ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি, নাশকতার আশঙ্কা রিজভীর বাসে উঠে সন্দেহ কিছু দূর যেতেই বুকে ছুরি চাওয়া হয় ৫ লাখ টাকা ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পরই বিদ্যুৎ নিয়ে তালবাহানা ভারতের আদানির! বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী শেখ হাসিনা, নিজেই গুমের নির্দেশদাতা ছিলেন: স্পিকার হাফিজ রবীন্দ্রনাথের ‘বৃক্ষ বন্দনা’ অবলম্বনে আইজিসিসির আয়োজনে ‘ধরা তরু কাব্য’ পরিবেশন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হুশিয়ারি হয়তো আমি থাকব, আর নাহয় অনিয়ম থাকবে হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি দেশবিরোধী হলে বাতিল করবে ঢাকা ২৭-এ শুরু ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজের নির্মাণকাজ ইলিশের ভরা মৌসুমেও আকাল, চড়া দামে পাতে ওঠছে না জাতীয় মাছ

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দেশের তরুণ সমাজকে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তরুণরা চাইলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব। আমাদের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তাই তাদের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারবো না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারবো।’

তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান

দেশকে গড়ে তুলতে তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। এছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়াও সারাদেশে হাই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া আজ অনলাইনে প্রায় সবগুলো জেলা এখানে কানেক্টেড আছে। গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউটস, ভলেন্টিয়ারসহ আপনাদের সবার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। সেটি হলো, এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই আজকে এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছি। সেটি হলো দেশ গড়ার লক্ষ্য।’

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে। রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি কিভাবে ডেঙ্গু হয়। ভাঙ্গারি, কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পরিষ্কার পানি জমে এই ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশার তৈরি হয়। কাজেই আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’

নিজের ঘর থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার আহ্বান

পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দেই, এখানে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলো আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জনা হবে। সেখান থেকে রোগজীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।’

এ কারণে সবাইকে নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাই আসুন আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হবো।’

যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান

রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, তাদেরও নিরুৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই, দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলছে। তাদের সচেতন করতে হবে। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, আমাদের তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।’

দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

তিন মাসের কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা এই তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করা।

১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে চলবে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। বাসস

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৭:৫৫:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দেশের তরুণ সমাজকে পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, তরুণরা চাইলে দেশকে পরিবর্তন করা সম্ভব।

শনিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী সারাদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তরুণদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের তরুণ সমাজ যদি দেশকে পরিবর্তন করতে চায়, তাহলে করা সম্ভব। আমাদের তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারাবিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘তাই তাদের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার রাষ্ট্রকে, দেশকে আমরা পুনর্গঠন করি। আগামী তিন মাসে আমাদের ডেঙ্গুর সমস্যা আমরা সমাধান করার চেষ্টা করি। হয়তো আমরা শতভাগ পারবো না, কিন্তু অন্তত ৮০ শতাংশ আমরা পারবো।’

তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান

দেশকে গড়ে তুলতে তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী, স্কাউটস, বিএনসিসি, গার্লস গাইড ও স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি, বাংলাদেশের স্কাউটসের সংখ্যা প্রায় ২৩ লাখ, বিএনসিসির সদস্য সংখ্যা ২২ হাজার। এছাড়া প্রাথমিক স্কুল, মাদ্রাসা ছাড়াও সারাদেশে হাই স্কুল, মাদ্রাসা, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। আর প্রাথমিক স্কুল ও এবতেদায়ি মাদ্রাসায় রয়েছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এছাড়া আজ অনলাইনে প্রায় সবগুলো জেলা এখানে কানেক্টেড আছে। গার্লস গাইড, বিএনসিসি, স্কাউটস, ভলেন্টিয়ারসহ আপনাদের সবার কাছে আমি একটি সাহায্য চাই। সেটি হলো, এই দেশটাকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই আজকে এখানে একত্রিত হয়েছি। আমরা একটি লক্ষ্য নিয়ে একত্রিত হয়েছি। সেটি হলো দেশ গড়ার লক্ষ্য।’

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করার লক্ষ্যে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া তিন মাসব্যাপী এই কর্মসূচি আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশজুড়ে চলবে। রাজধানী ঢাকাকেন্দ্রিক উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সচেতনতামূলক ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

ডেঙ্গু কীভাবে ছড়ায়, তা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি কিভাবে ডেঙ্গু হয়। ভাঙ্গারি, কাগজপত্র বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে, প্লাস্টিক ও মাটির বিভিন্ন জিনিস পড়ে থাকতে দেখা যায়। সেখানে পরিষ্কার পানি জমে এই ডেঙ্গু বহনকারী এডিস মশার তৈরি হয়। কাজেই আমরা সকলে মিলে চেষ্টা করলে এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারব।’

নিজের ঘর থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করার আহ্বান

পরিচ্ছন্নতা শুধু সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘এই মাঠে আমরা যত মানুষ আজকে উপস্থিত আছি, প্রত্যেকে পানি খাই এবং প্রত্যেকে যদি একটা করে কিছু মাঠে ফেলে দেই, এখানে হয়তো কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু এই ময়লাগুলো আস্তে আস্তে জমা হয়ে আবর্জনা হবে। সেখান থেকে রোগজীবাণু তৈরি হবে। আপনি বা আপনার প্রিয়জন অসুস্থ হয়ে যাবে।’

এ কারণে সবাইকে নিজেদের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ ও দেশকে সুস্থ রাখার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাই আসুন আমরা নিজেকে সুস্থ রাখি। নিজের পরিবারকে সুস্থ রাখি। নিজের সমাজকে সুস্থ রাখি। নিজের দেশকে আমরা সুস্থ রাখার চেষ্টা করি। এই কাজটা কিন্তু খুব কঠিন না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে হয়তো আপনাদের একটু কষ্ট হবে। কিন্তু প্রতি সপ্তাহে এক ঘণ্টা যদি আমরা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা প্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য কাজ করি, তাহলে অবশ্যই দ্রুত এই পরিবর্তন আনতে আমরা সক্ষম হবো।’

যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলার আহ্বান

রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলার প্রবণতার সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি যারা ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন, তাদেরও নিরুৎসাহিত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা রাস্তাঘাট দিয়ে যখন যাই, দেখি বহু মানুষ অসচেতনভাবে যেখানে-সেখানে আবর্জনা ফেলছে। তাদের সচেতন করতে হবে। যারা ময়লা করবে, যারা আবর্জনা তৈরি করবে, আমাদের তাদেরকে নিরুৎসাহিত করতে হবে।’

দেশ গড়ার কাজে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাই কথা একটাই। কাজ, কাজ, আর কাজ। এবং পরিচ্ছন্ন, পরিচ্ছন্ন আর পরিচ্ছন্নতাই হতে হবে আমাদের আগামী দিনের মূল লক্ষ্য।’

আসুন এবার রাষ্ট্রকে আমরা পুনর্গঠন করি’: প্রধানমন্ত্রী

তিন মাসের কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধন করা এই তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা এবং সরকারি-বেসরকারি ও সামাজিক উদ্যোগকে সমন্বিত করা।

১২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে চলবে। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একযোগে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন কমিটি’র আহ্বায়ক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

এ সময় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য এবং সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অনলাইনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন। বাসস