হাসপাতালে ঢুকে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, প্রধান আসামি আমিনী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১০:৩৫:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন এমন যুবক ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর এলাকা থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ফজলুল হক আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এ মামলায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে গালাগাল করেন শামীম। এ সময় তার কথাবার্তার একটি অডিও রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। অডিওতে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে ফজলুল হক আমিনী ফেসবুক লাইভে এসে ‘তৌহিদী জনতা’কে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানান।
এরপর উত্তেজিত লোকজন শামীমের বাড়ির গেটে ভাঙচুর চালিয়ে তাকে বাড়ি থেকে বের করে বাজারে নিয়ে মারধর করে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরে শামীম বিষপান করেন। পরে তাকে স্থানীয় কুলিয়া এলাকার এক গ্রাম্য চিকিৎসকের চেম্বারে নেওয়া হয়। সেখানে তার পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল।
কিন্তু মঙ্গলবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমকে ওই চেম্বার থেকে বের করে আবারও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ফজলুল হক আমিনী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর আমিনীর নেতৃত্বে এক হাজারের বেশি লোক হাসপাতালে গিয়ে হামলা চালায়। এ সময় চিকিৎসাধীন শামীমকে হাসপাতাল থেকে বাইরে এনে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়।
পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় শামীমের বড় ভাই আবদুল জলিল বাদী হয়ে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটিতে ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান আসামি করা হয়।
প্রকাশ্যে মারধর এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে হামলার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তারের পর এখন তদন্তের অগ্রগতি ও অন্য অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দিকে নজর রয়েছে।



















