লাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তি: অল্প সময়েই তেল পেলেন বাইকচালক মোহাম্মদ আলী
- আপডেট সময় : ০৬:১৭:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে
জ্বালানি তেল নিয়ে যখন হাহাকার-ঠিক তখনই সংবাদ শিরোনাম হলেন মোটরবাইক চালক মোহাম্মদ আলী। ছুটির দিন শুক্রবার মাত্র ১৫ মিনিট লাইনে দাড়িয়ে এক হাজার টাকার তেল পেয়েছেন।
সংকটকালে এতোটা স্বল্প সময়ে তেল পেয়ে মোহাম্মদ আলী যেন হাতে আকাশ ছুয়েছেন, এমনই প্রতিক্রিয়া তার। গত শনিবার ১০ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ৫০০ টাকার তেল পেয়েছিলেন এই বাইক চালক। কিন্তু আজ মাত্র ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে ১ হাজার টাকার তেল পেলেন।
তেল পেতে দীর্ঘ লাইন এতোটা কমে আসার বিষয়টি অবিশ্বাস্য মনে হয় তার কাছে।
ছুটির দিনে ফিলিং স্টেশনগুলোয় তেলের জন্য লম্বা লাইন অনেকটাই ছোট। গত কয়েক দিনের তুলনায় লাইনের দৈর্ঘ্য কমে এসেছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে রমনা ফিলিং স্টেশন থেকে তেল পাবার পর বলেন, মোটরবাইক চালক মোহাম্মদ আলী।
মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের লাইন দেখে চালকেরা বলছেন এটি অবিশ্বাস্য। তাঁরা কল্পনাও করেনি এত দ্রুত তেলের এই লাইন কমতে পারে।
দাম বাড়ার পর হঠাৎ এখন কেন কমে গেল লাইন? সরকার চাইলে আগে থেকে সবকিছু ঠিক করতে পারত।
এই ফিলিং স্টেশনে ২০ মিনিটের ভেতরে তেল পেলেন বলে জানান প্রাইভেট কারের চালক ওমায়ের রহমান। অন্যান্য দিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় চলে পার হয় তেল পেতে। আজকে এত অল্প সময়ে তেল নিতে পারবেন, তা ভাবেননি।
এক সপ্তাহে ব্যবধানে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে এখানে। যেখানে গত শুক্রবার এই রমনা ফিলিং স্টেশনে একই সময়ে ৪২২টি মোটরসাইকেল ও ৩৫৮টি প্রাইভেট কার তেল নিতে লাইনে ছিলো। আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে সেখানে ৭২টি মোটরসাইকেল ও ২৫টি প্রাইভেট কার ছিলো।
পরীবাগের মেঘনা মডেল ফিলিং স্টেশনেও তেলের লাইন ছোট দেখা গেছে। গত শুক্রবার এই ফিলিং স্টেশনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৫১৮টি মোটরসাইকেল ও ৪৯৩টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গিয়েছিল।
সেখানে আজ বেলা ১১টার দিকে মাত্র ১১২টি মোটরসাইকেল ও ৪২টি প্রাইভেট কার তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
এই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক সাব্বির মিলনকে। তিনি জানান, গত শুক্রবার তেলের জন্য ৬ ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করেছিলেন।
আজ লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন ১০ মিনিট। তবে এখনো তেল পাননি। তাঁর সামনে ৬০ থেকে ৭০টি মোটরসাইকেল আছে। আশা করছেন এক ঘণ্টার ভেতরে তেল পেয়ে যাবেন।
ফুয়েল পাস ছাড়া মোটরসাইকেলে তেল না দেওয়া ও তেলের দাম বাড়ার কারণে লাইন কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন এই মোটরসাইকেলচালক। তিনি বলেন, ‘ফুয়েল পাস ছাড়া তেল না দেওয়ার ফলে লাইন অনেকটা কমেছে।
বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের মধ্যে এবার দেশের ইতিহাসে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩০ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১৩৫ টাকা হয়েছে।
গত রোববার থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে এবং আন্তজেলা বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।



















