ডুয়েটে নতুন উপাচার্য নিয়োগ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষের সংঘর্ষ
- আপডেট সময় : ০৪:২৭:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে সংগৃহীত
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের দুপক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হবার খবর পাওয়া গেছে।
ডুয়েট-এ নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনোই বিশৃঙ্খলা, ফটকে তালা ঝোলানো, ইটপাটকেল নিক্ষেপ কিংবা শক্তি প্রদর্শনের জায়গা হতে পারে না। মতবিরোধ থাকতেই পারে, দাবি-দাওয়া থাকতেই পারে, কিন্তু তার প্রকাশ অবশ্যই হতে হবে শৃঙ্খলাপূর্ণ ও একাডেমিক পরিবেশের উপযোগী উপায়ে।
নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকবালের নিয়োগকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে চলা উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষে গড়ানো প্রমাণ করে, বর্তমানে কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন শব্দটিকে দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক চর্চা নয়, বরং চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম অচল করার চেষ্টা এবং ভিন্নমত পোষণকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান এই যুক্তিতে কেউ ভিন্ন মত দিতে পারেন। কিন্তু সেই মত প্রতিষ্ঠার পথ কখনো সহিংসতা হতে পারে না। উপাচার্য নিয়োগ সরকারের এখতিয়ারভুক্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।

এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি থাকলে তা আলোচনা, স্মারকলিপি, সংবাদ সম্মেলন বা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে জানানো যেত।
কিন্তু বর্তমানে দেশে কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে এমন একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে, যেখানে যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরোধিতা মানেই ক্যাম্পাস অচল করা, বিক্ষোভের নামে অরাজকতা সৃষ্টি করা এবং শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করা। এই ফ্রি-স্টাইল আন্দোলন সংস্কৃতি দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। ক্লাস-পরীক্ষা ব্যাহত হয়, সেশনজট বাড়ে, শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।
একটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যেখানে গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কথা, সেখানে দিনশেষে যদি সংঘর্ষ আর উত্তেজনাই প্রধান আলোচ্য হয়, তবে তা জাতির জন্য হতাশাজনক।
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব হলো দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।
একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও বুঝতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে, কিন্তু সেই স্বাধীনতার নামে সহিংসতা কিংবা শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করার অধিকার কারও নেই।
ডুয়েটের এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, দেশের শিক্ষাঙ্গনে দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতি ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির চর্চা জরুরি। অন্যথায় আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা বাড়তেই থাকবে, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।
















