ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৫:০৪:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তরুণ প্রজন্মকে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এখন থেকেই সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আয়তনের তুলনায় অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। এত মানুষের শহর পরিচ্ছন্ন রাখা কঠিন হলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে তা সম্ভব। এ জন্য নির্ধারিত কর্মসূচির পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
পরিচ্ছন্ন পরিবেশের সঙ্গে জনস্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরে তিনি বলেন, বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বাড়ে। বিপরীতে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি তৈরি করে। তাই চিকিৎসার ওপর নির্ভরতা কমাতে হলে রোগ প্রতিরোধ এবং সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাড়িঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত প্রতি শনিবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের আশপাশে কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সেদিকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাস্তা, খাল, নদী ও জলাশয়ে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বর্জ্য পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি রোগজীবাণু ও মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে তাকে বুঝিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার বিষয়ে সচেতন করতে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা উদ্বেগজনক। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করতে হবে।
নিজের অতীত উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, তাঁর বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বেশি গাছ লাগিয়ে সেই উদ্যোগকে ছাড়িয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় সৌদি আরবের আরাফাতের ময়দানে নিমগাছ রোপণের ইতিহাস তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একসময় ওই ময়দান প্রায় বৃক্ষশূন্য ছিল। পরে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেখানে নিমগাছের চারা পাঠান। বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের পরামর্শে সৌদি আরবের আবহাওয়ার উপযোগী হিসেবে নিমগাছ নির্বাচন করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সেখানে নিমগাছের বিস্তার ঘটে, যা এখন ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত।
পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশটির রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই নদী-নালা, খাল-বিল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন, খাবারের প্যাকেটসহ যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্ম সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে। তাই এখন থেকেই দেশ ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ডেঙ্গু ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন। এর অংশ হিসেবে তিনি মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শন করেন।

শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষে ধূমপান, সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে এক চিকিৎসককে নিজ কক্ষে ধূমপান করতে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে চিকিৎসকের কক্ষ অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। পরে ওই চিকিৎসককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শনিবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রী আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, পরিদর্শনের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে যান। সেখানে তাঁকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকের কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন ছিল। হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে একজন চিকিৎসকের এমন আচরণ এবং কর্মপরিবেশের এ অবস্থা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিবের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতালের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত রাখা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি মনে করেন, রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ বজায় রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

















