইটার, চলে যেতে আসেনি। কিন্তু পারলেন না। মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় বিদায় নিলেন ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে। পদত্যাগ করে ২০০ বছরে ব্রিটেনের সবচেয়ে কম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রেকর্ড করলেন।

২০ অক্টোবর, ব্রিটেন সময় দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে তিনি দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ের সামনে এসে ঘোষণা করেন, তিনি আর দায়িত্বে থাকছেন না। লিজ ট্রাস ৪৫ দিনের মধ্যে নিজে ডুবেছেন, নিজ দলকে ডুবিয়েছেন, একই সঙ্গে নিজ দেশের অর্থনীতিকে তলানিকে নিয়ে গেছেন।

কর ছাড়ের অপরিকল্পিত বিশাল প্যাকেজ : লিজ ট্রাসের সময়ের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ৪৫ বিলিয়ন পাউন্ডের (৫০ বিলিয়ন ডলার) কর ছাড়ের প্যাকেজ। যা তিনি চার দশকের মধ্যে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও কোনো প্রকার বিশ্লেষণ ছাড়াই ব্যক্ত করেন এবং এর কোনো বিকল্প অর্থায়নের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেননি। এতে মূদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়াসহ অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয় অর্ধ শতাব্দীতে এত বড় অঙ্কের কর ছাড়ের প্রভাবে।

এযাবৎকালে পাউন্ডের দাম সর্বনিম্নে : লিজ ট্রাসের অনুদানবিহীন বিশাল কর ছাড়ের পরিকল্পনা পাউন্ড ও ব্রিটিশ বন্ড খাতকে দেউলিয়া করেছে। যা ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম সর্বকালের সর্বনিম্নে এবং আসন্ন সংকটের আশঙ্কায় দ্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বাধ্য হয় পেনশন খাতের অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করতে।

পার্লামেন্ট ভোটে বিশৃঙ্খলা : লিজ ট্রাস প্রশাসন, দল এবং পার্লামেন্ট – সর্বত্রই তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চরম ব্যর্থ হন তিনি। বরং একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার বিরুদ্ধেই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম সময়ে এমপিদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ এবং তাকে উৎখাতের চেষ্টা করার গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়।

উচ্চ পদস্তদের প্রস্থান : ৪৫ দিনের মধ্যে দু’জন শীর্ষ মন্ত্রীকে হারান লিজ ট্রাস। প্রথমে অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ওঠা বিতর্ক সামলাতে অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ারতেংকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন ট্রাস। এরপর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যানের পদত্যাগ করেন। যা প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে ট্রাস। এর মধ্যে দিয়ে তিনি দলের উপর তার কর্তৃত্ব চালানোর চেষ্টা করলে ক্ষোভ তৈরি হয়। এতে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপ এবং বাজার নিয়ে বেসামাল পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৪ অক্টোবর কোয়ার্টেংকে বরখাস্ত করেন ট্রাস। যিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং মিত্র বলে পরিচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Lija truss : ব্রিটেনের সবচেয়ে কম সময়ের প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ড লিজ ট্রাসের

আপডেট সময় : ০৫:৩৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০২২

ছবি সংগ্রহ

বৃহস্পতিবার ইস্তফা দিলেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস। সেই সঙ্গে তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে কম সময় পদে থাকা প্রধানমন্ত্রীর রেকর্ডও করলেন। এদিন লিজ যখন তার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে বিদায়ী ভাষণ পড়তে শুরু করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে হাল ছাড়ার কথা জানাতে তার সময় লাগল মাত্র ৮৯ সেকেন্ড। অথচ একদিন আগেই তিনি বলেছিলেন, যে যা-ই বলুক হাল ছাড়ার লোক নই আমি। শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। যুদ্ধং দেহি ভাবমূর্তির সেই লিজ ট্রাসের আত্মবিশ্বাসে টোল পড়ল মাত্র ৮৯ সেকেন্ডেই।

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক

লিজ ট্রাস হুংকার দিয়েছিলেন তিনি আয়রন লেডি খ্যাত মার্গারেট থ্যাচারের মতো কঠোর হবেন। ১৯ অক্টোবরও পার্লামেন্টে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে হুংকার দিয়েছিলেন, আমি ফাইটার, চলে যেতে আসেনি। কিন্তু পারলেন না। মাত্র ৪৫ দিনের মাথায় বিদায় নিলেন ক্ষমতার মসনদ ছেড়ে। পদত্যাগ করে ২০০ বছরে ব্রিটেনের সবচেয়ে কম সময়ের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে রেকর্ড করলেন।

২০ অক্টোবর, ব্রিটেন সময় দুপুর ১টা ৩২ মিনিটে তিনি দশ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের কার্যালয়ের সামনে এসে ঘোষণা করেন, তিনি আর দায়িত্বে থাকছেন না। লিজ ট্রাস ৪৫ দিনের মধ্যে নিজে ডুবেছেন, নিজ দলকে ডুবিয়েছেন, একই সঙ্গে নিজ দেশের অর্থনীতিকে তলানিকে নিয়ে গেছেন।

কর ছাড়ের অপরিকল্পিত বিশাল প্যাকেজ : লিজ ট্রাসের সময়ের সবচেয়ে বড় ভুল ছিল ৪৫ বিলিয়ন পাউন্ডের (৫০ বিলিয়ন ডলার) কর ছাড়ের প্যাকেজ। যা তিনি চার দশকের মধ্যে তীব্র মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও কোনো প্রকার বিশ্লেষণ ছাড়াই ব্যক্ত করেন এবং এর কোনো বিকল্প অর্থায়নের চিন্তা-ভাবনা তুলে ধরেননি। এতে মূদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়াসহ অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা তৈরি হয় অর্ধ শতাব্দীতে এত বড় অঙ্কের কর ছাড়ের প্রভাবে।

এযাবৎকালে পাউন্ডের দাম সর্বনিম্নে : লিজ ট্রাসের অনুদানবিহীন বিশাল কর ছাড়ের পরিকল্পনা পাউন্ড ও ব্রিটিশ বন্ড খাতকে দেউলিয়া করেছে। যা ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম সর্বকালের সর্বনিম্নে এবং আসন্ন সংকটের আশঙ্কায় দ্য ব্যাংক অব ইংল্যান্ড বাধ্য হয় পেনশন খাতের অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে হস্তক্ষেপ করতে।

পার্লামেন্ট ভোটে বিশৃঙ্খলা : লিজ ট্রাস প্রশাসন, দল এবং পার্লামেন্ট – সর্বত্রই তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে চরম ব্যর্থ হন তিনি। বরং একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার বিরুদ্ধেই সবচেয়ে সংক্ষিপ্ততম সময়ে এমপিদের অসন্তুষ্টি প্রকাশ এবং তাকে উৎখাতের চেষ্টা করার গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়।

উচ্চ পদস্তদের প্রস্থান : ৪৫ দিনের মধ্যে দু’জন শীর্ষ মন্ত্রীকে হারান লিজ ট্রাস। প্রথমে অর্থনৈতিক কর্মসূচি নিয়ে ওঠা বিতর্ক সামলাতে অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ারতেংকে সরিয়ে দিতে বাধ্য হন ট্রাস। এরপর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুয়েলা ব্রেভারম্যানের পদত্যাগ করেন। যা প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাসের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া অনুগতদের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি করে ট্রাস। এর মধ্যে দিয়ে তিনি দলের উপর তার কর্তৃত্ব চালানোর চেষ্টা করলে ক্ষোভ তৈরি হয়। এতে বাড়তে থাকা রাজনৈতিক চাপ এবং বাজার নিয়ে বেসামাল পরিস্থিতির মধ্যে গত ১৪ অক্টোবর কোয়ার্টেংকে বরখাস্ত করেন ট্রাস। যিনি তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং মিত্র বলে পরিচিত।