বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বৃদ্ধির প্রভাব
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। বুধবার আগের দিনের বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পর ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) দুই ধরনের অপরিশোধিত তেলের দামই নিম্নমুখী হয়েছে।
সৌদি আরবে হামলার পর সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হলেও যুক্তরাষ্ট্রে মজুত বৃদ্ধির তথ্য বাজারের সেই উদ্বেগ কিছুটা প্রশমিত করেছে।
বাজারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০ দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৮২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা ০ দশমিক ৯২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৮৬ ডলারে নেমে এসেছে।
এর আগে মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে দুই ধরনের তেলের দামই ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল। ওই মূল্যবৃদ্ধির ফলে ১৯ মে’র পর তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। তবে এক দিনের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতসংক্রান্ত নতুন তথ্য বাজারের গতিপথে পরিবর্তন এনেছে।
সৌদি আরবে হামলায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ
সম্প্রতি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে যুক্ত সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর দেশটির ইয়ানবু টার্মিনাল থেকে তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইয়ানবু সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি অবকাঠামো। সেখানে সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বাজারে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এর পাশাপাশি ইউরোপের বাজারে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ কমে যাওয়ার খবরও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
ফলে মঙ্গলবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মজুত বৃদ্ধিতে কিছুটা স্বস্তি
তবে বুধবার যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ার তথ্য বাজারের পরিস্থিতিতে পরিবর্তন আনে। সাধারণত মজুত বাড়ার অর্থ হলো বাজারে সরবরাহের পরিমাণ প্রত্যাশার তুলনায় বেশি থাকতে পারে। এ কারণে সৌদি আরবের সরবরাহ-সংক্রান্ত উদ্বেগের প্রভাব কিছুটা কমে যায়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের এই বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ আন্তর্জাতিক তেলের দামের ওপর সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বড় ধরনের প্রভাব ফেলে। সৌদি আরবের সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক বিঘ্নের খবর যেখানে দাম বাড়ার চাপ তৈরি করেছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত বৃদ্ধির তথ্য সেই চাপ কিছুটা সামলে দেয়।
বাজারে এখন সরবরাহ-ঝুঁকি ও মজুতের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ
বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে একদিকে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সম্ভাব্য বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুতের পরিবর্তন বাজারে দামের ওপর বিপরীতমুখী প্রভাব ফেলছে।
এ কারণে আগের দিনের বড় মূল্যবৃদ্ধির পর বুধবার ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই দুই ধরনের তেলের দামই কমেছে। তবে সৌদি আরবের সরবরাহ পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের প্রবণতা আগামী দিনগুলোতে কোন দিকে যায়, তার ওপর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের পরবর্তী গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে।
সার্বিকভাবে, বুধবারের দরপতনকে আগের দিনের মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে সাময়িক সংশোধন হিসেবেও দেখা হচ্ছে। একদিকে ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরবরাহঝুঁকি তেলের দাম বাড়ানোর চাপ তৈরি করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত বৃদ্ধি সেই চাপ কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বর্তমানে সরবরাহঝুঁকি ও মজুতের তথ্য দুইয়ের প্রভাবেই ওঠানামা করছে।



















