ঢাকা ১১:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নদীদূষণ রোধে পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যমের স্বার্থ রক্ষায় সাংবাদিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী হাসিনার বক্তব্য ‘সমর্থন করে না  ভারত,  জানালেন রণধীর জয়সওয়াল হাইকমিশনের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণা, সতর্ক করলো ভারতীয় হাইকমিশন দ্বিতীয় চেষ্টায় ইলিয়াস আলীকে অপহরণ, নেতৃত্বে ছিলেন জিয়াউল: প্রধান কৌঁসুলি ঢাকায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সময় চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী  ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, তফসিল ঘোষণা ভারত থেকে পাইপলাইনে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব বাংলাদেশের দিল্লিতে হাসিনার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ঢাকার বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:২০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬ ২০ বার পড়া হয়েছে

উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশের অন্তত ১০ জেলায়। ইতোমধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, দুধকুমার, ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে। একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে ২৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন উজান এলাকায় আরও অন্তত এক দিন ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একইভাবে রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, সোলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানি আগামী তিন থেকে পাঁচ দিন বাড়লেও আপাতত এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এটি সপ্তমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এতে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও কোথাও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে বিকেল ৩টায় পানির উচ্চতা কিছুটা কমে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর থাকলেও নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। একই সময়ে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টেও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এবং মাত্র নয় ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে পানির উচ্চতা ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চাপ কমানো যায়। গত ৪৮ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও রাতের দিকে পানির প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, তবুও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক প্লাবন ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি বহাল থাকবে।

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। গঙ্গাচড়ার নোহালী, লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নে তীব্র নদীভাঙনে অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নোহালীর কাচারীপাড়া এলাকায় এখনও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকাতেও পানির উচ্চতা বেড়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর খাদ্যসংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দেশের সব বিভাগেই অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, সেসব এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বিপৎসীমার ওপরে তিস্তা কুশিয়ারা উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে বন্যার শঙ্কায় ১০ জেলা

আপডেট সময় : ০১:২০:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে আবারও বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে দেশের অন্তত ১০ জেলায়। ইতোমধ্যে নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় সুরমা, কুশিয়ারা, তিস্তা, দুধকুমার, ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, উত্তরাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী উজান এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে। একই সময়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহারে ২৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব ইতোমধ্যে সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগ এবং সংলগ্ন উজান এলাকায় আরও অন্তত এক দিন ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ফলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একইভাবে রংপুর বিভাগের তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এছাড়া সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার নিম্নাঞ্চলেও স্বল্পমেয়াদি বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

তবে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের গোমতী, মুহুরী, সোলোনিয়া, ফেনী ও হালদা নদীর পানি আগামী তিন থেকে পাঁচ দিন বাড়লেও আপাতত এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এটি সপ্তমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়েছে। এতে রংপুর, লালমনিরহাট ও নীলফামারীর তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। কোথাও কোথাও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৬টা ও ৯টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরে বিকেল ৩টায় পানির উচ্চতা কিছুটা কমে বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর থাকলেও নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। একই সময়ে রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টেও নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এবং মাত্র নয় ঘণ্টার ব্যবধানে সেখানে পানির উচ্চতা ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পায়।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাত থেকে তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চাপ কমানো যায়। গত ৪৮ ঘণ্টায় এ অঞ্চলে ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও রাতের দিকে পানির প্রবাহ কিছুটা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, তবুও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক প্লাবন ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি বহাল থাকবে।

রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া ও কাউনিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। গঙ্গাচড়ার নোহালী, লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নে তীব্র নদীভাঙনে অর্ধশতাধিক বসতভিটা ও আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নোহালীর কাচারীপাড়া এলাকায় এখনও নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার অন্তত ১৫টি গ্রামের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার তিস্তা তীরবর্তী এলাকাতেও পানির উচ্চতা বেড়ে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গবাদিপশুর খাদ্যসংকটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আজ দেশের সব বিভাগেই অধিকাংশ স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় নদীর পানি ইতোমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে, সেসব এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ, গবাদিপশু নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।