ঢাকা ০১:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলএনজি টার্মিনাল সচলে আরও পাঁচ দিন দেশজুড়ে গ্যাস সংকট তীব্র, বাসা-বাড়ি, শিল্প ও যানবাহনে চরম ভোগান্তি পরিবেশের মারাত্মক প্রভাবে হুমকির মুখে সুন্দরবন সশস্ত্র বাহিনীকে দলীয় হাতিয়ার হতে দেওয়া হবে না বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান ভারতের ঐতিহাসিক বৌদ্ধ তীর্থস্থান সারনাথ স্বামীর নির্যাতন বরিশালে আওয়ামী লীগ নেত্রীর আত্মহত্যা রোববার বঙ্গভবন ছাড়ছেন সদ্যবিদায়ি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ মেনে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি: স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর পদত্যাগপত্রে যা লিখেন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের গুঞ্জন আপনারা যেমন শুনেছেন, আমিও তেমনই শুনেছি  স্পিকার রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন, জোরালো হচ্ছে রাজনৈতিক আলোচনা

Asia’s largest Saraswati Puja : ঢাকার জগন্নাথ হল মাঠে ‘এশিয়ার বৃহৎ সরস্বতি পূজা’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৩ ১০৭৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হল এশিয়ার সবচেয়ে বড় সরস্বতি পূজা। ৭০টি প্রতিমার একটি স্থাপন করা হয়েছে জগন্নাথ হল পুকুরের মাঝখানে। জলবায়ু সংকট এবং লোকজশিল্পকে রক্ষার তাগিদ থেকেই এই সরস্বতি মূর্তিটি তৈরির উপকরণ হিসাবে বেচে নেওয়া হয়েছে বাঁশ ও পাট : নিজস্ব ছবি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুকুরের মাঝ খানে ৪০ ফুট উচ্চার সরস্বতি দেবীর মূর্তি

জলবায়ু সংকটে পরিবান্ধব সরস্বতি দেবির মূর্তি তৈরির উপকরণ পাট ও বাশ

অনিরুদ্ধ

মাঠে চারদিকে পূজামণ্ডপ। নানা রঙের এসব মন্ডপ ঘিরে ভক্তের ভিড় বাড়তে থাকাল সেই সকাল থেকেই। অনেকেই বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে কাগজ বিছিয়ে নানা বয়সের ভক্তরা যার যার মত বসে পড়েন। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ অনেক মণ্ডপের সামনে ভিড়।

কুয়াচ্ছন্ন সকালেই হাজারো বক্তের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক জগন্নাথ হল মাঠ। এখানেই অনুষ্ঠিত হল এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতি পূজা। মাঠে চারদিকে প্রায় একশ’ মন্ডপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যা, বাণী ও সুরের দেবী সরস্বতি পূজায় পুরহিদ সংকট দেখা দেয়। পূজা অর্চনা শেষে প্রায় আটটা নাগাদ শুরু অঞ্চলি দেন ভক্তরা।

তারপর শিশুদের হাতে খড়ি। অতিমারির কারণে দুই বছর এই মহাআয়োজন বন্ধ ছিল। পূজা উদযাপন হয়েছে নামে মাত্র। এবারে করোনামুক্ত পরিবেশে সকল ধরণের উৎসবই মাথা তুলে স্বকীয় জানান দিচ্ছে। সরস্বতি পূজাও এর ব্যতিক্রম নয়। তখনও কুয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। শিশির স্নাত মাঠেই কাগজ বিছিয়ে সার সার ভক্তে দল। হাতে খড়ি দিতে শিশুরা আসে বাবা-মায়ের হাত ধরে। তার মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। পুরোপুহিত মশায়ের কাছে হাতে খড়ি নিতে সে কি আগ্রহ শিশুদের।

জগন্নাত হল পুকুরের মাঝ খানে জলের আসনে বসে আছেন ৪০ ফুট উচ্চতার দেবী সরস্বতি। চারুকলা অনুষদের পড়ুয়ারা একমাস ধরে বিরামহীন কাজ করে পরিবেশ বান্ধ প্রতিমা গড়ে তুলেছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, জলবায়ু সংকটে গোটা বিশ্ব আজ কাঁপছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলার লোকজ শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে এবারে তাদের প্রতিমার গড়ার উপকরণ বেচে নেওয়া হয়েছে বাঁশ ও পাঠ দিয়ে।

হল মাঠে কথা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পুড়ুয়া মৌলী দের সঙ্গে। সঙ্গী বন্ধু তুরিং দেওয়ান। মৌলীর সেকি উচ্ছ্বাস। বললেন, দুই বছর আমাদের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন থেমে ছিল। গোটা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সকল ধরণের উৎসব আয়োজন বন্ধ থাকে।

দুটো বছর সরস্বতি দেবীর আরাধনা প্রাণ খুলে করা সম্ভব হয়নি। দুই বছর পর এবারে মনপ্রাণ খুলে আমরা বিদ্যা, বাণী ও সুরের দেবীর পুজা করতে পেরে নিজেকে হাল্কা মনে করছেন। মৌলি বলেন, এটা কেবল হিন্দু ধর্মাবলিদের মধ্যেই এখন আর সীমা বদ্ধ নেই। সরস্বতি পূজা ঘিরে সকল ধর্মের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে জগন্নাথ হল মাঠে।

বন্ধু তুরিংয়ের উচ্ছ্বাসটা দেখেছেন পাশের আরও অনেকে। বলছেন, এশিয়ার সবচেয়ে বড় আসর এটি। এবারেই প্রথম অংশ গ্রহণ তার। এখানে না আসলে ধারণাই করতে পারতেন না, বাংলাদেশের এতো বড় আয়োজন হয়ে থাকে।

জগন্নাথ হলের দক্ষিণ প্রান্তের গেইট দিয়ে প্রবেশ করে পুকুর পারে এসে থেমে যাচ্ছে মানব মিছিল। পুকুরের ৪০ ফুট দেবীর মূর্তি দর্শন শেষে ফটো তুলে তারপর মাঠের দিকে পা বাড়ান তারা। জগন্নাথ হলের স্থায়ী মণ্ডপে অনুষ্ঠিত সরস্বতি পূজায় অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হল প্রভোস্ট ড. মিহির লাল সাহা পূড়ায় অংশ নেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য

Asia’s largest Saraswati Puja : ঢাকার জগন্নাথ হল মাঠে ‘এশিয়ার বৃহৎ সরস্বতি পূজা’

আপডেট সময় : ০২:৩৮:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৩

পুকুরের মাঝ খানে ৪০ ফুট উচ্চার সরস্বতি দেবীর মূর্তি

জলবায়ু সংকটে পরিবান্ধব সরস্বতি দেবির মূর্তি তৈরির উপকরণ পাট ও বাশ

অনিরুদ্ধ

মাঠে চারদিকে পূজামণ্ডপ। নানা রঙের এসব মন্ডপ ঘিরে ভক্তের ভিড় বাড়তে থাকাল সেই সকাল থেকেই। অনেকেই বিভিন্ন মণ্ডপের সামনে কাগজ বিছিয়ে নানা বয়সের ভক্তরা যার যার মত বসে পড়েন। সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ অনেক মণ্ডপের সামনে ভিড়।

কুয়াচ্ছন্ন সকালেই হাজারো বক্তের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক জগন্নাথ হল মাঠ। এখানেই অনুষ্ঠিত হল এশিয়ার সর্ববৃহৎ সরস্বতি পূজা। মাঠে চারদিকে প্রায় একশ’ মন্ডপে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিদ্যা, বাণী ও সুরের দেবী সরস্বতি পূজায় পুরহিদ সংকট দেখা দেয়। পূজা অর্চনা শেষে প্রায় আটটা নাগাদ শুরু অঞ্চলি দেন ভক্তরা।

তারপর শিশুদের হাতে খড়ি। অতিমারির কারণে দুই বছর এই মহাআয়োজন বন্ধ ছিল। পূজা উদযাপন হয়েছে নামে মাত্র। এবারে করোনামুক্ত পরিবেশে সকল ধরণের উৎসবই মাথা তুলে স্বকীয় জানান দিচ্ছে। সরস্বতি পূজাও এর ব্যতিক্রম নয়। তখনও কুয়াশা পুরোপুরি কাটেনি। শিশির স্নাত মাঠেই কাগজ বিছিয়ে সার সার ভক্তে দল। হাতে খড়ি দিতে শিশুরা আসে বাবা-মায়ের হাত ধরে। তার মধ্যেও ছিল উচ্ছ্বাস। পুরোপুহিত মশায়ের কাছে হাতে খড়ি নিতে সে কি আগ্রহ শিশুদের।

জগন্নাত হল পুকুরের মাঝ খানে জলের আসনে বসে আছেন ৪০ ফুট উচ্চতার দেবী সরস্বতি। চারুকলা অনুষদের পড়ুয়ারা একমাস ধরে বিরামহীন কাজ করে পরিবেশ বান্ধ প্রতিমা গড়ে তুলেছেন তারা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, জলবায়ু সংকটে গোটা বিশ্ব আজ কাঁপছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলার লোকজ শিল্পকে বাচিয়ে রাখতে এবারে তাদের প্রতিমার গড়ার উপকরণ বেচে নেওয়া হয়েছে বাঁশ ও পাঠ দিয়ে।

হল মাঠে কথা ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের পুড়ুয়া মৌলী দের সঙ্গে। সঙ্গী বন্ধু তুরিং দেওয়ান। মৌলীর সেকি উচ্ছ্বাস। বললেন, দুই বছর আমাদের এই বর্ণাঢ্য আয়োজন থেমে ছিল। গোটা বিশ্বের সঙ্গে আমাদের সকল ধরণের উৎসব আয়োজন বন্ধ থাকে।

দুটো বছর সরস্বতি দেবীর আরাধনা প্রাণ খুলে করা সম্ভব হয়নি। দুই বছর পর এবারে মনপ্রাণ খুলে আমরা বিদ্যা, বাণী ও সুরের দেবীর পুজা করতে পেরে নিজেকে হাল্কা মনে করছেন। মৌলি বলেন, এটা কেবল হিন্দু ধর্মাবলিদের মধ্যেই এখন আর সীমা বদ্ধ নেই। সরস্বতি পূজা ঘিরে সকল ধর্মের মানুষের মিলন মেলায় পরিণত হয়েছে জগন্নাথ হল মাঠে।

বন্ধু তুরিংয়ের উচ্ছ্বাসটা দেখেছেন পাশের আরও অনেকে। বলছেন, এশিয়ার সবচেয়ে বড় আসর এটি। এবারেই প্রথম অংশ গ্রহণ তার। এখানে না আসলে ধারণাই করতে পারতেন না, বাংলাদেশের এতো বড় আয়োজন হয়ে থাকে।

জগন্নাথ হলের দক্ষিণ প্রান্তের গেইট দিয়ে প্রবেশ করে পুকুর পারে এসে থেমে যাচ্ছে মানব মিছিল। পুকুরের ৪০ ফুট দেবীর মূর্তি দর্শন শেষে ফটো তুলে তারপর মাঠের দিকে পা বাড়ান তারা। জগন্নাথ হলের স্থায়ী মণ্ডপে অনুষ্ঠিত সরস্বতি পূজায় অস্বাভাবিক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। হল প্রভোস্ট ড. মিহির লাল সাহা পূড়ায় অংশ নেন।