বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক কারিগরি ত্রুটি, নাশকতার আশঙ্কা রিজভীর
- আপডেট সময় : ০৭:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রে একের পর এক কারিগরি ত্রুটির ঘটনায় নাশকতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সরকারের উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন রিজভী। ১২ দলীয় জোট এ সভার আয়োজন করে।
রিজভী বলেন, দেশে বর্তমানে গ্যাস সংকট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়ছে। মহেশখালীতে রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রমেও কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছে। তবে সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে এবং শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে রিজভী বলেন, ‘আজকে একটার পর এক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি ত্রুটি হচ্ছে। এগুলো স্যাবোটাজ কি না, সে বিষয়ে মানুষের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে। কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে বলেই সার্বিক পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে।
রংপুরে একটি হিন্দু পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকার দ্রুততার সঙ্গে বিষয়টি মোকাবিলায় কাজ করছে। অতীতেও দেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানা ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার আবারও খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ছয় মাসে এক হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে।
রিজভী বলেন, আজকে এসব কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
১২ দলীয় জোটের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জোটটি সবসময় দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে এবং কঠিন পরিস্থিতিতে দেশের স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে। বিরোধী দল সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের সমালোচনা করবে, তবে সেই সমালোচনা যেন দায়িত্বশীলতার সীমা অতিক্রম না করে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। অতীতে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত না হলে গণতন্ত্রকামী মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়তে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
সমালোচনা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত উল্লেখ করে রিজভী বলেন, মতপ্রকাশ যেন সীমালঙ্ঘন না করে। ইসলামী উত্তরাধিকার আইন নিয়ে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানরা বাবা-মায়ের যথাযথ খোঁজখবর রাখে না। এ বিষয়ে যে আইন করা হয়েছে, তা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই হয়েছে।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গঠনমূলক সমালোচনা করা হবে। তবে বর্তমান বিরোধী দল দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।



















