ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
খুব দ্রুত বিশ্ববাজারে কমবে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প ইসরায়েলে বহুমুখী হামলার প্রস্তুতি, মিত্রদের একজোট করছে ইরান এলএনজি সংরক্ষণ ও গ্যাসে রূপান্তরে বিনিয়োগে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে নিউ আমেরিকা রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট : প্রধানমন্ত্রী সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অবৈধ ব্যাটারিচালিত অটো নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতের আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবল একদিনে রেকর্ড ১,৫৫৮ ভর্তি, মৃত্যু ৪ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে গুরুত্ব রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ দেড় লাখ  কোটি টাকা কোথায় আটকে আছে অর্থ

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

আমিনুল হক ভূইয়া
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাসায়নিক সারের মোট চাহিদা আনুমানিক ৫৮ লাখ টন। তবে কৃষি উৎপাদনের ধরন ও মৌসুমভেদে দেশে প্রতিবছর সারের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৬৮ লাখ টনে পৌঁছায়। এর মধ্যে ইউরিয়া সারের চাহিদাই প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। দেশের সরকারি সার কারখানাগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩৭ লাখ টন হলেও গ্যাস সংকটের কারণে প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সার উৎপাদন প্রায় ১১ লাখ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে দেশের মোট চাহিদা পূরণে বড় একটি অংশের সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চাহিদার দিক থেকে ইউরিয়ার পর রয়েছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার। দেশে বছরে ডিএপি সারের চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি, এমওপি প্রায় ১০ লাখ টন এবং টিএসপি সারের চাহিদা প্রায় ৭ লাখ থেকে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টন।

বর্তমানে দেশের মোট রাসায়নিক সারের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বিশেষ করে বোরো ও রবি মৌসুমে সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এ সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত আমদানি, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের সার নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ থাকবে না। বরং সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত হলে কৃষি উৎপাদনও থাকবে স্বাভাবিক ও গতিশীল।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে এবং আরও সার নিয়ে বেশ কয়েকটি জাহাজ দেশের পথে রয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকদের সার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার এবং সার ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রয়েছে।

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

তাই কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে কৃষকদের নিশ্চিন্তে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করার আহ্বান জানান তিনি। মো. মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, পর্যাপ্ত মজুত ও চলমান সরবরাহের কারণে এ মৌসুমে সার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কৃষকরা আস্থা ও মনোবল ধরে রেখে সময়মতো সার সংগ্রহ করে চাষাবাদে মনোযোগ দিলে দেশের কৃষি উৎপাদন আরও গতিশীল হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত সপ্তাহে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ফরিদপুর সফরকালে বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারের সংকট প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুদ থাকে।

ফলে দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কিছুদিন অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশে নন-ইউরিয়া সার আমদানি আবারও গতি পেয়েছে। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে সরবরাহ ও মজুদ বাড়াতে চলতি সেপ্টেম্বরেই ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) নিয়ে সাতটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব জাহাজে মোট আড়াই লাখ টন সার আসছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার টন ডিএপি, দেড় লাখ টন এমওপি এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি রয়েছে। আগামী অক্টোবরেও এসব সার নিয়ে আরও প্রায় ১০টি জাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরে মরক্কো থেকে আমদানি করা ৬০ হাজার টন টিএসপি নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে আসছে। এর একটি ৮ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১১ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা। একই দেশ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে আরও একটি জাহাজ ৮ সেপ্টেম্বর দেশের বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া রাশিয়া ও কানাডা থেকে চলতি মাসে মোট দেড় লাখ টন এমওপি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন করে দুটি লটে ৭০ হাজার টন এবং কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি লটে ৮০ হাজার টন এমওপি আসছে। কয়েকটি চালান ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। বাকি চালানগুলোও চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিএডিসির হিসাবে, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৭ হাজার টন।

এর বিপরীতে জাহাজে থাকা সারসহ আগামী জানুয়ারির মধ্যে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন ডিএপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন। একই সময়ে এমওপির চাহিদা ৬ লাখ ৭২ হাজার টন। বিপরীতে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন এমওপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন। টিএসপির চাহিদা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৯ হাজার টন। এর বিপরীতে চূড়ান্ত আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা এবং জিটুজি পর্যায়ে আলোচনাধীন টিএসপির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।

বিএডিসির সার আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি নিয়ে ১০ থেকে ১২টি করে জাহাজ দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের চালানগুলো ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। অক্টোবরের কয়েকটি চালানের লোডিং শেষ হয়েছে এবং অন্যগুলো লোডিং পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী চালানগুলোর জন্য দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে সারের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। এ সময়ে শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়। ফলে বছরের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এ মৌসুমেই হয়ে থাকে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে যে হারে সার আমদানি হচ্ছে, তা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সরবরাহ ও মজুদ আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে ইউরিয়া উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। তাই আমদানি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাসায়নিক সারের মোট চাহিদা আনুমানিক ৫৮ লাখ টন। তবে কৃষি উৎপাদনের ধরন ও মৌসুমভেদে দেশে প্রতিবছর সারের সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৬৮ লাখ টনে পৌঁছায়। এর মধ্যে ইউরিয়া সারের চাহিদাই প্রায় ২৬ থেকে ২৭ লাখ টন। দেশের সরকারি সার কারখানাগুলোর বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৩৭ লাখ টন হলেও গ্যাস সংকটের কারণে প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ইউরিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের সার উৎপাদন প্রায় ১১ লাখ থেকে সাড়ে ১২ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। ফলে দেশের মোট চাহিদা পূরণে বড় একটি অংশের সার বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। চাহিদার দিক থেকে ইউরিয়ার পর রয়েছে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার। দেশে বছরে ডিএপি সারের চাহিদা ১৫ লাখ টনের বেশি, এমওপি প্রায় ১০ লাখ টন এবং টিএসপি সারের চাহিদা প্রায় ৭ লাখ থেকে ৭ লাখ ৬৫ হাজার টন।

বর্তমানে দেশের মোট রাসায়নিক সারের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানির মাধ্যমে পূরণ করা হয়। বিশেষ করে বোরো ও রবি মৌসুমে সারের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় এ সময়ে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত আমদানি, মজুত ও সুষ্ঠু বিতরণ নিশ্চিত করা গেলে কৃষকদের সার নিয়ে উদ্বেগের কোনো কারণ থাকবে না। বরং সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত হলে কৃষি উৎপাদনও থাকবে স্বাভাবিক ও গতিশীল।

বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। কৃষকদের প্রয়োজন মেটাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ সার মজুত রয়েছে এবং আরও সার নিয়ে বেশ কয়েকটি জাহাজ দেশের পথে রয়েছে। ফলে চলতি মৌসুমে কৃষকদের সার নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি বলেন, কৃষি উৎপাদন স্বাভাবিক ও নির্বিঘ্ন রাখতে সরকার এবং সার ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রয়েছে।

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

তাই কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে কৃষকদের নিশ্চিন্তে প্রয়োজন অনুযায়ী সার সংগ্রহ করার আহ্বান জানান তিনি। মো. মোশাররফ হোসেন আরও বলেন, পর্যাপ্ত মজুত ও চলমান সরবরাহের কারণে এ মৌসুমে সার নিয়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কৃষকরা আস্থা ও মনোবল ধরে রেখে সময়মতো সার সংগ্রহ করে চাষাবাদে মনোযোগ দিলে দেশের কৃষি উৎপাদন আরও গতিশীল হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গত সপ্তাহে কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ফরিদপুর সফরকালে বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করছে। বেশি দাম না দিলে সার পাওয়া যাচ্ছে না-এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট খুচরা বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সারের সংকট প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট চাহিদার তুলনায় প্রায় ১৫ লাখ টন বেশি সার আমদানি করা হয় এবং সমপরিমাণ সারের নিরাপত্তা মজুদ থাকে।

ফলে দেশে সার সংকট হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী ও ষড়যন্ত্রকারী পরিকল্পিতভাবে সারের দাম বাড়িয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিছু খুচরা সার বিক্রেতা বাজারে সার নেই বলে প্রচার করছেন। অথচ অতিরিক্ত টাকা দিলে তারাই আবার সার সরবরাহ করছেন। এ ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে কিছুদিন অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশে নন-ইউরিয়া সার আমদানি আবারও গতি পেয়েছে। আসন্ন রবি ও বোরো মৌসুমকে সামনে রেখে সরবরাহ ও মজুদ বাড়াতে চলতি সেপ্টেম্বরেই ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি), মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) ও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) নিয়ে সাতটি জাহাজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এসব জাহাজে মোট আড়াই লাখ টন সার আসছে। এর মধ্যে ৪০ হাজার টন ডিএপি, দেড় লাখ টন এমওপি এবং ৬০ হাজার টন টিএসপি রয়েছে। আগামী অক্টোবরেও এসব সার নিয়ে আরও প্রায় ১০টি জাহাজ দেশে আসার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি সেপ্টেম্বরে মরক্কো থেকে আমদানি করা ৬০ হাজার টন টিএসপি নিয়ে দুটি জাহাজ দেশে আসছে। এর একটি ৮ সেপ্টেম্বর এবং অন্যটি ১১ সেপ্টেম্বর পৌঁছানোর কথা। একই দেশ থেকে ৪০ হাজার টন ডিএপি নিয়ে আরও একটি জাহাজ ৮ সেপ্টেম্বর দেশের বন্দরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া রাশিয়া ও কানাডা থেকে চলতি মাসে মোট দেড় লাখ টন এমওপি আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে রাশিয়া থেকে ৩৫ হাজার টন করে দুটি লটে ৭০ হাজার টন এবং কানাডা থেকে ৪০ হাজার টন করে দুটি লটে ৮০ হাজার টন এমওপি আসছে। কয়েকটি চালান ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। বাকি চালানগুলোও চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিএডিসির হিসাবে, সেপ্টেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পিক মৌসুমে ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৭ হাজার টন।

এর বিপরীতে জাহাজে থাকা সারসহ আগামী জানুয়ারির মধ্যে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন ডিএপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন। একই সময়ে এমওপির চাহিদা ৬ লাখ ৭২ হাজার টন। বিপরীতে আমদানি প্রক্রিয়াধীন ও আলোচনাধীন এমওপির পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার টন। টিএসপির চাহিদা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৯ হাজার টন। এর বিপরীতে চূড়ান্ত আমদানি প্রক্রিয়ায় থাকা এবং জিটুজি পর্যায়ে আলোচনাধীন টিএসপির পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।

বিএডিসির সার আমদানির সঙ্গে যুক্ত এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতি মাসে ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি নিয়ে ১০ থেকে ১২টি করে জাহাজ দেশে আসবে। সেপ্টেম্বরের চালানগুলো ইতোমধ্যে দেশের পথে রয়েছে। অক্টোবরের কয়েকটি চালানের লোডিং শেষ হয়েছে এবং অন্যগুলো লোডিং পর্যায়ে রয়েছে। পরবর্তী চালানগুলোর জন্য দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

রবি-বোরো মৌসুমের আগে নন-ইউরিয়া সার আমদানিতে জোর

কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, অক্টোবরের শেষ দিক থেকে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশে সারের চাহিদা সর্বোচ্চ থাকে। এ সময়ে শীতকালীন সবজি, আলু, পেঁয়াজ, ভুট্টাসহ বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি বোরো ধানের আবাদ শুরু হয়। ফলে বছরের মোট সারের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ এ মৌসুমেই হয়ে থাকে। কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বর্তমানে যে হারে সার আমদানি হচ্ছে, তা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই সরবরাহ ও মজুদ আরও বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় কারখানায় উৎপাদন বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে ইউরিয়া উৎপাদনে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারে। তাই আমদানি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।