ঢাকা ০২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

Dhaka-Delhi: শেখ হাসিনার দিল্লী সফরে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ৫০৭ বার পড়া হয়েছে
ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত দিল্লি। বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের সময় শেখ হাসিনার দিল্লী সফর অন্য যেকোন সময়ের সফরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ভারত। সাবেক কূটনীতিক পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, শেখ হাসিনার সরকারের সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ভারত। অর্থনীতির কঠিন সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন।

শেখ হাসিনার ভারত সফরে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ববনার কথা জানালেন, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। রবিবার অপরাহ্নে বিদেশ মন্ত্রকে সাংবাদিকে এসব তথ্য তুলে ধরেন। এসময় ড. মোমেন বলেন, জল ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, রেলওয়ে, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত এ সব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন হায়দ্রাবাদ হাউজে। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, জনযোগাযোগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ প্রভৃতি অধিক গুরুত্ব পাবে। এদিন দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে।

সফর প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করবেন। ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনারের মধ্যে দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি রাজঘাট গান্ধী সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিদেশ মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, রেলপথমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, বিদেশ প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, জলসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিব, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী রয়েছেন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, বিদেশষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ৭ সেপ্টেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিজনেস ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ইভেন্টে অংশ নেবেন।

শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে সর্বশেষ ভারত সফর করেন। পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক ভার্চুয়াল সামিটে অংশগ্রহণ করেন। ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সফর করেন। সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Dhaka-Delhi: শেখ হাসিনার দিল্লী সফরে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ভাবনা

আপডেট সময় : ০৮:৪৯:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বরণে প্রস্তুত দিল্লি। বিশ্ব রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের সময় শেখ হাসিনার দিল্লী সফর অন্য যেকোন সময়ের সফরের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে ভারত। সাবেক কূটনীতিক পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমকে বলছেন, শেখ হাসিনার সরকারের সাথে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে ভারত। অর্থনীতির কঠিন সময়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করেন।

শেখ হাসিনার ভারত সফরে সাতটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সইয়ের সম্ববনার কথা জানালেন, বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। রবিবার অপরাহ্নে বিদেশ মন্ত্রকে সাংবাদিকে এসব তথ্য তুলে ধরেন। এসময় ড. মোমেন বলেন, জল ব্যবস্থাপনা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, রেলওয়ে, আইন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রভৃতি ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্পর্কিত এ সব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক করবেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন হায়দ্রাবাদ হাউজে। বৈঠকে বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। বৈঠকে দুদেশের পারস্পরিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, জনযোগাযোগ, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন, নদীর অববাহিকাভিত্তিক পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সীমান্ত সুরক্ষা, নিরাপত্তা সহযোগিতা, মাদক চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ প্রভৃতি অধিক গুরুত্ব পাবে। এদিন দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করবে।

সফর প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশগ্রহণ করবেন। ৬ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ভবনে গার্ড অব অনারের মধ্যে দিয়ে তার আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি রাজঘাট গান্ধী সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানাবেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিদেশ মন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, রেলপথমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা, বিদেশ প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, জলসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্ত্রকের সচিব, ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী রয়েছেন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, বিদেশষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ৭ সেপ্টেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বিজনেস ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ভারত ও বাংলাদেশের মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ইভেন্টে অংশ নেবেন।

শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে সর্বশেষ ভারত সফর করেন। পরবর্তীতে করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এক ভার্চুয়াল সামিটে অংশগ্রহণ করেন। ২০২১ সালের মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং ডিসেম্বর মাসে রাষ্ট্রপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০তম জন্মবার্ষিকী, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী এবং ভারত-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সফর করেন। সফর শেষে আগামী ৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনা ঢাকায় ফিরবেন।