পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন: নাটকীয় উত্থানে আলোচনায় মোতাব শেখ
- আপডেট সময় : ০৪:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতিতে সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন কংগ্রেস নেতা মোতাব শেখ। এক মাস আগেও যিনি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া একজন সাধারণ মানুষ ছিলেন, তিনিই এখন বিধানসভার সদস্য, এমন নাটকীয় উত্থান নজর কেড়েছে সবার।
মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়ে মোতাব শেখ শুধু জয়ই পাননি, বরং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে দিয়েছেন। তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৬৩,০৫০ এবং নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থীকে তিনি ৮ হাজারের বেশি ভোটে হারান।
একইসঙ্গে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই আসনে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়, যা রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
মোতাব শেখের এই যাত্রা সহজ ছিল না। স্পেশাল ইনটেন্সিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় তাঁর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে। অভিযোগ ছিল, পুরোনো নথির সঙ্গে নামের বানানে অমিল।
তবে তিনি হাল ছাড়েননি; বিষয়টি নিয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্ট-এর দ্বারস্থ হন। গত ৫ এপ্রিল আদালত তাঁর পক্ষে রায় দিলে আধার ও পাসপোর্টকে বৈধ পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। পরদিনই তিনি মনোনয়ন জমা দেন।
মাত্র দুই সপ্তাহ সময় পেয়ে তিনি প্রচারণা চালান, তবুও এই জয়ে বিস্মিত অনেকেই। মোতাব শেখ নিজেই বলেন, ভাবিনি ভোট দিতেও পারব, আর আজ মানুষ আমাকে বিধায়ক বানিয়েছে।
এই নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া লাখো মানুষের ক্ষোভও তাঁর জয়ে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলায় বিপুলসংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার ঘটনা বড় ইস্যু হয়ে ওঠে।
নির্বাচনের পর মোতাব শেখ শাসকদলের দুর্নীতি ও জনবিচ্ছিন্নতার সমালোচনা করেছেন। একইসঙ্গে তিনি উন্নয়নের স্বার্থে ভবিষ্যৎ সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পানীয় জলের সমস্যা সমাধান এবং বঞ্চিত ভোটারদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়াকেই তিনি অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, মোতাব শেখের এই উত্থান প্রমাণ করেছে, আইনি লড়াই, জনসমর্থন এবং দৃঢ় মনোবল থাকলে রাজনীতিতে ‘শূন্য’ থেকেও নতুন ইতিহাস গড়া সম্ভব।

















