ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

Bratachari  : ব্রতচারী বাংলার গান ঐক্যবদ্ধ-জাতীয়চেতনার গান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৩ ৬৬৪২ বার পড়া হয়েছে

গুরু সদয় দত্ত : ফাইল ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গুরুসদয় দত্ত নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রতচারী আন্দোলনের সুদীর্ঘ ইতিহাস। ব্রত পালন থেকে ‘ব্রতচারী’ শব্দের উৎপত্তি। ১৯৩২ সালে গুরুসদয় দত্ত-এর সূত্রপাত করেন। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম এবং নাগরিকত্ববোধ তৈরী করা। এই আন্দোলনের কার্যক্রম প্রচার করার জন্য তিনি ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেঙ্গল ব্রতচারী সমিতি’ যার মুখপত্র ব্রতচারী বার্ত্তা। তাঁর জন্ম ১৮৮২ সালের ১০ মে বর্তমান বাংলাদেশের সিলেটে|

 

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ, শিক্ষাবিদ

ব্রতচারী আন্দোলন বাংলার আত্মিক ও সামাজিক উৎকর্ষ সাধনের একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। বীরভূমে কর্মরত অবস্থায় গুরুসদয় দত্ত পরিচালিত শিক্ষাশিবিরের (ফেব্রুয়ারি ১৯৩১) পথ ধরে ১৯৩২ সালে এর সূচনা হয়। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ ও বয়সনির্বিশেষে সব দেশের মানুষের মধ্যে একটা বৈশ্বিক নাগরিকত্ববোধ ও জাতীয়চেতনা প্রতিষ্ঠা করা।

সঙ্ঘবদ্ধভাবে জাতীয় ও লোকসংস্কৃতি, বিশেষত লোকনৃত্য ও লোকসঙ্গীত চর্চার মাধ্যমে শরীর, মন ও আত্মাকে বিকশিত করা এবং দেশ ও মানবসেবায় সপ্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করা ছিল এই আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য। গুরুসদয় দত্ত ‘বাংলা ব্রতচারী সমিতি’ গঠন করেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশসহ অনেক স্থানে এ আন্দোলন ব্যাপক বিস্তার লাভ করে।

এমনকি ভারতবর্ষের বাইরেও, বিশেষত ইউরোপে এ আন্দোলন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং সেখানকার অনেকেই এতে অংশগ্রহণ করেন। এই আন্দোলনের সূত্রে ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন। তৎকালীন ইংরেজ সরকারও এর সপ্রশংস সমর্থন ছিল। ব্রতচারী আন্দোলনের মূল কার্যালয় ছিল কলকাতার ১২ নং লাউডন স্ট্রিটে।

ব্রতচারিগণকে জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দ এই পঞ্চব্রতে দীক্ষিত হয়ে চরিত্র গঠন ও দেশসেবায় আত্মোৎসর্গ করতে হতো। ব্রতচারী সাধনা চারটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল যথা-চরিত্র, কৃত্য, সঙ্ঘ ও নৃত্য। ব্রতচারী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে নিম্নরূপ প্রতিজ্ঞা করতে হতো,

ব্রত লয়ে সাধব মোরা বাংলাদেশের কাজ
তরুণতার সজীব ধারা আনবো জীবন-মাঝ
চাই আমাদের শক্ত দেহ, মুক্ত উদার মন।
রীতিমতো পালবো মোরা মোদের প্রতিপণ॥

ব্রতচারীকে আরও তিনটি পণ করতে হতো:
আমি বাংলাকে ভালবাসি
আমি বাংলার সেবা করবো
আমি বাংলার ব্রতচারী হব।

অখন্ড বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রতচারী সমিতি গড়ে উঠেছিল। তন্মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা ব্রতচারী সমিতি, কালীঘাট উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় ব্রতচারী সঙ্ঘ (কলকাতা) উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সর্বভারতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাউথ ইন্ডিয়া ব্রতচারী সোসাইটি এবং সর্বভারতীয় ব্রতচারী সমাজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Bratachari  : ব্রতচারী বাংলার গান ঐক্যবদ্ধ-জাতীয়চেতনার গান

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৩

গুরুসদয় দত্ত নামটির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্রতচারী আন্দোলনের সুদীর্ঘ ইতিহাস। ব্রত পালন থেকে ‘ব্রতচারী’ শব্দের উৎপত্তি। ১৯৩২ সালে গুরুসদয় দত্ত-এর সূত্রপাত করেন। যার মূল উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় চেতনা, দেশপ্রেম এবং নাগরিকত্ববোধ তৈরী করা। এই আন্দোলনের কার্যক্রম প্রচার করার জন্য তিনি ১৯৩৪ সালে প্রতিষ্ঠা করেন ‘বেঙ্গল ব্রতচারী সমিতি’ যার মুখপত্র ব্রতচারী বার্ত্তা। তাঁর জন্ম ১৮৮২ সালের ১০ মে বর্তমান বাংলাদেশের সিলেটে|

 

ড. বিরাজলক্ষী ঘোষ, শিক্ষাবিদ

ব্রতচারী আন্দোলন বাংলার আত্মিক ও সামাজিক উৎকর্ষ সাধনের একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা। বীরভূমে কর্মরত অবস্থায় গুরুসদয় দত্ত পরিচালিত শিক্ষাশিবিরের (ফেব্রুয়ারি ১৯৩১) পথ ধরে ১৯৩২ সালে এর সূচনা হয়। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল জাতি-ধর্ম-বর্ণ, স্ত্রী-পুরুষ ও বয়সনির্বিশেষে সব দেশের মানুষের মধ্যে একটা বৈশ্বিক নাগরিকত্ববোধ ও জাতীয়চেতনা প্রতিষ্ঠা করা।

সঙ্ঘবদ্ধভাবে জাতীয় ও লোকসংস্কৃতি, বিশেষত লোকনৃত্য ও লোকসঙ্গীত চর্চার মাধ্যমে শরীর, মন ও আত্মাকে বিকশিত করা এবং দেশ ও মানবসেবায় সপ্রতিজ্ঞ হয়ে কাজ করা ছিল এই আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য। গুরুসদয় দত্ত ‘বাংলা ব্রতচারী সমিতি’ গঠন করেছিলেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশসহ অনেক স্থানে এ আন্দোলন ব্যাপক বিস্তার লাভ করে।

এমনকি ভারতবর্ষের বাইরেও, বিশেষত ইউরোপে এ আন্দোলন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয় এবং সেখানকার অনেকেই এতে অংশগ্রহণ করেন। এই আন্দোলনের সূত্রে ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে একটা সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন। তৎকালীন ইংরেজ সরকারও এর সপ্রশংস সমর্থন ছিল। ব্রতচারী আন্দোলনের মূল কার্যালয় ছিল কলকাতার ১২ নং লাউডন স্ট্রিটে।

ব্রতচারিগণকে জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য ও আনন্দ এই পঞ্চব্রতে দীক্ষিত হয়ে চরিত্র গঠন ও দেশসেবায় আত্মোৎসর্গ করতে হতো। ব্রতচারী সাধনা চারটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল যথা-চরিত্র, কৃত্য, সঙ্ঘ ও নৃত্য। ব্রতচারী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে নিম্নরূপ প্রতিজ্ঞা করতে হতো,

ব্রত লয়ে সাধব মোরা বাংলাদেশের কাজ
তরুণতার সজীব ধারা আনবো জীবন-মাঝ
চাই আমাদের শক্ত দেহ, মুক্ত উদার মন।
রীতিমতো পালবো মোরা মোদের প্রতিপণ॥

ব্রতচারীকে আরও তিনটি পণ করতে হতো:
আমি বাংলাকে ভালবাসি
আমি বাংলার সেবা করবো
আমি বাংলার ব্রতচারী হব।

অখন্ড বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ব্রতচারী সমিতি গড়ে উঠেছিল। তন্মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলা ব্রতচারী সমিতি, কালীঘাট উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয় ব্রতচারী সঙ্ঘ (কলকাতা) উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সর্বভারতীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সাউথ ইন্ডিয়া ব্রতচারী সোসাইটি এবং সর্বভারতীয় ব্রতচারী সমাজ।