ভারতে পলাতক আসামিদের নিয়ে দিল্লিকে ঢাকার কড়া বার্তা
- আপডেট সময় : ০১:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫৮ বার পড়া হয়েছে
অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ না দেওয়ার আহ্বান মাহদী আমিনের
ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের পলাতক আসামি ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যাতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির তৎপরতায় জড়াতে না পারে, সে বিষয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বাংলাদেশের নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বার্থে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মাহদী আমিন এ আহ্বান জানান। বৈঠকে ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাধেও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়ন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান বিষয়গুলো পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সংলাপের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও মূল্যবোধকে আরও সুসংহত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও টেকসই, ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পর্যায়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বিদ্যমান সমস্যা ও চ্যালেঞ্জগুলোও পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়ে উভয়পক্ষ গঠনমূলক মতবিনিময় করে।
বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিষয়গুলোর পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বহুমাত্রিক ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পর্যটনে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়।
ব্যবসা–বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ সম্ভাবনাময় নতুন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকের শুরুতেই ভারতে অবস্থানরত পলাতক আসামিদের প্রসঙ্গটি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তোলা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। ঢাকার অবস্থান হলো, কোনো দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা কিংবা গণতান্ত্রিক পরিবেশের বিরুদ্ধে তৎপরতার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ বিষয়ে ভারতের সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে ঢাকা ও নয়াদিল্লির সম্পর্ককে পারস্পরিক স্বার্থ, সমতা ও সম্মানের ভিত্তিতে এগিয়ে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্বেগের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বৈঠকে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।



















