ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

Bangladesh : বাংলাদেশে শুরু হলো বিজয়ের মাস

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২ ৩৫৪ বার পড়া হয়েছে

রায়ের বাজার বদ্ধভূমি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

পহেলা ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির গর্বের বিজয়ের মাস। হৃদয়ে রক্ষণের পাশাপাশি আনন্দের এই যৌথ কাব্যে বরাবরের মতো উদ্বেলিত বাঙালি। সকল শ্রেণীপেশার মানুষের আত্মাত্যাগ এবং শহিদদের আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করেন শিল্পী, ইতিহাসবিদ।

১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল কুখ্যাত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তারা কাতারে কাতারে মানুষকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং নারীদের সম্ভ্রম রুটে নেয়।

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মানুষ কাতারে কাতারে সীমান্ত পারি দিয়ে পাজর ঘেষা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ শরাণার্থীদের কল্যাণে নানা রকমের পদক্ষেপ নেন। তৎকালীন ত্রিপুরাবাসীও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ৭১’র ত্রিপুরায় ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।

ভারত সরকার প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা এবং মুক্তিযুদ্ধের অংশ নিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। টানা ন’ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বাক্ষর এবারের বিজয়ের মাস নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি শিল্পী সমাজের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে দু’বাংলার শিল্পীরা জীবনমুখী সঙ্গীত পরিবেশ করে মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষকে সাহস ও উদ্দীপ্ত রেখেছিল বলে জানালেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং রবীন্দ্র ভারতী থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী প্রতিথযশা রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক সাগরিকা জামালী।

শিল্পী সাগরিকা জামালী

বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতাসংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় বলে উচ্চারণ করেন, লেখক ও ইতিহাসবিদ রবিউল আলম। তিনি শহিদবদ্ধিজীবীদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

বিজয়ের ঊষালগ্নে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের সহযোগিতায় দেশের মেধাবী, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবীদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেওয়ার এ ধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোনো নজির বিশ্বে নেই।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পন করে। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর লালসবুজে খচিত পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।


১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে।

১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি।

মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের তরফে সবিস্তার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

Bangladesh : বাংলাদেশে শুরু হলো বিজয়ের মাস

আপডেট সময় : ০৮:৪১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর ২০২২

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঢাকা

পহেলা ডিসেম্বর। বাঙালি জাতির গর্বের বিজয়ের মাস। হৃদয়ে রক্ষণের পাশাপাশি আনন্দের এই যৌথ কাব্যে বরাবরের মতো উদ্বেলিত বাঙালি। সকল শ্রেণীপেশার মানুষের আত্মাত্যাগ এবং শহিদদের আত্মার প্রতি শান্তি কামনা করেন শিল্পী, ইতিহাসবিদ।

১৯৭১ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাতের অন্ধকারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাপিয়ে পড়েছিল কুখ্যাত পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। তারা কাতারে কাতারে মানুষকে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং নারীদের সম্ভ্রম রুটে নেয়।

বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলের মানুষ কাতারে কাতারে সীমান্ত পারি দিয়ে পাজর ঘেষা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়ে আশ্রয় নেয়। সে সময়ের মুখ্যমন্ত্রী শচীন্দ্র লাল সিংহ শরাণার্থীদের কল্যাণে নানা রকমের পদক্ষেপ নেন। তৎকালীন ত্রিপুরাবাসীও সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। ৭১’র ত্রিপুরায় ১৫ লাখের বেশি বাংলাদেশি শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে।

ভারত সরকার প্রায় ১ কোটি শরণার্থীকে আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা এবং মুক্তিযুদ্ধের অংশ নিতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। টানা ন’ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ আর দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বাক্ষর এবারের বিজয়ের মাস নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পাশাপাশি শিল্পী সমাজের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। স্বাধীনবাংলা বেতার কেন্দ্র ছাড়াও দেশের অভ্যন্তরে এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকে করে দু’বাংলার শিল্পীরা জীবনমুখী সঙ্গীত পরিবেশ করে মুক্তিযোদ্ধা এবং সাধারণ মানুষকে সাহস ও উদ্দীপ্ত রেখেছিল বলে জানালেন, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান এবং রবীন্দ্র ভারতী থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী প্রতিথযশা রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ও গবেষক সাগরিকা জামালী।

শিল্পী সাগরিকা জামালী

বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ ঘটনা ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতাসংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় বলে উচ্চারণ করেন, লেখক ও ইতিহাসবিদ রবিউল আলম। তিনি শহিদবদ্ধিজীবীদের আত্মার শান্তি কামনা করেন।

বিজয়ের ঊষালগ্নে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের সহযোগিতায় দেশের মেধাবী, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবীদের নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেওয়ার এ ধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোনো নজির বিশ্বে নেই।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৬ ডিসেম্বর। এদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পন করে। স্বাধীন জাতি হিসেবে সমগ্র বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর লালসবুজে খচিত পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।


১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে।

১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’ বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজি।

মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের তরফে সবিস্তার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।