যুদ্ধের সমাপ্তি নয় ‘আঙুল ট্রিগারেই’ যুদ্ধবিরতি নিয়ে মোজতবা খামেনির সতর্ক বার্তা
- আপডেট সময় : ০১:২২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পরিস্থিতি এখনো অস্থিতিশীল রয়ে গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতি কোনোভাবেই যুদ্ধের সমাপ্তি নয়; বরং এটি একটি কৌশলগত বিরতি মাত্র।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি–তে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশে দেশের সব সামরিক ইউনিটকে সাময়িকভাবে গুলি চালানো বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, শত্রুপক্ষের যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে ইরান। “আমাদের আঙুল এখনো ট্রিগারের ওপর আছে”—এই বার্তাটি ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়।
একই সুরে বিবৃতি দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও। তাদের মতে, যুদ্ধবিরতি মানে যুদ্ধ শেষ নয়; বরং এটি একটি সংবেদনশীল পরিস্থিতি, যেখানে সামান্য ভুল পদক্ষেপও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। শত্রুপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনো পদক্ষেপ নিলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ঘোষণা দেন, ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করা হলে তেহরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখা হবে। তবে এটি বাস্তবায়ন করা হবে সামরিক সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় রেখে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির–এর বিশেষ অনুরোধে ইরানের ওপর পূর্বনির্ধারিত বড় ধরনের হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এটি একটি ‘দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি’।
ট্রাম্প আরও শর্ত জুড়ে দেন যে, ইরানকে অবিলম্বে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদভাবে খুলে দিতে হবে। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও উভয় পক্ষের সতর্ক অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে—পরিস্থিতি এখনো নাজুক এবং যেকোনো সময় আবার সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।



















