ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আবুধাবির মার্কিন এআই কেন্দ্র ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায়: উত্তেজনা নতুন মাত্রায় ট্রাম্পকে ২০ ঘণ্টার  আল্টিমেটাম : আত্মসমর্পণ না করলে পাথর যুগে ফেরানোর হুমকি ইরানের আত্মগোপনের ১৭ মাস শেষে গ্রেফতার : আলোচনায় আবার শিরীন শারমিন চৌধুরী সংকটের মধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ হাম রোধে সাড়ে পাঁচ বছর টিকাদান ক্যাম্পেইন হয়নি, মজুত হয় নিটিকাও সংসদে ২০ ঋণখেলাপির তালিকা :  ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ কোটি টাকা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট কী হয়েছিল এবং কেন তা গুরুত্বপূর্ণ জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ ৭-১৩ এপ্রিল: জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি ভারতের সঙ্গে শেখ হাসিনার আমলের সম্পর্কের অধ্যায়ের সমাপ্তি আয়নাঘর’ থেকে ফেরা সংসদে আরমানের আবেগঘন বক্তব্য: যেন জীবন্ত কবরে আছি

আয়নাঘর’ থেকে ফেরা সংসদে আরমানের আবেগঘন বক্তব্য: যেন জীবন্ত কবরে আছি

ভয়েস ডিজিটাল ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৮:২২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান: এমপি

ভয়েস একাত্তর অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৃত্যুর প্রহর গোনা এক অন্ধকার কক্ষ, যেখানে সময় থেমে থাকে, আলো পৌঁছায় না, আর মানুষ বেঁচে থেকেও মৃতের মতো দিন কাটায়।

সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের।

আয়নাঘর একটি নাম, যা এখন নিছক কোনো স্থান নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের এক রক্তাক্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, মনে হতো জীবন্ত কবরে আছি। জানতাম না দিন নাকি রাত। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর অপেক্ষা। ভাবতাম, হয়তো এখানেই শেষ। তার এই বর্ণনায় সংসদ কক্ষ যেন স্তব্ধ হয়ে পড়ে, নীরবতার ভেতরেও শোনা যায় অগণিত নিখোঁজ মানুষের আর্তনাদ।

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষার নামে প্রণীত আইনের বাতিলের সুপারিশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আরমান প্রশ্ন তোলেন, বাংলার মাটিতে আর যেন এমন বর্বরতা না ঘটে, সে জন্য করা আইন কেন দুর্বল করা হচ্ছে?

তার ভাষায়, এটি শুধু একটি আইনি বিতর্ক নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের পরীক্ষা।

এ সময় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান গুমবিরোধী অর্ডিন্যান্স বাস্তবিক অর্থে অপরাধের গুরুত্বকে খাটো করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩-এ গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

অথচ নতুন আইনে সাজা কমিয়ে মাত্র ১০ বছর করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের প্রতি চরম অবিচার এবং অপরাধীদের জন্য এক ধরনের প্রশ্রয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, একই অপরাধে দ্বৈত আইনি কাঠামো বিভ্রান্তি তৈরি করছে। একদিকে কঠোর শাস্তির বিধান, অন্যদিকে লঘু দণ্ড, এভাবে বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

আরমান তার বক্তব্যে আরও আবেগঘন মুহূর্তের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, যেদিন আমাকে সেই অন্ধকার ঘর থেকে বের করা হচ্ছিল, মনে হয়েছিল এটাই শেষ যাত্রা।

আমি সূরা ইয়াসিন পাঠ করছিলাম, মৃত্যুকে সহজ করে নিতে। কিন্তু কিছু সাহসী কিশোরের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ আমাদের আবারও জীবনের আলো দেখার সুযোগ করে দেয়।

তার কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতা, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল হারিয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য বেদনা, আমি ফিরেছি, কিন্তু শত শত মানুষ আর ফেরেনি। তাদের কণ্ঠ আজও এই দেশের বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

অধিবেশনের সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এ সময় স্পষ্ট বার্তা দেন, এই সংসদের দায়িত্ব এমন একটি আইন প্রণয়ন করা, যা ভবিষ্যতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো জঘন্য অপরাধকে সম্পূর্ণভাবে রুখে দিতে সক্ষম হবে।

সংসদের বিভিন্ন সদস্য একমত পোষণ করেন যে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের জন্য একটি শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও নির্দয় আইনি কাঠামো এখন সময়ের দাবি।

আয়নাঘর এটি আর শুধু একটি শব্দ নয়, এটি এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার নাম, যা জাতিকে মনে করিয়ে দেয়, আইনের শাসন দুর্বল হলে অন্ধকারই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এখন প্রশ্ন একটাই এই অন্ধকার ভেদ করে ন্যায়বিচারের আলো কত দ্রুত পৌঁছাবে?

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আয়নাঘর’ থেকে ফেরা সংসদে আরমানের আবেগঘন বক্তব্য: যেন জীবন্ত কবরে আছি

আপডেট সময় : ০৮:২২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

মৃত্যুর প্রহর গোনা এক অন্ধকার কক্ষ, যেখানে সময় থেমে থাকে, আলো পৌঁছায় না, আর মানুষ বেঁচে থেকেও মৃতের মতো দিন কাটায়।

সেই বিভীষিকাময় অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিতে গিয়ে জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের।

আয়নাঘর একটি নাম, যা এখন নিছক কোনো স্থান নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের এক রক্তাক্ত প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, মনে হতো জীবন্ত কবরে আছি। জানতাম না দিন নাকি রাত। প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর অপেক্ষা। ভাবতাম, হয়তো এখানেই শেষ। তার এই বর্ণনায় সংসদ কক্ষ যেন স্তব্ধ হয়ে পড়ে, নীরবতার ভেতরেও শোনা যায় অগণিত নিখোঁজ মানুষের আর্তনাদ।

গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার সুরক্ষার নামে প্রণীত আইনের বাতিলের সুপারিশে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে আরমান প্রশ্ন তোলেন, বাংলার মাটিতে আর যেন এমন বর্বরতা না ঘটে, সে জন্য করা আইন কেন দুর্বল করা হচ্ছে?

তার ভাষায়, এটি শুধু একটি আইনি বিতর্ক নয়, বরং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নে রাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থানের পরীক্ষা।

এ সময় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান গুমবিরোধী অর্ডিন্যান্স বাস্তবিক অর্থে অপরাধের গুরুত্বকে খাটো করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, আইসিটি অ্যাক্ট ১৯৭৩-এ গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।

অথচ নতুন আইনে সাজা কমিয়ে মাত্র ১০ বছর করা হয়েছে, যা ভুক্তভোগীদের প্রতি চরম অবিচার এবং অপরাধীদের জন্য এক ধরনের প্রশ্রয়।

মন্ত্রী আরও বলেন, একই অপরাধে দ্বৈত আইনি কাঠামো বিভ্রান্তি তৈরি করছে। একদিকে কঠোর শাস্তির বিধান, অন্যদিকে লঘু দণ্ড, এভাবে বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে, ন্যায়বিচার ব্যাহত হয়।

আরমান তার বক্তব্যে আরও আবেগঘন মুহূর্তের অবতারণা করেন। তিনি বলেন, যেদিন আমাকে সেই অন্ধকার ঘর থেকে বের করা হচ্ছিল, মনে হয়েছিল এটাই শেষ যাত্রা।

আমি সূরা ইয়াসিন পাঠ করছিলাম, মৃত্যুকে সহজ করে নিতে। কিন্তু কিছু সাহসী কিশোরের ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ আমাদের আবারও জীবনের আলো দেখার সুযোগ করে দেয়।

তার কণ্ঠে ছিল কৃতজ্ঞতা, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ছিল হারিয়ে যাওয়া মানুষদের জন্য বেদনা, আমি ফিরেছি, কিন্তু শত শত মানুষ আর ফেরেনি। তাদের কণ্ঠ আজও এই দেশের বাতাসে ভেসে বেড়ায়।

অধিবেশনের সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এ সময় স্পষ্ট বার্তা দেন, এই সংসদের দায়িত্ব এমন একটি আইন প্রণয়ন করা, যা ভবিষ্যতে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো জঘন্য অপরাধকে সম্পূর্ণভাবে রুখে দিতে সক্ষম হবে।

সংসদের বিভিন্ন সদস্য একমত পোষণ করেন যে, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে সুরক্ষা দেওয়া, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানের জন্য একটি শক্তিশালী, যুগোপযোগী ও নির্দয় আইনি কাঠামো এখন সময়ের দাবি।

আয়নাঘর এটি আর শুধু একটি শব্দ নয়, এটি এক নিষ্ঠুর বাস্তবতার নাম, যা জাতিকে মনে করিয়ে দেয়, আইনের শাসন দুর্বল হলে অন্ধকারই শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এখন প্রশ্ন একটাই এই অন্ধকার ভেদ করে ন্যায়বিচারের আলো কত দ্রুত পৌঁছাবে?