ঢাকা ০৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দেশের স্বার্থে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রস্তুত সরকার: তারেক রহমান সোনার ভরিতে ৩২৬৫ ও রুপার ভরিতে ৩৫০ টাকা কমলো জাতীয় মহিলা পার্টির আহ্বায়ক নুরুন নাহার বেগম সদস্য সচিব জেসমীন নূর প্রিয়াংকা পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ চলছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অবরোধে অচলাবস্থা, আলোচনায় চাপ বাড়াচ্ছে পাকিস্তান হরমুজে নৌ-সংঘাত: ইরানের হামলায় তিন জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত, আটক দুটি ১০ বছর পর তনু হত্যা রহস্যে অগ্রগতি, সাবেক সেনা সদস্য রিমান্ডে পাচারের অর্থ উদ্ধারে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারে টান: প্যাট্রিয়ট ও থাডের অর্ধেক প্রায় শেষ ভারত-শাসিত কাশ্মীরে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ২১ জনের প্রাণহানি

বর্ষবরণ উৎসবে উচ্ছ্বাসে মাতলেন বিদেশি পর্যটকরা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ৩৯ বার পড়া হয়েছে

লন্ডন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, এমন বর্ণাঢ্য ও প্রাণময় আয়োজন খুব কমই দেখা যায়

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর সেই উৎসব যখন রঙ, সুর, ঐতিহ্য আর আবেগে মিশে একাকার হয়, তখন তা শুধু একটি জাতির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়  এবারও দেখা গেল বিশ্বসংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা।

লাল-সাদা রঙের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া এই আয়োজনে বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি যেন উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কেউ হাতে ক্যামেরা, কেউবা মোবাইল রঙিন মুহূর্তগুলো বন্দি করতে ব্যস্ত সবাই।

আবার কেউ মিশে গেছেন জনতার ভিড়ে, হাসিমুখে আলাপ জুড়েছেন অচেনা মানুষের সঙ্গে। বাঙালির আতিথেয়তা আর আন্তরিকতায় তারা যেন হয়ে উঠেছেন এই উৎসবেরই অংশ।

অনেক বিদেশিকেই দেখা গেছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাজে নারীদের কপালে লাল টিপ, খোপায় ফুল, হাতে আলপনা; পুরুষদের পরনে সাদা পাঞ্জাবি।

তাদের এই রূপ যেন বলে দেয়, সংস্কৃতি কোনো সীমান্ত মানে না, হৃদয়ের টানই আসল পরিচয়। কারও হাতে লেখা এসো হে বৈশাখ, কারও চোখে বিস্ময়, সব মিলিয়ে এক আবেগঘন দৃশ্য।

বর্ষবরণ উৎসবে উচ্ছ্বাসে মাতলেন বিদেশি পর্যটকরা
উৎসব যখন রঙ, সুর, ঐতিহ্য আর আবেগে মিশে একাকার

লন্ডন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, এমন বর্ণাঢ্য ও প্রাণময় আয়োজন খুব কমই দেখা যায়।

লন্ডন থেকে আগত এক পর্যটকের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মুগ্ধতা, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

আবার ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা আরেকজন বলেন, এই আয়োজন শুধু উৎসব নয়, এটি অনুভূতির এক বিস্ফোরণ।

শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলা প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবস্থলে, যেখানে দেশি-বিদেশি সবার মিলনে তৈরি হয় এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র।

পাঁচটি বিশাল মোটিফ মোরগ, হাতি, ঘোড়া, শান্তির পায়রা ও বেহালা, শোভাযাত্রায় এনে দেয় দৃষ্টিনন্দন বৈচিত্র্য।

সঙ্গে ছিল দীর্ঘ পটচিত্র, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। সবকিছু মিলিয়ে যেন রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যে কেবল বাঙালির নয়, বরং বিশ্বমানবতার এক সম্পদ, তা যেন আবারও প্রমাণ হলো এই আয়োজনে। সীমান্ত পেরিয়ে, ভাষা ছাড়িয়ে, সংস্কৃতির এই মিলনমেলা মনে করিয়ে দেয়, আনন্দের ভাষা সবার জন্য এক।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বর্ষবরণ উৎসবে উচ্ছ্বাসে মাতলেন বিদেশি পর্যটকরা

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

পহেলা বৈশাখ, বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর সেই উৎসব যখন রঙ, সুর, ঐতিহ্য আর আবেগে মিশে একাকার হয়, তখন তা শুধু একটি জাতির ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে না, ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বজুড়ে।

রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায়  এবারও দেখা গেল বিশ্বসংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা।

লাল-সাদা রঙের উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া এই আয়োজনে বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতি যেন উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। কেউ হাতে ক্যামেরা, কেউবা মোবাইল রঙিন মুহূর্তগুলো বন্দি করতে ব্যস্ত সবাই।

আবার কেউ মিশে গেছেন জনতার ভিড়ে, হাসিমুখে আলাপ জুড়েছেন অচেনা মানুষের সঙ্গে। বাঙালির আতিথেয়তা আর আন্তরিকতায় তারা যেন হয়ে উঠেছেন এই উৎসবেরই অংশ।

অনেক বিদেশিকেই দেখা গেছে বাঙালির ঐতিহ্যবাহী সাজে নারীদের কপালে লাল টিপ, খোপায় ফুল, হাতে আলপনা; পুরুষদের পরনে সাদা পাঞ্জাবি।

তাদের এই রূপ যেন বলে দেয়, সংস্কৃতি কোনো সীমান্ত মানে না, হৃদয়ের টানই আসল পরিচয়। কারও হাতে লেখা এসো হে বৈশাখ, কারও চোখে বিস্ময়, সব মিলিয়ে এক আবেগঘন দৃশ্য।

বর্ষবরণ উৎসবে উচ্ছ্বাসে মাতলেন বিদেশি পর্যটকরা
উৎসব যখন রঙ, সুর, ঐতিহ্য আর আবেগে মিশে একাকার

লন্ডন, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, রাশিয়া ও ভারত থেকে আসা দর্শনার্থীরা একবাক্যে স্বীকার করেছেন, এমন বর্ণাঢ্য ও প্রাণময় আয়োজন খুব কমই দেখা যায়।

লন্ডন থেকে আগত এক পর্যটকের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মুগ্ধতা, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় আকর্ষণ।

আবার ভারতের ত্রিপুরা থেকে আসা আরেকজন বলেন, এই আয়োজন শুধু উৎসব নয়, এটি অনুভূতির এক বিস্ফোরণ।

শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, টিএসসি ও দোয়েল চত্বর ঘুরে আবার চারুকলা প্রাঙ্গণে ফিরে আসে। পুরো এলাকা পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবস্থলে, যেখানে দেশি-বিদেশি সবার মিলনে তৈরি হয় এক অনন্য সম্প্রীতির চিত্র।

পাঁচটি বিশাল মোটিফ মোরগ, হাতি, ঘোড়া, শান্তির পায়রা ও বেহালা, শোভাযাত্রায় এনে দেয় দৃষ্টিনন্দন বৈচিত্র্য।

সঙ্গে ছিল দীর্ঘ পটচিত্র, বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ। সবকিছু মিলিয়ে যেন রঙ, সুর আর ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যে কেবল বাঙালির নয়, বরং বিশ্বমানবতার এক সম্পদ, তা যেন আবারও প্রমাণ হলো এই আয়োজনে। সীমান্ত পেরিয়ে, ভাষা ছাড়িয়ে, সংস্কৃতির এই মিলনমেলা মনে করিয়ে দেয়, আনন্দের ভাষা সবার জন্য এক।