রূপপুর বালিশ কাণ্ডসহ ৩৮ সংস্থার অডিট প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর হাতে
- আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৩৫ বার পড়া হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে অডিট রিপোর্ট পেশ করছেন মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশের বহুল আলোচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের তথাকথিত বালিশ কাণ্ড আবারও সামনে এসেছে সাম্প্রতিক অডিট প্রতিবেদনের মাধ্যমে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনাটি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে, যখন মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মো. নূরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৩৮টি সরকারি সংস্থার অডিট রিপোর্ট পেশ করেন।
এই প্রতিবেদনে রূপপুর প্রকল্পের সেই বিতর্কিত কেনাকাটার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
২০১৯ সালে পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের গ্রিন সিটি আবাসন প্রকল্পে আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী কেনাকাটায় অস্বাভাবিক মূল্য নির্ধারণের অভিযোগ সামনে আসে।
বিশেষ করে একটি সাধারণ মাথার বালিশের দাম ধরা হয়েছিল ৫,৯৫৭ টাকা, যা দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনার জন্ম দেয়।
আরও বিস্ময়ের বিষয় ছিল, প্রতিটি বালিশ ভবনের কক্ষে তুলতে অতিরিক্ত ৭৬০ টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এমন অস্বাভাবিক ব্যয়ের কারণে পুরো প্রকল্পে প্রায় ১৬৯ কোটি টাকার কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
শুধু বালিশই নয়, অন্যান্য সামগ্রীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসঙ্গতি লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কভারসহ একটি কমফোর্টারের দাম ধরা হয়েছিল ১৬,৮০০ টাকা, যেখানে বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ১৩,৫০০ টাকার বেশি নয়।
একইভাবে বিদেশি বিছানার চাদর কেনা হয় ৫,৯৩৬ টাকায়, যার প্রকৃত বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা। এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি “বালিশ কাণ্ড” নামে পরিচিতি পায় এবং ব্যাপক জনমত সৃষ্টি করে।
এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মাসুদুল আলমসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পাশাপাশি হাইকোর্টও এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্দেশনা দেয়।
তবে ঘটনার প্রায় অর্ধযুগ পার হলেও তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হয়নি বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে।
সাম্প্রতিক অডিট রিপোর্টে এই ঘটনার বিস্তারিত উঠে আসায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই রিপোর্ট উপস্থাপন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী জানান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অডিট রিপোর্টের সঙ্গে রূপপুরের বালিশ কাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদনও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বালিশের অস্বাভাবিক দাম শুনে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, এত দামি বালিশের একটি জাদুঘরে রাখা উচিত। এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনেকেই এটিকে সরকারের কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তার প্রতীকী বার্তা হিসেবে দেখছেন।
রূপপুরের এই বালিশ কাণ্ড এখনো বাংলাদেশের সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
নতুন করে অডিট প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে আসায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
















