রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় এমপির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে
ঢাকার মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
সচিবালয়ে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাড্ডা সেন্টারটি ঢাকা-১৪ সংসদীয় আসনে অবস্থিত। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মীর আহম বিন কাসেম নির্বাচিত হন।
রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তিনি বলেন, “ওখানে একজন সংসদের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না বিষয়টি তদন্তাধীন। এ বিষয়ে কাউকে ছাড় দেব না, যদি সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ঘটনাস্থলে যারা অপরাধী হিসেবে গিয়েছিল, তাদের কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। তবে অপরাধের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পাকা ভবনের আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, টিকাকক্ষ ও ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের দরজা-জানালাও ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা স্থাপনা থেকে বিভিন্ন আসবাবপত্র ও চিকিৎসাসামগ্রীর পাশাপাশি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও আলমারি নিয়ে যায়। মামলায় পুরো ঘটনায় কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রসিডিং শুরু হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধের সঙ্গে কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেটিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে না। তার ভাষায়, “যারা অপরাধী হিসেবে ওখানে গেছে তাদের কারও কারও রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে। কিন্তু সেটা আমরা কখনোই আমলে নেব না।
তিনি আরও বলেন, রাড্ডা সেন্টারের ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপি ও সরকারকে দায়ী করে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। স্টুডিওটির পাশাপাশি নিউ গিনি প্রোপার্টিজের কার্যালয় ও আশপাশের কয়েকটি স্থাপনাতেও হামলা হয়।
এ ঘটনায় নিউ গিনি প্রোপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানানো হয়েছে। মামলার এজাহারে জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিষয় নেই। তার ভাষ্য, জমি দখলসংক্রান্ত ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনায় এজাহার দায়ের হওয়ার পর সেটি নথিভুক্ত করার আগে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।
সালমান মুক্তাদিরের নাম উল্লেখ না করে মন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনায় চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টিও সঠিকভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজেই বলেছেন যে তার কাছে কেউ চাঁদা দাবি করেনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিউ গিনি প্রোপার্টিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হোক কিংবা পার্শ্ববর্তী জমির মালিক, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাদের সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তদন্ত শেষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। তার দাবি, জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রেপ্তার ও মামলা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে রাড্ডা সেন্টারসহ এসব ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন। ফলে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।














