ঢাকা ০২:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
২৮-এ ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি আমদানি কমাতে সৌরবিদ্যুতের বড় উত্থান ভারতে পলাতক আসামিদের নিয়ে দিল্লিকে ঢাকার কড়া বার্তা নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা সুরের মায়ায় সুজাতা সোম রাগসংগীত থেকে লোকগান, শৈশবের আসর পেরিয়ে সংগীত শিক্ষার বিস্তৃত ভুবনে বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বৃদ্ধির প্রভাব এশিয়ান গেমস উপলক্ষে জাপান সফরে সেনাবাহিনী প্রধান ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঋণ বিতরণে ধীরগতি  বন্ধ শিল্প পুনরায় চালুর চ্যালেঞ্জ নিরাপদ প্রজননের লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর ২২ দিন দেশজুড়ে ইলিশ আহরণ বন্ধ নিষিদ্ধ আ.লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদন্ড সম্পত্তির অর্ধেক জুলাইযোদ্ধাদের একটানে জালে ওঠে আসে ২৬ লাখ টাকার ২ হাজার ২০০টি কাঙ্খিত  ইলিশ 

২৮-এ ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি আমদানি কমাতে সৌরবিদ্যুতের বড় উত্থান

বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি আমদানি কমাতে সৌরবিদ্যুতের বড় উত্থান

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট, ২০২৮ সালের মধ্যে ১২ প্রকল্প চালুর লক্ষ্য

জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। বেসরকারি খাতের ১২টি প্রকল্প থেকে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগেও আরও প্রায় ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে।

এসব প্রকল্পে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা। বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, একই ধরনের আগের প্রকল্পগুলোর তুলনায় এ দর প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।

চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপন করা হবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় আরও ১০০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ঈশ্বরদীতে হবে আরও ৭০ মেগাওয়াটের প্রকল্প।

এ ছাড়া মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা ও সদর, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এবং নোয়াখালীর সুধারামে আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২৮ সালের মধ্যেই তিনটি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড।

সরকারি খাতেও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও পরিচালনা করেছে অবকাঠামো বিনিয়োগ সহায়তা কোম্পানি (আইআইএফসি)। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

শুধু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকেও সম্প্রসারণ করতে চায় সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা।

এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা এসব চুক্তি সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রচলিত, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা।

সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

এর বাইরে বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করা গেলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজনও কমবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

২৮-এ ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জ্বালানি আমদানি কমাতে সৌরবিদ্যুতের বড় উত্থান

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট, ২০২৮ সালের মধ্যে ১২ প্রকল্প চালুর লক্ষ্য

জ্বালানি আমদানির ব্যয় ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের অগ্রসর হচ্ছে বাংলাদেশ। বেসরকারি খাতের ১২টি প্রকল্প থেকে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি সরকারি উদ্যোগেও আরও প্রায় ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ইতোমধ্যে ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের চুক্তি করেছে।

এসব প্রকল্পে প্রতি কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ টাকা ১২ পয়সা। বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, একই ধরনের আগের প্রকল্পগুলোর তুলনায় এ দর প্রায় ২ দশমিক ৫ সেন্ট কম।

চুক্তিবদ্ধ প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ২০০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে। পাবনার ঈশ্বরদীতে স্থাপন করা হবে ১৫০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র। কক্সবাজারে ১০০ মেগাওয়াট করে দুটি এবং বাগেরহাটের মোংলায় আরও ১০০ মেগাওয়াটের একটি কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। ঈশ্বরদীতে হবে আরও ৭০ মেগাওয়াটের প্রকল্প।

এ ছাড়া মৌলভীবাজারের বিবিয়ানা ও সদর, নীলফামারীর জলঢাকা, চট্টগ্রামের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি এবং নোয়াখালীর সুধারামে আরও কয়েকটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এসব প্রকল্পের উৎপাদন সক্ষমতা ১০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট পর্যন্ত।

কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুরের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ২০২৮ সালের মধ্যেই তিনটি প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে ১ হাজার ৮৫২ দশমিক ০৬ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৩ দশমিক ৫ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত এবং ৩৭৮ দশমিক ৫৬ মেগাওয়াট অফ-গ্রিড।

সরকারি খাতেও সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে নেওয়া হয়েছে একাধিক উদ্যোগ। বিপিডিবি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৯ মেগাওয়াট গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্প ২০৩০ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা। রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হয়েছে।

ফেনীর সোনাগাজীতে ২২২ মেগাওয়াটের গ্রিড-সংযুক্ত সৌর ফটোভোলটাইক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষাও পরিচালনা করেছে অবকাঠামো বিনিয়োগ সহায়তা কোম্পানি (আইআইএফসি)। প্রকল্পটি ২০২৮ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

শুধু বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থাকেও সম্প্রসারণ করতে চায় সরকার। ব্যাটারিসহ ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এ ব্যবস্থায় উৎপাদিত বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৮ টাকা।

এর সঙ্গে ২০ শতাংশ মুনাফা ও ১১ দশমিক ২৫ শতাংশ প্রিমিয়াম যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, আইপিপিগুলোর সঙ্গে করা এসব চুক্তি সরকারের বৃহত্তর জ্বালানি মিশ্রণ কৌশলের অংশ। এর লক্ষ্য নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং প্রচলিত, বিশেষ করে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি নিজস্ব অর্থায়নে ৬৮৮ কিলোওয়াট-পিক ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেছে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৪ হাজার ১৯৫ কিলোওয়াট-পিক সক্ষমতা চালুর সম্ভাবনা রয়েছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে দেশের সব জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে আগামী তিন মাসের মধ্যে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ করা।

সরকারের জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশল ২০২৬-২০৩০-এর আওতায় ২০৩০ সালের মধ্যে ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।

এর বাইরে বায়ু, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ, পানিবিদ্যুৎ, ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ ও অ্যাগ্রিভোলটাইক্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি থেকে আরও ৪৫০ থেকে ৫৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও কোস্টাল লাইভলিহুড অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল অ্যাকশন নেটওয়ার্কের (ক্লিন) প্রধান নির্বাহী হাসান মেহেদী বলেন, ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎসহ অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর দেশের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ বাড়িতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে উৎসাহিত করা গেলে এ খাতে সরকারের বিনিয়োগের প্রয়োজনও কমবে।