বর্ষবরণ উৎসবে উচ্ছ্বাসে মাতলেন বিদেশি পর্যটকরা
- আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
লন্ডন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, এমন বর্ণাঢ্য ও প্রাণময় আয়োজন খুব কমই দেখা যায়
পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর সেই উৎসব যখন রঙ, সুর, ঐতিহ্য আর আবেগে মিশে একাকার হয়, তখন তা শুধু একটি জাতির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।
রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় এবারও দেখা গেল বিশ্বসংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা।
লাল-সাদা রঙের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া এই আয়োজনে বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি যেন উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কেউ হাতে ক্যামেরা, কেউবা মোবাইল রঙিন মুহূর্তগুলো বন্দি করতে ব্যস্ত সবাই।
আবার কেউ মিশে গেছেন জনতার ভিড়ে, হাসিমুখে আলাপ জুড়েছেন অচেনা মানুষের সঙ্গে। বাঙালির আতিথেয়তা আর আন্তরিকতায় তারা যেন হয়ে উঠেছেন এই উৎসবেরই অংশ।
অনেক বিদেশিকেই দেখা গেছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাজে নারীদের কপালে লাল টিপ, খোপায় ফুল, হাতে আলপনা; পুরুষদের পরনে সাদা পাঞ্জাবি।
তাদের এই রূপ যেন বলে দেয়, সংস্কৃতি কোনো সীমান্ত মানে না, হৃদয়ের টানই আসল পরিচয়। কারও হাতে লেখা এসো হে বৈশাখ, কারও চোখে বিস্ময়, সব মিলিয়ে এক আবেগঘন দৃশ্য।

লন্ডন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, এমন বর্ণাঢ্য ও প্রাণময় আয়োজন খুব কমই দেখা যায়।
লন্ডন থেকে আগত এক পর্যটকের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মুগ্ধতা, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।
আবার ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা আরেকজন বলেন, এই আয়োজন শুধু উৎসব নয়, এটি অনুভূতির এক বিস্ফোরণ।
শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলা প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবস্থলে, যেখানে দেশি-বিদেশি সবার মিলনে তৈরি হয় এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র।
পাঁচটি বিশাল মোটিফ মোরগ, হাতি, ঘোড়া, শান্তির পায়রা ও বেহালা, শোভাযাত্রায় এনে দেয় দৃষ্টিনন্দন বৈচিত্র্য।
সঙ্গে ছিল দীর্ঘ পটচিত্র, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। সবকিছু মিলিয়ে যেন রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস।
ইউনেস্কো স্বীকৃত এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যে কেবল বাঙালির নয়, বরং বিশ্বমানবতার এক সম্পদ, তা যেন আবারও প্রমাণ হলো এই আয়োজনে। সীমান্ত পেরিয়ে, ভাষা ছাড়িয়ে, সংস্কৃতির এই মিলনমেলা মনে করিয়ে দেয়, আনন্দের ভাষা সবার জন্য এক।



















